বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

কোটি কোটি মানুষের হৃদয়ে সম্মানের আসনে বেগম খালেদা জিয়া

বিএনপি চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক জীবন এই সত্যের সাক্ষ্য বহন করে। প্রতিকূলতার মুখেও খালেদা জিয়ার অঙ্গীকার, সাহস ও দৃঢ়তা তাঁকে কোটি মানুষের হৃদয়ে সম্মানের আসনে বসিয়েছে।

নিউজ ডেস্ক

৩০ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৭:০০

 সম্মান জোর করে আদায় করা যায় না, আবার ঢাকঢোল পিটিয়ে প্রচার করেও তা পাওয়া যায় না। এটি মানুষের কাজ, আদর্শ ও চরিত্রের নিরব মূল্যায়নের ভিত্তিতে স্বাভাবিকভাবেই তৈরি হয়। ইতিহাস বারবার প্রমাণ করেছে, জোর করে আদায় করা শ্রদ্ধা স্থায়ী হয় না, কিন্তু প্রকৃত সম্মান ঠিকই থেকে যায়।

বিএনপি চেয়ারপারসন এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গত ১৭ বছরের রাজনৈতিক জীবন এই সত্যের সাক্ষ্য বহন করে। প্রতিকূলতার মুখেও খালেদা জিয়ার অঙ্গীকার, সাহস ও দৃঢ়তা তাঁকে কোটি মানুষের হৃদয়ে সম্মানের আসনে বসিয়েছে।

শৈশব ও বাঁকবদল (১৯৪৫-১৯৭১)

১৯৪৫ সালের ১৫ আগস্ট জলপাইগুড়িতে জন্ম খালেদা খানম পুতুলের। পরে তিনি জাতির কাছে পরিচিত হন বেগম খালেদা জিয়া নামে। পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। বাবা ইস্কান্দার মজুমদার ব্যবসায়ী, মা তৈয়বা মজুমদার ছিলেন গৃহিণী। তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু হয় দিনাজপুরের মিশন স্কুলে।

১৯৬০ সালের আগস্টে তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করেন। এই দম্পতি ১৯৬৫ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত পশ্চিম পাকিস্তানে বসবাস করেন। এরপর ঢাকায় ফিরে আসেন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান আর্মি চট্টগ্রামে বর্বরোচিত হামলা চালায়। তখন মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে কর্মরত ছিলেন। খালেদা জিয়া দুই শিশু সন্তান তারেক রহমান (৫) ও আরাফাত রহমান কোকো’কে (১ বছর ৫ মাস) নিয়ে ক্যান্টনমেন্টে একা ছিলেন। সেখান থেকে তাকে গ্রেফতার করে সাড়ে পাঁচ মাস ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি রাখা হয়। তাঁর সেই দিনগুলো কাটে স্বামী হারানোর শঙ্কা আর সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠায়।

রাজনীতিতে অনিচ্ছাকৃত প্রবেশ

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর খালেদা জিয়া পরিবার নিয়ে অনেকটাই নিভৃত জীবন যাপন করছিলেন। ১৯৭৫ সালে জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় এলেও তিনি একজন গৃহিণীই থেকে যান এবং তাঁকে জনসমক্ষে খুব কমই দেখা যেত।

১৯৮১ সালের ৩০ মে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান খুন হওয়ার পর হঠাৎ করেই তাঁর এই জীবনে ছেদ পড়ে। বিএনপি গভীর সংকটে পড়লে দলের নেতৃত্ব কে দেবেন, তা নিয়ে কথা ওঠে। বিভিন্ন রাজনৈতিক বিবরণ অনুযায়ী— খালেদা জিয়া নিজে রাজনীতিতে কখনো আগ্রহী না হলেও তখনকার ক্ষমতাসীন মহল তার সম্ভাব্য প্রভাবকে ভয় পেত।

সাংবাদিক শফিক রেহমান তাঁকে সেই সময় ‘দুই ছেলেকে মানুষ করা নিয়ে ব্যস্ত এক লাজুক গৃহবধূ’ হিসেবে বর্ণনা করেছিলেন। তবুও রাজনৈতিক অস্থিরতার সেই সময়ে দলীয় নেতারা তাঁকে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য ক্রমাগত অনুরোধ করতে থাকেন।

গভীর শোক এবং রাজনৈতিক জীবনের কঠিন বাস্তবতা নিয়ে দ্বিধায় থাকার কারণে খালেদা জিয়া প্রথমে রাজনীতিতে আসতে চাননি। কিন্তু তাঁর ওপর চাপ বাড়তে থাকে। ১৯৮৩ সালের মার্চে তিনি বিএনপির সিনিয়র ভাইস-চেয়ারম্যান হন এবং পরে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব নেন। ১৯৮৪ সালের ১০ মে তিনি দলের চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন এবং বিএনপিকে ভাঙনের হাত থেকে রক্ষা করেন।

রাজনৈতিক গবেষক মহিউদ্দিন আহমদ বলেন, জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করলেও এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় খালেদা জিয়া এটিকে একটি পূর্ণাঙ্গ রাজনৈতিক সংগঠনে পরিণত করেন। 

মহিউদ্দিন আহমদ লিখেছেন, ‘আজকে আমরা যে বিএনপি দেখি, তা খালেদা জিয়ার হাতেই গড়া।’

দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী

দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর নেতৃত্ব জনজীবনে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর তিন মেয়াদে তিনি বেশকিছু জনগুরুত্বপূর্ণ কাজ বাস্তবায়ন করেন। এর মধ্যে রয়েছে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন, দশম শ্রেণি পর্যন্ত মেয়েদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষা, বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন, স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, বিদ্যুতায়ন ও নিরাপদ পানীয় জলের ব্যবস্থা, সেলুলার এবং আইএসডি সেবার মাধ্যমে টেলিযোগাযোগের অগ্রগতি, ১ হাজারের বেশি ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এবং ধর্মীয় সম্প্রীতি বাড়াতে নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ।

বেসরকারিকরণ বাড়ানো, আয়কর কমানো, আমদানি শুল্ক সহজ করা এবং মুক্তবাজার অর্থনীতিকে উৎসাহিত করে তিনি অর্থনীতিতে জিয়াউর রহমানের নীতিকে এগিয়ে নেন।

খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণেও কাজ করেছেন। তিনি ২০০১ সালে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় গঠন করেন, বীর প্রতীক তারামন বিবিকে সম্মাননা দেন এবং ২০০৬ সালে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের দেহাবশেষ দেশে ফিরিয়ে এনে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফনের ব্যবস্থা করেন।

রাজনৈতিক অস্থিরতা

আওয়ামী লীগ সরকার দীর্ঘদিন ধরে খালেদা জিয়া ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক নিপীড়ন চালিয়েছে। ২০১৮ সালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট এবং জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের মামলায় তাঁকে দণ্ডিত করা হয়। যা তাঁকে সক্রিয় রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে দেয় এবং ওই বছর জাতীয় নির্বাচনের সময় তিনি কারাগারেই ছিলেন। বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, এসব মামলা ছিল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো সরকারের বিরুদ্ধে ব্যাপক দমন-পীড়ন, গণগ্রেফতার এবং রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তোলে। এতে নির্বাচনের সুষ্ঠুতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

করোনাভাইরাস মহামারীকালে ২০২০ সালের মার্চে মানবিক কারণে তাঁর সাজা স্থগিত করা হয়। পরে তা ২০২৪ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়। ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর তিনি রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পূর্ণ ক্ষমা পান। এরপর ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে চিকিৎসার জন্য লন্ডনে যান এবং মে মাসে দেশে ফেরেন। তবে, শারীরিক দুর্বলতার কারণে তিনি আর সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেননি।

প্রতিরোধের উত্তরাধিকার

তাঁর সমর্থক ও লাখ লাখ সাধারণ মানুষের কাছে খালেদা জিয়া গণতান্ত্রিক প্রতিরোধের এক মূর্ত প্রতীক। কারাজীবন, আইনি লড়াই এবং ব্যক্তিগত দুঃখ-কষ্টের মুখেও তিনি কখনো দমে যাননি। 

তাঁর সমর্থকরা বিশ্বাস করেন, খালেদা জিয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট গড়ে তুলতে, কোটি মানুষকে অনুপ্রাণিত করতে এবং নারী নেতৃত্বে নতুন দিগন্তের উন্মোচন করেছেন।

একজন সাধারণ গৃহিণী থেকে তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হয়ে ওঠার তাঁর এই যাত্রা স্থিতিস্থাপকতা, সাহস ও দৃঢ়তার এক গল্প। রাজনৈতিক উপাধির বাইরে তাঁর উত্তরাধিকার হলো— তিনি এই বার্তা রেখে গেছেন যে, সততা, অধ্যবসায় এবং সত্যের অন্বেষণ সবচেয়ে কঠিন ঝড়কেও মোকাবিলা করতে পারে।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।