ছোট মেয়ের পোষা ছাগল চুরির ঘটনাকে নিজের জীবনের অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা বলে বর্ণনা করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল। তিনি জানান, ছাগলটি হারানোর পর তার সাড়ে ৯ বছর বয়সী মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বমি করেছিল এবং প্রায় দেড় দিন কিছু খেতে পারেনি।
সম্প্রতি ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে অতিথি হয়ে আলোচিত ছাগল চুরির ঘটনা নিয়ে কথা বলেন আসিফ নজরুল।
ছাগল চুরির প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ছাগলচুরি যে ব্যাপারটা, এটা আমি আসলে বলতে চাই না। এটা আমার জীবনে ঘটা অন্যতম হৃদয়বিদারক ঘটনা।’
ঘটনাটি প্রতিশোধ হিসেবে করা হয়েছিল—এমন প্রসঙ্গ উঠলে আসিফ নজরুল বলেন, ‘এটা যদি কেউ আপনাকে বলে থাকে প্রতিশোধ হিসেবে করেছে, তাহলে তার মতো অমানুষ, পিশাচ, নির্মম, খারাপ কোনো মানুষ হতে পারে না। পুরো ঘটনাটা জাস্ট মজা করে করেছে।’
ছাগলটি তার ছোট মেয়ের পোষা ছিল জানিয়ে তিনি বলেন, ফুলার রোড থেকে হেয়ার রোডে যাওয়ার পর তার মেয়ের পরিচিত বন্ধুবান্ধব কেউ ছিল না। এতে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিল। এরপর তাকে সঙ্গ দেওয়ার জন্য একটি ছাগল কিনে দেওয়া হয়।
মেয়ের সঙ্গে ছাগলটির গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, প্রতিদিন ছাগলটি তার মেয়ের স্কুল থেকে ফেরার অপেক্ষায় থাকত। স্কুল থেকে ফিরে মেয়েও ছাগলটির সঙ্গে খেলত। এমনকি তার ফোনে মায়ের ছবির পরিবর্তে ছাগলটির গলা জড়িয়ে ধরে তোলা নিজের ছবি রেখেছিল।
ছাগলটি চুরি হওয়ার পর মেয়ের অবস্থার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘তখন আমার মেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বমি করে দিচ্ছিল এবং সে প্রায় দেড় দিন কিছু খেতে পারে নাই। খুবই অসুস্থ হয়ে গেছিল।’
আসিফ নজরুল জানান, তার মেয়ে এখনো জানে না ছাগলটিকে চুরির পর খেয়ে ফেলা হয়েছিল। মেয়েকে তারা বলেছিলেন, বাসার দরজা খোলা থাকায় ছাগলটি পালিয়ে গেছে।
ছাগলটি জবাই করার বর্ণনা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, প্রথমে বঁটি দিয়ে সেটিকে কাটা যাচ্ছিল না। পরে কাওরান বাজার থেকে ধারালো বঁটি এনে সেটিকে কাটা হয় বলে তিনি শুনেছেন। ঘটনাটি নিয়ে আগে কখনো কারও সঙ্গে কথা বলেননি বলেও জানান তিনি।
যারা ছাগলটি চুরি করেছিলেন, তাদের ‘ইতর-পাষণ্ড’ বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আসিফ নজরুল।
ছাত্রনেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের প্রসঙ্গেও কথা বলেন তিনি। আসিফ নজরুল বলেন, ছাত্র অধিকার পরিষদ থেকে আসা নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আখতার হোসেনের সঙ্গে তার অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল। বাইরে থেকে আসা কয়েকজনের সঙ্গে যোগাযোগ কম থাকায় কিছু ভুল বোঝাবুঝি হয়ে থাকতে পারে। তবে সেটিকে কখনো গুরুতর বলে মনে করেননি তিনি।
শেষ দিন পর্যন্ত নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও আখতার হোসেনের সঙ্গে তার হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক ছিল বলেও দাবি করেন আসিফ নজরুল।