জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতা সারজিস আলমকে কটাক্ষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন। পোস্টে তিনি সারজিসের অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা, কোটা সংস্কার আন্দোলন এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে একাধিক অভিযোগ তোলেন।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে নিজের ফেসবুক পোস্টে রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘ছাত্রলীগের একটা কর্মী পদের জন্য যে সারজিস আলম প্রতিদিন সাদ্দাম-ইনানের পা চাটত, সেও আজকে আমাদের নিয়ে বড় বড় কথা বলে! শেখ মুজিবুর রহমানকে বাপ ডেকেও যার একটা পদ হয়নি, সেই পা-চাটা সারজিস আলম কোন লজ্জায় আমাদের নিয়ে কটাক্ষ করে?’
পোস্টে ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন ও পরবর্তী সরকারবিরোধী আন্দোলনে সারজিস আলমের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন।
তিনি অভিযোগ করেন, গণ-অভ্যুত্থানের সময় সারজিস আলমের শারীরিক অবস্থা ও পোশাকের কোনো পরিবর্তন হয়নি এবং ডিবি কার্যালয়ে অবস্থানের মধ্য দিয়ে তিনি ঘটনাক্রমে নেতা হয়ে উঠেছেন। একই সঙ্গে ২০১৮ সালের আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের সঙ্গে আপস করার অভিযোগ তুলে আন্দোলনকারীদের সমালোচনা করার বিষয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
রাশেদ খাঁন লেখেন, ‘আচ্ছা ধরেই নিলাম, আমরা আপস করেছিলাম। কিন্তু ২০১৮ সালের পরে আমরা যেসময় শেখ হাসিনাবিরোধী লড়াইয়ে নেমেছি, ক্যাম্পাসে অসংখ্যবার মাইর খেয়েছি, তখন এই সারজিস আলম শেখ মুজিবুর রহমানকে বাপ ডাকতে ডাকতে ফেনা তুলে ফেলেছে!’
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান চলাকালে সারজিস আলমের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগ তোলেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী। তাঁর দাবি, আন্দোলনে শহীদদের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত পরিস্থিতির মধ্যেও সারজিস আলম আওয়ামী লীগের মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
এ ছাড়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদকে তুলে নেওয়া এবং ডিবি হেফাজতে রাখার সময় সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহর চলাফেরা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রাশেদ খাঁন।
ফেসবুক পোস্টে এসব অভিযোগ তুলে সারজিস আলমের রাজনৈতিক অবস্থান ও অতীত ভূমিকার সমালোচনা করেন তিনি। তবে পোস্টে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে সারজিস আলমের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।