বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “বাংলাদেশের মানুষ দেড় যুগ ধরে যে রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম চালিয়ে এসেছে, তা কয়েকজন ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা তুলে দেওয়ার জন্য নয়। মানুষ তাদের ভোটাধিকার ও রাজনৈতিক ক্ষমতা ফেরত পেতে রাস্তায় নেমেছে, জীবন দিয়েছে।”
বুধবার বিকেলে সাভারের আশুলিয়ায় বিএনপি আয়োজিত ‘নারকীয় জুলাই’ শীর্ষক জনসভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন তিনি। এই জনসভাটি ছিল জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান, শোক ও বিজয়ের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে শহীদ ছাত্র-শ্রমিক-জনতার পরিবারের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি আয়োজন।
তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেন, “জুলাইয়ে যারা শহীদ হয়েছেন, তারা ব্যক্তিপরিচয় নয়, রাষ্ট্রীয় অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য প্রাণ দিয়েছেন। তারা চাননি যেন সেই আন্দোলনের ফসল শেষ পর্যন্ত কিছু সুবিধাবাদীর দখলে চলে যায়।”
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সরকারে যারা থাকবে, তাদের মনে রাখতে হবে—রাষ্ট্র চালাতে হলে জনগণের কণ্ঠ শুনতেই হবে। জনগণের মতের বাইরে গিয়ে কেউ আর রাষ্ট্র পরিচালনা করতে পারবে না।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা মনে করি, একজন নাগরিকের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক অস্ত্র হচ্ছে তার ভোট। সেই ভোটের মাধ্যমে সে যেন নিজের প্রতিনিধি নিজে বেছে নিতে পারে—এই মৌলিক অধিকারের প্রশ্নেই বিএনপি বারবার অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি তুলেছে।”
তারেক রহমান বলেন, “যে রাষ্ট্রে মানুষ তার পছন্দের জনপ্রতিনিধিকে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করতে পারে, সেই রাষ্ট্রে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আসে, অর্থনৈতিক উন্নয়ন টেকসই হয়। আর যদি সেই ভোটাধিকার হরণ হয়, তাহলে তা ফ্যাসিবাদ ও স্বৈরতন্ত্রের জন্ম দেয়।”
তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “রাষ্ট্রের মালিকানা যদি জনগণের না হয়, তাহলে সেই রাষ্ট্র জনগণের হয়ে কাজ করে না। তখন কিছু গোষ্ঠীর হাতে জিম্মি হয়ে পড়ে রাষ্ট্রযন্ত্র। আর এটাই আমরা বিগত দেড় দশকে দেখেছি।”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “যদি জনগণকে শক্তিশালী করা যায়—রাজনীতি, সরকার এবং সংস্কার—সবকিছুতেই গুণগত পরিবর্তন আসবে। জনগণের ক্ষমতা নিশ্চিত করলেই কোনো বিদেশি শক্তি বা স্বৈরাচার আর এ দেশে ‘তাঁবেদার শাসন’ কায়েম করতে পারবে না।”
তারেক রহমান তাঁর বক্তব্যের শেষ দিকে বলেন, “এখন সময় এসেছে আন্দোলনের বিজয়কে নিশ্চিত করে সেই জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠার। কেউ যেন আর সাহস না করে জনগণের ঘাড়ে চেপে বসতে। সেই ইতিহাস আমরা জুলাইয়ের রক্তে লিখে দিয়েছি।”
এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন—জুলাইয়ের গণজাগরণ কেবল সরকারের পতনের জন্য ছিল না, বরং সেটা ছিল একটি নতুন ধরনের গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য, যেখানে ক্ষমতার উৎস হবে জনগণ, এবং কোনো গোষ্ঠী বা সুবিধাবাদী রাজনৈতিক শক্তি সেই ক্ষমতা দখল করতে পারবে না।