ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির দিকে আবারও ‘দখলকারী চক্রের’ নজর পড়েছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
মঙ্গলবার (৯ জুন) জাতীয় সংসদের ত্রয়োদশ অধিবেশনের বাজেট অধিবেশনের তৃতীয় দিনে কার্যপ্রণালী বিধির ৬৮ বিধিতে দেওয়া এক নোটিশ উত্থাপন করার সময় তিনি এ অভিযোগ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ইসলামী ব্যাংক দেশের বৃহত্তম বেসরকারি ব্যাংক এবং দেশের মোট রেমিট্যান্সের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ এই ব্যাংকের মাধ্যমে আসে। তিনি দাবি করেন, রাজনৈতিক হয়রানি ও অপপ্রচারের মধ্যেও ২০১৬ সালে ব্যাংকটি ৪৪৭ কোটির বেশি মুনাফা অর্জন করেছিল এবং সে সময় খেলাপি বিনিয়োগের হার ছিল মাত্র ৪ শতাংশ।
তিনি আরও বলেন, পরবর্তীতে তৎকালীন সরকার বিভিন্ন উপায়ে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেয় এবং ব্যাংক লুটপাট করে, যার ফলে ব্যাংক ও দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর প্রভাবে ২০২৪ সালে ব্যাংকের মুনাফা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায় এবং শেয়ারহোল্ডারদের কোনও লভ্যাংশ দেওয়া সম্ভব হয়নি। একই সময়ে খেলাপি বিনিয়োগের হারও বেড়ে প্রায় ৫১ শতাংশে পৌঁছায় বলে তিনি দাবি করেন।
বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ব্যাংকটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল এবং গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধারের পথে এগোচ্ছিল। এক বছরের ব্যবধানে ব্যাংকের মুনাফা ১০৮ কোটি টাকা থেকে বেড়ে ১৩৭ কোটি টাকায় উন্নীত হয়। কিন্তু এমন সময়ে আবারও একটি চক্র ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তবে বক্তব্যের একপর্যায়ে স্পিকার তাকে থামিয়ে দেন এবং পরে বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত বলার সুযোগ থাকবে বলে জানান। ফলে তিনি তার পুরো নোটিশটি সংসদে উপস্থাপন করতে পারেননি।
নোটিশের লিখিত অংশে ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, নতুন করে পরিচালনা পর্ষদে বিতর্কিত ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে এবং ব্যবস্থাপনায় অযৌক্তিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে ব্যবস্থাপনা পরিচালককে (এমডি) পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, অতীতে ‘জামায়াতপন্থী ব্যবস্থাপনা’ অভিযোগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে যেভাবে ব্যাংকটির নিয়ন্ত্রণ নেওয়া হয়েছিল, বর্তমানে একই ধরনের কৌশল পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে গ্রাহকদের মধ্যে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
নোটিশে বলা হয়, একদিনেই গ্রাহকেরা প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা আমানত তুলে নিয়েছেন, যা ব্যাংকটির প্রতি আস্থাহীনতার প্রতিফলন।
দেশের ব্যাংকিং খাতের স্থিতিশীলতা, অর্থনীতি এবং কোটি কোটি গ্রাহকের স্বার্থ রক্ষায় ইসলামী ব্যাংকের শেয়ার প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া এবং ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনায় সব ধরনের অন্যায় ও অনভিপ্রেত হস্তক্ষেপ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান বিরোধীদলীয় নেতা।