১৫ আগস্টের ঘটনাকে সামরিক কর্মকর্তাদের প্রতি অবমূল্যায়ন ও অপমানের প্রতিশোধ হিসেবে অভিহিত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তার দাবি, ওই ঘটনায় সাধারণ মানুষের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না।
অন্যদিকে ৭ নভেম্বরের ঘটনাকে সিপাহিদের নেতৃত্বে সংঘটিত বিপ্লব হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এতে সাধারণ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে সংহতি জানিয়েছিল।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর আল-ফালাহ মিলনায়তনে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তর আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৯৭২ সালের পর দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা, দমন-পীড়ন ও বিচারহীনতার সংস্কৃতি তৈরি হয়েছিল। তৎকালীন সরকার রক্ষীবাহিনীকে ব্যাপক ক্ষমতা দিয়ে বিরোধী মত দমনের পাশাপাশি একদলীয় বাকশাল ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করেছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সেনাবাহিনীর সদস্যদের প্রতি অবমূল্যায়ন ও বিভিন্ন অপমানজনক ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে জামায়াত আমির বলেন, এসব পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় ১৫ আগস্টের পটপরিবর্তন ঘটে। পরবর্তী সময়ে ৩ নভেম্বর ব্রিগেডিয়ার খালেদ মোশাররফের পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক ও সামরিক অস্থিরতা আরও বাড়ে।
তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর সিপাহিরা সংগঠিত হয়ে বন্দিদশা থেকে জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করেন। এ সময় সাধারণ মানুষ রাজপথে নেমে তাকবির ধ্বনিতে তাদের স্বাগত জানায়। এ ঘটনাই পরবর্তী সময়ে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে পরিচিতি লাভ করে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন। এতে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।