বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে ব্যক্তিকেন্দ্রিক ‘ভাই পলিটিকস’ থেকে মুক্ত করে জ্ঞান, গবেষণা ও সুশিক্ষার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, অতীতে ‘ভাই রাজনীতি’র কারণে দেশের উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, অসংখ্য শিক্ষার্থীর ক্যারিয়ার নষ্ট হয়েছে। এখন থেকে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে জ্ঞানের চর্চাই হবে মূল বিষয়, ব্যক্তির প্রভাব নয়।
শনিবার সকালে কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের নবীনবরণ অনুষ্ঠানে তিনি প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ মন্তব্য করেন। ৪২ বছর পর রাবি ক্যাম্পাসে এমন বড় আয়োজন হওয়ায় তিনি নবীনদের পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, “অতীতে শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষকদের নোংরা রাজনীতি, সংঘাত ও বিভাজনের কারণে অনেক ভাই শহীদ হয়েছেন। এখন সেই বাস্তবতা বদলাতে হবে।”
জাহিদুল ইসলাম অভিযোগ করেন, একটি শ্রেণি দীর্ঘদিন ধরে ‘জুলাই’ ইস্যুকে কেন্দ্র করে বিভাজন সৃষ্টি করছে। “আগে মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে ব্যবসা করত, এখন জুলাই নিয়ে ব্যবসা করছে। জুলাই কারো ব্যক্তিগত নয়, এটি সকলের,”—বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, খুনি হাসিনা ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও সংগঠনটি মানুষের হৃদয় থেকে মুছে যায়নি। তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদী আমলে রাবি ক্যাম্পাসে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন চালানো হতো। ইসলাম চর্চা করলে ট্যাগিং করা হতো। এখন সেই অন্ধকার সময় বদলে গেছে।”
রাবি শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি ও রাকসুর ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ ১৯৮২ সালের নবীনবরণে নিহত চার কর্মীর স্মৃতিচারণ করে আবেগাপ্লুত হন। তিনি বলেন, “যে ক্যাম্পাসে আমাদের ভাইদের রক্ত ঝরেছে, আজ সেই ক্যাম্পাসেই নবীনবরণ আয়োজন আমাদের জন্য ঐতিহাসিক।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ–উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মাঈন উদ্দীন বলেন, অতীতে হলে ওঠার জন্য শিক্ষার্থীদের ৮–১০ হাজার টাকা দিতে হতো, সিট বাণিজ্য বন্ধে প্রশাসন কঠোর ভূমিকা নিয়েছে।
তিনি মাদক ও অপরাধ থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “এই ক্যাম্পাস একসময় মাদকের আখড়া ছিল; এখন তা পরিবর্তন হয়েছে।”
অনুষ্ঠানে নবীনদের উপহার, ক্যারিয়ার গাইডলাইন ও ব্যক্তিগত উন্নয়নবিষয়ক পরামর্শ প্রদান করা হয়। প্রায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।