শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

অন্যান্য

১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে বাংলাদেশে হাসপাতাল বানাচ্ছে তুরস্ক

“দেশে আইভিএফ চিকিৎসা সেবা ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে, কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে রোগীরা এখনো ভারত, সিঙ্গাপুর বা তুরস্কে যাচ্ছেন। আমরা চাই এই চিকিৎসা দেশেই সাশ্রয়ী ও বিশ্বমানেরভাবে পৌঁছে দিতে।”

নিউজ ডেস্ক

০৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৭:২৩

বাংলাদেশে বন্ধ্যত্বের চিকিৎসা এখনো একটি অবহেলিত স্বাস্থ্যখাত। দেশে সরকারিভাবে কোনো বিশেষায়িত বন্ধ্যত্ব হাসপাতাল না থাকায় প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক দম্পতি চিকিৎসার জন্য দেশ ছাড়ছেন। তবে এবার এ খাতে বড় বিনিয়োগ আনতে যাচ্ছে তুরস্কের ওকান ইউনিভার্সিটি হাসপাতাল। প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে অত্যাধুনিক ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) হাসপাতাল নির্মাণে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সূত্র জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শাখা থাকা এই তুর্কি বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালটি বাংলাদেশে তাদের প্রথম আইভিএফ বিশেষায়িত ইউনিট স্থাপন করতে চায়। প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে তুরস্ক সরকারের অনুমোদিত মেডিকেল ট্যুরিজম কোম্পানি টার্কিশডক। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী বছরের শেষ নাগাদ হাসপাতালটির নির্মাণকাজ শুরু হবে, যার আনুমানিক ব্যয় ১০০ কোটি টাকা।

টার্কিশডকের কান্ট্রি হেড এম নুরুজ্জামান রাজু জানান, শুরুতে তুরস্কের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বাংলাদেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে কাজ করবেন এবং হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ দেবেন। দুই বছর পর হাসপাতালটি পুরোপুরি স্থানীয় চিকিৎসকদের দ্বারা পরিচালিত হবে। তিনি বলেন,

“দেশে আইভিএফ চিকিৎসা সেবা ধীরে ধীরে উন্নত হচ্ছে, কিন্তু তা পর্যাপ্ত নয়। ফলে রোগীরা এখনো ভারত, সিঙ্গাপুর বা তুরস্কে যাচ্ছেন। আমরা চাই এই চিকিৎসা দেশেই সাশ্রয়ী ও বিশ্বমানেরভাবে পৌঁছে দিতে।”

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) ২০২৩ সালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বে প্রায় ১৭ দশমিক ৫ শতাংশ দম্পতি বন্ধ্যত্ব সমস্যায় ভুগছেন। বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে এই হার ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ। প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের মোট বন্ধ্যত্বে ভোগা দম্পতির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান।

তথ্য অনুযায়ী, প্রতিবছর প্রায় ১০ লাখ বাংলাদেশি রোগী বিভিন্ন কারণে বিদেশে চিকিৎসা নিতে যান, যার একটি বড় অংশই বন্ধ্যত্ব নিরাময়ের জন্য। ভারতে এই চিকিৎসার খরচ ২৫ থেকে ৩০ লাখ টাকা, আর তুরস্কে একই চিকিৎসা সেবা পাওয়া যায় প্রায় অর্ধেক খরচে—৮ থেকে ১০ লাখ টাকায়, যেখানে থাকা-খাওয়া ও যাতায়াতও অন্তর্ভুক্ত।

টার্কিশডকের প্রধান নির্বাহী ফাইক গকসু বলেন, “তুরস্ক বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ চিকিৎসা সেবা প্রদানকারী দেশ। আমাদের লক্ষ্য, তুরস্কের আধুনিক প্রযুক্তি, নৈতিক চিকিৎসা পদ্ধতি ও প্রশিক্ষণ বাংলাদেশের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া। বাংলাদেশে আইভিএফ চিকিৎসা শুধু একটি ক্লিনিক নয়, বরং এটি হবে একটি যৌথ রেফারেন্স সেন্টার, যেখানে তুর্কি ও বাংলাদেশি চিকিৎসকরা একসঙ্গে কাজ করবেন।”

তিনি জানান, হাসপাতালের প্রথম ধাপে থাকবে আইভিএফ, জেনেটিক স্ক্রিনিং এবং নারীদের প্রজননস্বাস্থ্য বিভাগ। পরবর্তী ধাপে লিভার, কিডনি ও বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্ট সেবা চালু করা হবে। তুরস্কে তাদের আইভিএফ চিকিৎসায় সফলতার হার ৭০ শতাংশের বেশি, এবং চিকিৎসায় শুধু দম্পতির নিজস্ব জেনেটিক উপাদান ব্যবহৃত হয়, যা ইসলামি চিকিৎসা নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

ফাইক গকসু আরও বলেন, “বাংলাদেশে বড় সমস্যা অবকাঠামো নয়, বরং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা, সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে ঘাটতি এবং বিশেষজ্ঞ জনবলের অভাব। আমরা তুর্কি প্রযুক্তির মাধ্যমে রিমোট ডায়াগনোসিস, যৌথ সার্জারি ও চিকিৎসক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি চালু করব। বিশেষ করে তুরস্কের ‘জিরো ইনফেকশন সার্জিক্যাল মডেল’ বাংলাদেশে প্রয়োগ করা হবে, যাতে রোগীরা নিরাপদ, দ্রুত ও সাশ্রয়ী চিকিৎসা পান।”

বাংলাদেশে এ হাসপাতাল চালু হলে প্রতিবছর কোটি কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা রক্ষা সম্ভব হবে, একইসঙ্গে দেশের চিকিৎসকরা আন্তর্জাতিকমানের প্রযুক্তি ও দক্ষতা অর্জনের সুযোগ পাবেন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

অন্যান্য

বন্ধ হতে যাচ্ছে ফেসবুকের পরিচিত ‘রিচ’ পদ্ধতি

স্যোশাল মিডিয়ার জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুক তাদের কনটেন্টের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের পরিচিত পরিমাপক ‘রিচ’ পদ্ধতিটি তুলে দিচ্ছে। আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে এর পরিবর্তে কনটেন্টের দর্শক উপস্থিতি হিসাব করতে ‘ভিউয়ারস’ মেট্রিক চালু করা হবে। এক বিজ্ঞপ্তিতে ফেসবুক জানিয়েছে, এত দিন কোনো কনটেন্ট কতগুলো অ্যাকাউন্টে পৌঁছাল তা পরিমাপ করতে ‘রিচ’ মেট্রিক ব্যবহৃত হতো। একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কতগুলো আলাদা […]

বন্ধ হতে যাচ্ছে ফেসবুকের পরিচিত ‘রিচ’ পদ্ধতি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২১ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৪৪

স্যোশাল মিডিয়ার জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুক তাদের কনটেন্টের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের পরিচিত পরিমাপক ‘রিচ’ পদ্ধতিটি তুলে দিচ্ছে। আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে এর পরিবর্তে কনটেন্টের দর্শক উপস্থিতি হিসাব করতে ‘ভিউয়ারস’ মেট্রিক চালু করা হবে।

এক বিজ্ঞপ্তিতে ফেসবুক জানিয়েছে, এত দিন কোনো কনটেন্ট কতগুলো অ্যাকাউন্টে পৌঁছাল তা পরিমাপ করতে ‘রিচ’ মেট্রিক ব্যবহৃত হতো।

একটি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কতগুলো আলাদা অ্যাকাউন্ট কনটেন্টটি দেখছে, তার হিসাবও এই পরিমাপকের সাহায্যে পাওয়া যেত। তবে আগামী ২০২৬ সালের ৩১ অক্টোবর থেকে ‘রিচ’ সুবিধাটি আর পাওয়া যাবে না।

প্রথাগত এই পরিমাপব্যবস্থার বদলে এখন থেকে কনটেন্টের আসল দর্শক বা দর্শকসংখ্যা নির্ধারণ করতে ‘ভিউয়ারস’ নামের নতুন সূচকটিকে প্রধান মানদণ্ড হিসেবে ধরা হবে।

ছবি, ভিডিও এবং রিলসসহ নানা ধরনের কনটেন্টের মান যাচাই করতে এই সূচকটি কাজে লাগাতে পারবেন ব্যবহারকারীরা।

এত দিন নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো কনটেন্ট ঠিক কতটি আলাদা অ্যাকাউন্টের সামনে আসত, তার নিখুঁত হিসাব করা হতো প্রথাগত ‘রিচ’ পদ্ধতির মাধ্যমে। নতুন নিয়মে দর্শক সম্পৃক্ততা বা উপস্থিতির মাত্রা কতটুকু গভীর, তা অনুধাবনে ‘ভিউয়ারস’সংখ্যা সামনে আসবে।

এর ফলস্বরূপ বাণিজ্যিক ফেসবুক পেজগুলোর ব্যবস্থাপনা, প্রচারণার গতিবিধি তদারকি এবং প্রমোশনাল কনটেন্টের সামগ্রিক সফলতার মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় সরাসরি প্রভাব দেখা যেতে পারে।

বিশেষ করে বিভিন্ন প্রাতিষ্ঠানিক সংবাদমাধ্যম, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন কনটেন্ট নির্মাতা এবং ডিজিটাল বিপণন পেশাজীবীদের নিজেদের বিশ্লেষণ কৌশল এই নতুন ব্যবস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে নিতে হবে।

‘রিচ’ ও ‘ভিউয়ারস’ মেট্রিকের হিসাবের পদ্ধতি এক কি না তা স্পষ্ট না হলে আগের পরিসংখ্যানের সঙ্গে নতুন তথ্য সরাসরি তুলনা করা জটিল হতে পারে। এ কারণে পুরনো প্রতিবেদন সংরক্ষণ করা এবং নতুন মেট্রিকের হিসাবের পদ্ধতি সম্পর্কে জেনে নেওয়া প্রয়োজন ফেসবুক পেজ পরিচালকদের।

ফেসবুকের এই পরিবর্তন সংবাদমাধ্যম, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, কনটেন্ট নির্মাতা ও ডিজিটাল বিপণনকর্মীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ফেসবুকে প্রকাশিত কনটেন্ট কত মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে এবং কতটি অ্যাকাউন্ট থেকে দেখা হচ্ছে, এসব তথ্যের ভিত্তিতেই অনেক ক্ষেত্রে কনটেন্টের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হয়।

চলতি মাসের শেষ দিনে রিচ সুবিধাটি পুরোপুরি বাতিল হয়ে যাবে। এরপর কনটেন্টের সাফল্য যাচাইয়ে নতুন বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ এই নেটওয়ার্কের ব্যবহারকারীদের এই ব্যবস্থার ওপরই নির্ভর করতে হবে।

বিষয়ঃ