এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেছেন, জুলাই আন্দোলনের রাজনৈতিক গুরুত্বের পাশাপাশি এর সাংস্কৃতিক তাৎপর্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে সাংস্কৃতিকভাবে জাগ্রত হয়ে তথাকথিত ‘সাংস্কৃতিক ফ্যাসিবাদ’ মোকাবিলায় ভূমিকা রাখতে হবে।
শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় জাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর আয়োজিত চার দিনব্যাপী ‘জুলাই জাগরণ সিজন-২’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
‘শিশুদের চোখে জুলাই’ প্রতিপাদ্যের এ অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত আনাসের মা। উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি আন্দোলনে নিহতদের স্মরণ করে বলেন, বৈষম্যহীন বাংলাদেশের যে স্বপ্ন নিয়ে তারা জীবন দিয়েছেন, সেই আদর্শ বাস্তবায়নে তরুণদের কাজ করতে হবে।
সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, সংগঠনটি সুস্থ ও মূল্যবোধভিত্তিক সংস্কৃতিচর্চার পক্ষে কাজ করে আসছে। তাঁর আশা, শিশু-কিশোর ও তরুণদের অংশগ্রহণে ইতিবাচক সাংস্কৃতিক ধারা আরও শক্তিশালী হবে।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, সংসদ, রাজপথ ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন—সব ক্ষেত্রেই ফ্যাসিবাদের অবশিষ্ট প্রভাব দূর করতে হবে। একই সঙ্গে গণমানুষের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সংস্কৃতিচর্চা বিস্তারে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর ভাইস চেয়ারম্যান সিবাগাতুল্লাহ সিবগা বলেন, জুলাই আন্দোলনে নিহত শিশুদের আত্মত্যাগ নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা প্রয়োজন, যাতে তারা দেশ গঠনে উদ্বুদ্ধ হয়।
গীতিকার, সুরকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব তাফাজ্জল হোসাইন খান বলেন, দেশে সুস্থ সাংস্কৃতিক পরিবেশ গড়ে তুলতে দেশীয় মূল্যবোধভিত্তিক সংস্কৃতির চর্চা জোরদার করা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক চেয়ারম্যান মোবারক ইসলাম, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম, জিএস এস এম ফরহাদ, সংগঠনের সাবেক পরিচালক শরীফ বায়জিদ মাহমুদ ও আবদুল্লাহ আল নোমান, ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আবদুল্লাহ আল জাবের এবং সদস্যসচিব ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ বিভিন্ন অঙ্গনের ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা পর্ব শেষে সাইমুম শিল্পীগোষ্ঠীর শিশু শিল্পীদের পরিবেশনায় দলীয় ও একক সংগীত, কবিতা আবৃত্তি এবং ‘জুলাই জাগরণ’ বিষয়ক বিশেষ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠিত হয়।