সোমবার, ২৪ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

নির্বাচনের ৬০ ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৪৫ হাজার কোটি টাকার বোয়িং চুক্তি স্বাক্ষর

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৬০–৭২ ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার একটি বড় বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল ১০ বছর মেয়াদি এ দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। সময় ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের এই পদক্ষেপকে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো ও বিতর্কিত বলে মনে […]

নির্বাচনের ৬০ ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ৪৫ হাজার কোটি টাকার বোয়িং চুক্তি স্বাক্ষর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০২:৪৫

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৬০–৭২ ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকার একটি বড় বাণিজ্যিক চুক্তি স্বাক্ষর করেছে বাংলাদেশ। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) সকালে ওয়াশিংটন ডিসিতে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল ১০ বছর মেয়াদি এ দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে স্বাক্ষর করে। সময় ও প্রেক্ষাপট বিবেচনায় অন্তর্বর্তী সরকারের এই পদক্ষেপকে কূটনৈতিক ক্ষেত্রে তাড়াহুড়ো ও বিতর্কিত বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

চুক্তির মূল অংশ হিসেবে রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স–এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের Boeing থেকে ১৪টি উড়োজাহাজ কেনা হচ্ছে, যার মোট মূল্য ৩.৭ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪৫ হাজার কোটি টাকা)। এর মধ্যে রয়েছে আটটি বোয়িং ৭৮৭-১০ ড্রিমলাইনার, দুটি ৭৮৭-৯ এবং চারটি ৭৩৭-৮ ম্যাক্স বিমান।

বিমান কর্তৃপক্ষ দাবি করছে, বহরের দীর্ঘদিনের সংকট নিরসন ও পতাকাবাহী সংস্থার ভবিষ্যৎ টিকিয়ে রাখতে এ ক্রয় অপরিহার্য। তবে অর্থনীতিবিদ ও আইন বিশেষজ্ঞরা এটিকে “নীতিগত মৌলিক লঙ্ঘন” হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন। তাদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসী বাণিজ্য নীতি সামাল দিতে রাষ্ট্রীয় ঋণকে কার্যত ‘কূটনৈতিক মুদ্রা’ হিসেবে ব্যবহার করছে, যা জাতীয় কোষাগারের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বিমান চলাচল কৌশলেরও পরিপন্থী। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বহরে বৈচিত্র্য আনতে বোয়িংয়ের পাশাপাশি এয়ারবাস কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর ঢাকা সফরের সময় ১০টি এয়ারবাস A350 কেনার সিদ্ধান্ত হলেও ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর সে পরিকল্পনা কার্যত বাতিল হয়ে যায়।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রশাসনের শুল্ক চাপের মুখে পড়ে বাংলাদেশ। ওয়াশিংটন প্রথমে বাংলাদেশি রপ্তানির ওপর ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপের হুমকি দেয়, যা পরে আলোচনার মাধ্যমে ২০ শতাংশে নামানো হয়। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও নীতিনির্ধারক মহলের ধারণা, এই বোয়িং চুক্তি এবং তুলা আমদানির প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কৌশল নেওয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, ১৪টি বিমান কেনা হচ্ছে প্রথম ধাপে। প্রকৃত পরিকল্পনায় মোট ২৫টি বোয়িং কেনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা ২০২৫ সালের জুনেই নীতিগতভাবে চূড়ান্ত হয়েছিল। তবে ইউরোপীয় কূটনীতিকদের অসন্তোষ এড়াতে তা প্রকাশ্যে আনা হয়নি।

চুক্তির অর্থায়নের ক্ষেত্রে সরকার নিজেই গ্যারান্টর হিসেবে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকেই অর্থ পরিশোধ করতে হবে। অথচ ২০২৪–২৫ অর্থবছরে বিমান ৯.৩৭ বিলিয়ন টাকার নিট মুনাফা দাবি করলেও নিরীক্ষকদের মতে, প্রতিষ্ঠানটির ঋণ পরিশোধ সক্ষমতা এখনও অত্যন্ত দুর্বল। বর্তমান ঋণ-ইকুইটি অনুপাত প্রায় ৪:১, যেখানে শিল্পের আদর্শ অনুপাত ১.৫:১।

নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রশ্নও উঠেছে। গত তিন বছরে বোয়িং ৭৩৭ ম্যাক্স মডেলের অন্তত চারটি দুর্ঘটনা তদন্তাধীন রয়েছে, যা এসব উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, এই চুক্তি দেশের প্রতিযোগিতা আইন ২০১২-এর সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো—এই চুক্তির অর্থ পরিশোধের দায় আগামী নির্বাচিত সরকারকে বহন করতে হলেও, কোনো বিমান বর্তমান সরকারের মেয়াদে দেশে আসবে না। সবকিছু ঠিক থাকলে বোয়িংগুলো সরবরাহ শুরু হবে ২০৩১ সালের অক্টোবরের পর।

সব মিলিয়ে, নির্বাচনের প্রাক্কালে এমন বহুবিলিয়ন ডলারের দায়বদ্ধতা তৈরি করা নিয়ে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও আইনি অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।