বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

অন্যান্য

১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশে হাসপাতাল বানাচ্ছে তুরস্ক

“দেশে আইভিএফ চিকিৎসা সেবা ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে, কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে রোগীরা এখনো ভারত, সিঙ্গাপুর বা তুরস্কে যাচ্ছেন। আমরা চাই এই চিকিৎসা দেশেই সাশ্রয়ী ও বিশ্বমানেরভাবে পৌঁছে দিতে।”

নিউজ ডেস্ক

০৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২৩

বাংলাদেশে বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা এখনো একটি অবহেলিত স্বাস্থ্যখাত। দেশে সরকারিভাবে কোনো বিশেষায়িত বন্ধ্যত্ব হাসপাতাল না থাকায় প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক দম্পতি চিকিৎসার জন্য দেশ ছাড়ছেন। তবে এবার এ খাতে বড় বিনিয়োগ আনতে যাচ্ছে তুরস্কের ওকান ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে অত্যাধুনিক ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) হাসপাতাল নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সূত্র জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শাখা থাকা এই তুর্কি বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালটি বাংলাদেশে তাদের প্রথম আইভিএফ বিশেষায়িত ইউনিট স্থাপন করতে চায়। প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে তুরস্ক সরকারের অনুমোদিত মেডিকেল ট্যুরিজম কোম্পানি টার্কিশডক। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের শেষ নাগাদ হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হবে, যার আনুমানিক ব্যয় ১০০ কোটি টাকা।

টার্কিশডকের কান্ট্রি হেড এম নুরুজ্জামান রাজু জানান, শুরুতে তুরস্কের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বাংলাদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে কাজ করবেন এবং হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেবেন। দুই বছর পর হাসপাতালটি পুরোপুরি স্থানীয় চিকিৎসকদের দ্বারা পরিচালিত হবে। তিনি বলেন,

“দেশে আইভিএফ চিকিৎসা সেবা ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে, কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে রোগীরা এখনো ভারত, সিঙ্গাপুর বা তুরস্কে যাচ্ছেন। আমরা চাই এই চিকিৎসা দেশেই সাশ্রয়ী ও বিশ্বমানেরভাবে পৌঁছে দিতে।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে প্রায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ দম্পতি বন্ধ্যত্ব সমস্যায় ভুগছেন। বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই হার ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের মোট বন্ধ্যত্বে ভোগা দম্পতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান।

তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি রোগী বিভিন্ন কারণে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান, যার একটি বড় অংশই বন্ধ্যত্ব নিরাময়ের জন্য। ভারতে এই চিকিৎসার খরচ ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা, আর তুরস্কে একই চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায় প্রায় অর্ধেক খরচে—৮ থেকে ১০ লাখ টাকায়, যেখানে থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতও অন্তর্ভুক্ত।

টার্কিশডকের প্রধান নির্বাহী ফাইক গকসু বলেন, “তুরস্ক বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী দেশ। আমাদের লক্ষ্য, তুরস্কের আধুনিক প্রযুক্তি, নৈতিক চিকিৎসা পদ্ধতি ও প্রশিক্ষণ বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। বাংলাদেশে আইভিএফ চিকিৎসা শুধু একটি ক্লিনিক নয়, বরং এটি হবে একটি যৌথ রেফারেন্স সেন্টার, যেখানে তুর্কি ও বাংলাদেশি চিকিৎসকরা একসঙ্গে কাজ করবেন।”

তিনি জানান, হাসপাতালের প্রথম ধাপে থাকবে আইভিএফ, জেনেটিক স্ক্রিনিং এবং নারীদের প্রজননস্বাস্থ্য বিভাগ। পরবর্তী ধাপে লিভার, কিডনি ও বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেবা চালু করা হবে। তুরস্কে তাদের আইভিএফ চিকিৎসায় সফলতার হার ৭০ শতাংশের বেশি, এবং চিকিৎসায় শুধু দম্পতির নিজস্ব জেনেটিক উপাদান ব্যবহৃত হয়, যা ইসলামি চিকিৎসা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ফাইক গকসু আরও বলেন, “বাংলাদেশে বড় সমস্যা অবকাঠামো নয়, বরং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি এবং বিশেষজ্ঞ জনবলের অভাব। আমরা তুর্কি প্রযুক্তির মাধ্যমে রিমোট ডায়াগনোসিস, যৌথ সার্জারি ও চিকিৎসক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করব। বিশেষ করে তুরস্কের ‘জিরো ইনফেকশন সার্জিক্যাল মডেল’ বাংলাদেশে প্রয়োগ করা হবে, যাতে রোগীরা নিরাপদ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা পান।”

বাংলাদেশে এ হাসপাতাল চালু হলে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা রক্ষা সম্ভব হবে, একইসঙ্গে দেশের চিকিৎসকরা আন্তর্জাতিকমানের প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

অন্যান্য

বাজেট ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনা থেকে সরে দাঁড়াল বিরোধী দল

জাতীয় সংসদে বাজেটের দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিরোধী দল। মঙ্গলবার (৩০ জুন) সংসদের বাজেট অধিবেশনের বিকাল সেশনে ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনার সময় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এ ঘোষণা দেন। তিনি স্পিকারের অনুমতি নিয়ে দাঁড়িয়ে জানান, বিরোধী দলের দেওয়া ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় এবং […]

বাজেট ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনা থেকে সরে দাঁড়াল বিরোধী দল

ছবি সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট

৩০ জুন ২০২৬, ২০:৫২

জাতীয় সংসদে বাজেটের দাবির ওপর ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা প্রত্যাহার করে নিয়েছে বিরোধী দল।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সংসদের বাজেট অধিবেশনের বিকাল সেশনে ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনার সময় বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এ ঘোষণা দেন।

তিনি স্পিকারের অনুমতি নিয়ে দাঁড়িয়ে জানান, বিরোধী দলের দেওয়া ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো গৃহীত হওয়ার সম্ভাবনা না থাকায় এবং সংসদের মূল্যবান সময় বাঁচাতে সেগুলো প্যাকেজ আকারে প্রত্যাহার করা হচ্ছে।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা বিরোধী দলের পক্ষ থেকে প্রস্তাবগুলো দিয়েছি, কিন্তু কোনোটি গৃহীত হতে দেখিনি। সময়ের সদ্ব্যবহার ও রেওয়াজের প্রতি সম্মান রেখে আমরা সব ছাঁটাই প্রস্তাব প্রত্যাহার করছি।”

এরপর স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম জানান, ট্রেজারি বেঞ্চ বিষয়টি গ্রহণ করেছে। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর দাবির পর ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো সরাসরি ভোটে উপস্থাপন করা হবে।

পরে স্পিকার দাবি নম্বর ৩৪ উত্থাপনের জন্য যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীকে আহ্বান জানান।

অন্যান্য

গোলাম পরওয়ার মাসির বাড়িতে এসে পিসির নামে মিথ্যা কথা বলে গেলেন

ভোলা-১ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের প্রতিবাদে ভোলায় বিক্ষোভ করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। বক্তারা বলেন, গোলাম পরওয়ার পার্থর নামে উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যাচার করেছেন। সোমবার (১৫ জুন) রাতে ভোলা শহরের নতুন জেলা বিজেপির কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ প্রতিবাদ সমাবেশ […]

গোলাম পরওয়ার মাসির বাড়িতে এসে পিসির নামে মিথ্যা কথা বলে গেলেন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৬ জুন ২০২৬, ১০:৫২

ভোলা-১ সদর আসনের সংসদ সদস্য ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থকে নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের প্রতিবাদে ভোলায় বিক্ষোভ করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। বক্তারা বলেন, গোলাম পরওয়ার পার্থর নামে উদ্দেশ্য প্রণোদিত মিথ্যাচার করেছেন।

সোমবার (১৫ জুন) রাতে ভোলা শহরের নতুন জেলা বিজেপির কার্যালয়ের সামনে ঘণ্টাব্যাপী এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 

জানা গেছে, শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে ভোলা জেলা জামায়াতের কার্যালয়ে আয়োজিত এক কর্মশালায় উপস্থিত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন গোলাম পরওয়ার। ভোলা সদর আসনের এমপি পার্থকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ভোলার মানুষের কাছে আসেন না, উলটো মানুষকে কষ্ট করে ঢাকায় যেতে হয় তার কাছে। নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি সংসদে ভোলার সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে জোরালো দাবি জানান না, অথচ সরকারকে খুশি করতে সুযোগ পেলেই জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে কথা বলেন।

এদিকে প্রতিবাদ সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে গোলাম পরওয়ারের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে জেলা বিজেপির সভাপতি আমিনুল ইসলাম রতন বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল গোলাম পরওয়ার মাসির বাড়িতে এসে পিসির নামে একটি মিথ্যা কথা বলে গেলেন। এতো বড় মিথ্যা কথা ভোলার মানুষ আর শোনেনি বলে আমার মনে হয়। বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই বরিশালের জনসভায় ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ ভোলা-বরিশাল সেতুর কথা বলেছেন। তিনি জাতীয় সংসদে ভোলা-বরিশাল সেতু, মেডিকেল কলেজ, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনসহ ভোলার নানা সমস্যার কথা সংসদে তুলে ধরেছেন। যে কোনো উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য তো সময়ের প্রয়োজন।

তিনি বলেন, আমি জানতে চাই, গোলাম পরওয়ার কিভাবে দায়িত্বশীল জায়গা থেকে এমন অসত্য কথা প্রচার করেছেন। অথচ তার নিজের এলাকাতেই নিজের ঠাঁই নেই। নির্বাচন হয়েছে সবেমাত্র কয়েকমাস হল, অথচ গোলাম পরওয়ার আলাদিনের চেরাগের মতো সব দেখতে চান। বাংলাদেশের মানুষ যদি তাদের সব কথা বিশ্বাস করতো, তাহলে তারা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকতো। আমি মনে করি, জামায়াতের ভাওতাবাজির কথা এদেশের মানুষ কোনোদিন গ্রহণ করে নাই। ভোলার উন্নয়নের জন্য পার্থর বিকল্প আর কেউ নেই।  এছাড়া গোলাম পরওয়ারের বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান ও জানান তিনি।

সমাবেশে জেলা বিজেপির সাধারণ সম্পাদক মোত্তাছিন বিল্লাহ, সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক মো. নুরনবী। ভোলা সদর উপজেলার বিজেপির সভাপতি আব্দুল জলিল ও সাধারণ সম্পাদক মো.বুলবুল প্রমুখ বক্তব্য দেন। এছাড়া বিজেপি ও তাদের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন।

অন্যান্য

যোগ সমগ্র বিশ্বের ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক: নরেন্দ্র মোদি

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, যোগ কেবল ব্যক্তিগত সুস্থতার মাধ্যম নয়, বরং এটি সমগ্র বিশ্বের ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক। রোববার (২১ জুন) সকালে কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগচর্চায় অংশ নেন। সমবেত জনতার উদ্দেশে মোদি […]

যোগ সমগ্র বিশ্বের ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক: নরেন্দ্র মোদি

ছবি সংগৃহীত

ডেস্ক রিপোর্ট

২১ জুন ২০২৬, ১১:২৯

আন্তর্জাতিক যোগ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, যোগ কেবল ব্যক্তিগত সুস্থতার মাধ্যম নয়, বরং এটি সমগ্র বিশ্বের ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শক।

রোববার (২১ জুন) সকালে কলকাতায় আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানে হাজার হাজার মানুষ খোলা আকাশের নিচে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে যোগচর্চায় অংশ নেন।

সমবেত জনতার উদ্দেশে মোদি বলেন, “যোগ শুধু একজন ব্যক্তির সুস্থ জীবন নিশ্চিত করে না, এটি মানবজাতির জন্য একটি ইতিবাচক ও শান্তিময় ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনাও প্রদান করে।”

২১ জুনকে বছরের দীর্ঘতম দিন হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “যোগ আজ সারা বিশ্বকে ভারতের সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এটি মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সম্প্রীতি ও যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।”

পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে যোগ দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পেরে সন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বাংলার মহান মনীষীদের অবদানের কথাও স্মরণ করেন।

এবারের আন্তর্জাতিক যোগ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘সুস্থ বার্ধক্যের জন্য যোগ’। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের কর্মক্ষমতা ও সম্ভাবনা যাতে কমে না যায়, সে লক্ষ্য অর্জনে যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, “আমাদের এমন জীবনধারা গড়ে তোলা উচিত, যাতে ৫০ বছর বয়সেও ৩০ বছরের মানুষের মতো কর্মক্ষম থাকা সম্ভব হয়।”

নিয়মিত যোগচর্চার বিভিন্ন উপকারিতার কথা তুলে ধরে মোদি বলেন, এটি শরীরকে নমনীয় রাখে, ক্লান্তি দূর করে, মানসিক চাপ কমায় এবং জীবনযাপনজনিত নানা রোগ প্রতিরোধে সহায়তা করে। একই সঙ্গে এটি মানুষের মধ্যে ইতিবাচক শক্তি ও মানসিক স্থিতি গড়ে তোলে।

তিনি আরও বলেন, সুস্থ বার্ধক্যের ধারণা কেবল প্রবীণদের জন্য নয়; সব বয়সী মানুষের জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য। সুষম খাদ্যাভ্যাস, পরিমিত জীবনযাপন এবং নিয়মিত ঘুম ও জাগরণের অভ্যাসের সঙ্গে যোগচর্চা যুক্ত হলে তা একটি স্বাস্থ্যকর জীবন নিশ্চিত করতে পারে।

মোদি বলেন, “যোগ কেবল শারীরিক ব্যায়াম নয়; এটি আত্মনিয়ন্ত্রণ, মানসিক স্থিরতা এবং সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের পথ দেখায়। বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।”

যোগ দিবসকে শুধু একটি বার্ষিক আয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে একে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি ‘যোগ ৩৬৫’ কর্মসূচির কথা উল্লেখ করেন। এ উপলক্ষে একটি ১০০ দিনের অনলাইন যোগ কর্মসূচি শুরু হয়েছে, যেখানে বিশ্বের ১৩০টি দেশের অংশগ্রহণকারী যুক্ত হয়েছেন বলে তিনি জানান।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের উদ্যোগ বিশ্বব্যাপী সুস্বাস্থ্য, সম্প্রীতি ও শান্তির সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।