মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

জনপ্রশাসনে মোখলেসের নিয়োগে প্রাণ ফিরে পান হাসিনার আর্শিবাদপুষ্ট কর্মকর্তারা

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার পতনের পর প্রশাসনে দেখা দেয় অস্থিরতা। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা কিছুদিন নীরব থাকলেও, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট জনপ্রশাসন সচিব হিসেবে মোখলেস উর রহমান নিয়োগ পাওয়ার পর প্রশাসনে পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী—পরবর্তীতে পরিচিতি পায় ‘মোখলেস সিন্ডিকেট’ নামে। এই সিন্ডিকেট সচিবালয় ও […]

জনপ্রশাসনে মোখলেসের নিয়োগে প্রাণ ফিরে পান হাসিনার আর্শিবাদপুষ্ট কর্মকর্তারা

ছবি : সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৭ অক্টোবর ২০২৫, ১৩:২২

ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনার পতনের পর প্রশাসনে দেখা দেয় অস্থিরতা। ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী সরকারের ঘনিষ্ঠ কর্মকর্তারা কিছুদিন নীরব থাকলেও, ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট জনপ্রশাসন সচিব হিসেবে মোখলেস উর রহমান নিয়োগ পাওয়ার পর প্রশাসনে পুনরায় সক্রিয় হয়ে ওঠেন আওয়ামীপন্থি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। তার নেতৃত্বে গড়ে ওঠে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী—পরবর্তীতে পরিচিতি পায় ‘মোখলেস সিন্ডিকেট’ নামে।

এই সিন্ডিকেট সচিবালয় ও মাঠ প্রশাসনের নিয়োগ, বদলি, পদোন্নতি এবং বিশেষ দায়িত্ব বণ্টনে ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করে। অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক আনুগত্যের পাশাপাশি বৃহৎ আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমেও শত শত কর্মকর্তা গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানো হয়। ফলে প্রশাসনের ভেতরে আওয়ামী পুনর্বাসনের সুযোগ সৃষ্টি হয়।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মোখলেস উর রহমান দায়িত্ব নেওয়ার পর এক বছরের মধ্যে সচিব ও সিনিয়র সচিব পদে ৭২টি পোস্টিং অর্ডার দেন, যার মধ্যে ২৫টি নিয়েই বিতর্ক তৈরি হয়। অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম সচিব ও উপসচিব পর্যায়ের শত শত নিয়োগে অর্থ লেনদেন ও দলীয় প্রভাবের অভিযোগ ওঠে। অনেক কর্মকর্তা দাবি করেছেন, যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক পরিচয় না থাকায় তারা পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

সবচেয়ে আলোচিত ঘটনাটি ছিল জেলা প্রশাসক নিয়োগে ঘুষ কেলেঙ্কারি। অভিযোগ ওঠে, একজন ডিসি পদে বসতে ৫ থেকে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঘুষ দিতে হয়েছে। তদন্তে তিন উপদেষ্টার নেতৃত্বে কমিটি গঠন করা হলেও এখনো ফলাফল প্রকাশ হয়নি। ওই ঘটনায় জনপ্রশাসনের এক যুগ্ম সচিবের কক্ষ থেকে কোটি টাকার চেকও উদ্ধার করা হয়।

মোখলেস সিন্ডিকেটে জড়িতদের মধ্যে ছিলেন যুগ্ম সচিব জিয়াউদ্দিন আহমেদ ও কে এম আলী আজম, যারা প্রশাসনের নিয়োগ ও বদলিতে প্রভাব বিস্তার করতেন। নিরাপত্তা সংস্থার সূত্রে জানা গেছে, এ সিন্ডিকেটের সদস্যদের তথ্য সংগ্রহ চলছে, এবং যারা অর্থের বিনিময়ে পদ পেয়েছেন তাদের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু হয়েছে।

বিএনপির চেয়ারপারসনের সাবেক সচিব এবিএম আব্দুস সাত্তার বলেন, “মোখলেস সিন্ডিকেটের সময় প্রশাসন কার্যত বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত ছিল। অনিয়ম ও দলীয়করণের অভিযোগ ব্যাপক ছিল। সরকারকে এসব অনিয়ম তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।”

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫০৫

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৩

রাজনীতি

‘আওয়ামী লীগ আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে’: সাবেক পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে। সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন […]

নিউজ ডেস্ক

২৫ মে ২০২৬, ২০:১২

আওয়ামী লীগ রাজনীতি থেকে আউট হয়ে গেছে বা যাচ্ছে এরকম থাকবে না বলে মন্তব্য করে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেছেন, আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

সম্প্রতি দেশের একটি বেসরকারি টেলিভিশনে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় হওয়া অত্যাচার-নিপীড়ন মানুষ ভুলে যাবে এমন ইঙ্গিত করে মোহাম্মদ তৌহিদ হোসেন বলেন, আমাদের মানুষজনের স্মৃতি শক্তি এতো দীর্ঘ না। আমার অনুমান তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের আগামী নির্বাচনে অংশ নেবে।

টেলিভিশনে দেয়া ওই সাক্ষাৎকারে সাবেক উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন দাবি করেন, সাত সদস্যের “কিচেন কেবিনেট” অন্তর্বর্তী সরকারের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতো। তিনি জানান, প্রতি মঙ্গলবার নিয়মিত বৈঠক করতেন তারা। নিজ মন্ত্রণালয়ে একাধিক উপদেষ্টার প্রভাব ছিল জানিয়ে তিনবার পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন।

তবে, তা গৃহীত হয়নি বলে জানান তিনি। যুক্তরাষ্ট্র্রের সাথে বহুল আলোচিত বাণিজ্য চুক্তি নিয়েও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিছু জানতো না- দাবি করেন তৌহিদ হোসেন। উল্লেখ্য, ২০২৫ সালের ১১ মে থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৩

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৩