রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

নির্বাচনের ৬০ ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৪৫ হাজার কোটি টাকার বোয়িং চুক্তি স্বাক্ষর

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৬০–৭২ ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার একটি বড় বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল ১০ বছর মেয়াদি এ দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। সময় ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের এই পদক্ষেপকে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো ও বিতর্কিত বলে মনে […]

নির্বাচনের ৬০ ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৪৫ হাজার কোটি টাকার বোয়িং চুক্তি স্বাক্ষর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৪৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৬০–৭২ ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার একটি বড় বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল ১০ বছর মেয়াদি এ দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। সময় ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের এই পদক্ষেপকে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো ও বিতর্কিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চুক্তির মূল অংশ হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স–এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের Boeing থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে, যার মোট মূল্য ৩.৭ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা)। এর মধ্যে রয়েছে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স বিমান।

বিমান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, বহরের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসন ও পতাকাবাহী সংস্থার ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে এ ক্রয় অপরিহার্য। তবে অর্থনীতিবিদ ও আইন বিশেষজ্ঞরা এটিকে “নীতিগত মৌলিক লঙ্ঘন” হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী বাণিজ্য নীতি সামাল দিতে রাষ্ট্রীয় ঋণকে কার্যত ‘কূটনৈতিক মুদ্রা’ হিসেবে ব্যবহার করছে, যা জাতীয় কোষাগারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিমান চলাচল কৌশলেরও পরিপন্থী। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বহরে বৈচিত্র্য আনতে বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাস কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ঢাকা সফরের সময় ১০টি এয়ারবাস A350 কেনার সিদ্ধান্ত হলেও ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সে পরিকল্পনা কার্যত বাতিল হয়ে যায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রশাসনের শুল্ক চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। ওয়াশিংটন প্রথমে বাংলাদেশি রপ্তানির ওপর ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়, যা পরে আলোচনার মাধ্যমে ২০ শতাংশে নামানো হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারক মহলের ধারণা, এই বোয়িং চুক্তি এবং তুলা আমদানির প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, ১৪টি বিমান কেনা হচ্ছে প্রথম ধাপে। প্রকৃত পরিকল্পনায় মোট ২৫টি বোয়িং কেনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ২০২৫ সালের জুনেই নীতিগতভাবে চূড়ান্ত হয়েছিল। তবে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের অসন্তোষ এড়াতে তা প্রকাশ্যে আনা হয়নি।

চুক্তির অর্থায়নের ক্ষেত্রে সরকার নিজেই গ্যারান্টর হিসেবে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকেই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। অথচ ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিমান ৯.৩৭ বিলিয়ন টাকার নিট মুনাফা দাবি করলেও নিরীক্ষকদের মতে, প্রতিষ্ঠানটির ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা এখনও অত্যন্ত দুর্বল। বর্তমান ঋণ-ইকুইটি অনুপাত প্রায় ৪:১, যেখানে শিল্পের আদর্শ অনুপাত ১.৫:১।

নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রশ্নও উঠেছে। গত তিন বছরে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের অন্তত চারটি দুর্ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে, যা এসব উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি দেশের প্রতিযোগিতা আইন ২০১২-এর সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো—এই চুক্তির অর্থ পরিশোধের দায় আগামী নির্বাচিত সরকারকে বহন করতে হলেও, কোনো বিমান বর্তমান সরকারের মেয়াদে দেশে আসবে না। সবকিছু ঠিক থাকলে বোয়িংগুলো সরবরাহ শুরু হবে ২০৩১ সালের অক্টোবরের পর।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন বহুবিলিয়ন ডলারের দায়বদ্ধতা তৈরি করা নিয়ে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।