বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জামায়াতের গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিচার প্রাধান্য পেয়েছে: সানজিদা

জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের কারা গুম করেছিল, সেটার তদন্ত ও বিচার অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ট্রাইব্যুনালে প্রাধান্য পেয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম (তুলি)। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথাগুলো বলেন সানজিদা ইসলাম। গুমের তদন্তের অগ্রগতি দেখার জন্য চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে আসেন সানজিদা ইসলাম ও […]

অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জামায়াতের গুমের শিকার ব্যক্তিদের বিচার প্রাধান্য পেয়েছে: সানজিদা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৬ আগস্ট ২০২৬, ০১:২৬

জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের কারা গুম করেছিল, সেটার তদন্ত ও বিচার অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ট্রাইব্যুনালে প্রাধান্য পেয়েছিল বলে অভিযোগ করেছেন ‘মায়ের ডাক’-এর সমন্বয়ক সানজিদা ইসলাম (তুলি)।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এ কথাগুলো বলেন সানজিদা ইসলাম। গুমের তদন্তের অগ্রগতি দেখার জন্য চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে আসেন সানজিদা ইসলাম ও গুমের ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বজনদের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’–এর সমন্বয়কের অভিযোগ, জামায়াতে ইসলামীর বাইরে যারা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুমের শিকার হয়েছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সেই তদন্ত ও বিচার প্রাধান্য পায়নি।

গুমের শিকার বিএনপি নেতা সাজেদুল ইসলামের বোন সানজিদা ইসলাম। বিএনপির মনোনয়নে তিনি এখন সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য।

সাংবাদিকদের সানজিদা ইসলাম বলেন, অভ্যুত্থান–পরবর্তী সময়ে প্রত্যাশা ছিল তাদের দেওয়া গুমের অভিযোগ তদন্ত ও বিচার ট্রাইব্যুনালে গতি পাবে। ‘মায়ের ডাক’ থেকে প্রায় ১৫০টির মতো গুমের অভিযোগ তারা ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে দিয়েছেন। এক যুগের বেশি সময়ের তথ্য-উপাত্ত তারা দিয়েছেন। কিন্তু অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের এক বছর তিন মাস তারা কোনো তদন্ত দেখেননি।

সানজিদা ইসলাম বলেন, ‘যখন আমরা বিচার চেয়েছি, যখন আমরা আন্দোলনে দাঁড়িয়েছি, সবাইকে নিয়ে দাঁড়িয়েছি। আমাদের আশা ছিল, যখন বিচারকার্য শুরু হবে, তখন সবার জন্য একসঙ্গে হবে। এখানে কোনো সিলেকশন থাকবে না। সিলেকশন কেন ওই তিনটা কেসে করা হয়েছিল?…জামায়াতের তিনটা কেসকে।’

ফ্যাসিস্টের সময় তদন্তকাজ করেনি, মামলা হয়নি উল্লেখ করে সানজিদা ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনাল গঠন করার পর এক বছর তিন মাসেও কোনো কিছু মুভ করেনি (এগোয়নি)। তিনি বলেন, ‘এখানে আমার মনে হয়, আমাদেরকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যের বাইরে গিয়ে কাজ করার দরকার ছিল, যেটা হয়নি। এ জন্যই কেসগুলোর মুভ…কোনো অগ্রগতি দেখতে পাইনি।’

সানজিদা ইসলাম যে তিনটি মামলার কথা বলছেন, তার একটি র‌্যাবের টিএফআই সেলে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমসহ (আরমান) অনেককে গুম করে রাখার ঘটনায় করা।

এই মামলায় বর্তমান–সাবেক ১২ সেনা কর্মকর্তাসহ ১৭ আসামির বিচার চলছে ট্রাইব্যুনালে। আরেকটি মামলা হলো ডিজিএফআইয়ের জেআইসিতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবদুল্লাহিল আমান আযমীসহ অনেককে গুমের ঘটনায় আরও একটি মামলার বিচার চলছে ট্রাইব্যুনালে।

সেই মামলায়ও বর্তমান–সাবেক ১২ সেনা কর্মকর্তাসহ ১৩ আসামির বিচার চলছে। আযমীর বাবা জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির প্রয়াত গোলাম আযম।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর ছিলেন মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম। বিএনপি সরকার গঠন করলে চিফ প্রসিকিউটর করা হয় মো. আমিনুল ইসলামকে।

সানজিদা ইসলাম বলেন, তাদের গুমের অভিযোগের তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বর্তমান চিফ প্রসিকিউটরের চেষ্টা তারা দেখছেন।

বিষয়টি দলীয়ভাবে দেখতে চান না চিফ প্রসিকিউটর

পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেন, সব গুম পরিবারের সদস্যদের প্রতি অকৃত্রিম সহানুভূতি আছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা ও প্রসিকিউশনের। কে কোন দলের মানুষ—এভাবে পার্থক্য করে তারা দেখতে চান না। তারা দেখতে চান, যারাই গুমের শিকার হয়েছেন, তারা গুম পরিবারের সদস্য।

মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজিদা ইসলামের উদ্দেশে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মীর আহমাদ বিন কাসেম ও আবদুল্লাহিল আমান আযমী—এ রকম কয়েকটি গুমের বিচার চলছে, কাকতালীয়ভাবে হোক আর যেভাবেই হোক, তারা হয়তো একটি দলের অনুসারী।

তার মানে এই নয় যে বিএনপির যারা ভুক্তভোগী হয়েছেন, তাদের বিচারটা হবে না। বিষয়টিকে তারা দলীয়ভাবে দেখতে চান না।

আওয়ামী লীগের কেউ গুমের শিকার হলে তাদের জন্যও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

‘গুমের শিকার ২৫০ পরিবার চিহ্নিত’

গুমের বিষয়ে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার কাজের অগ্রগতির তথ্যও তুলে ধরেন চিফ প্রসিকিউটর। আমিনুল ইসলাম বলেন, ২৫০ পরিবারের সদস্যরা গুমের শিকার হয়েছেন, এটার সত্যতা তারা পেয়েছেন। সে পরিবারগুলো তারা চিহ্নিতও করেছেন। ২৫০—মানে যারা ফেরত আসেননি। তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক অপহরণের শিকার হয়েছেন, সেটাও তারা নিশ্চিত হয়েছেন।

গুমের শিকার প্রত্যেক পরিবারের সদস্যদের জবানবন্দি নেওয়া হচ্ছে বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর। তিনি বলেন, যে স্থান থেকে অপহরণ করা হয়েছিল, সেগুলোও তারা চিহ্নিত করেছেন। সংখ্যা অনেক এবং প্রত্যেক পরিবার ধরে ধরে তদন্ত করতে হচ্ছে। সংগত কারণে তাদের একটু সময় লাগছে।

তদন্তের জন্য যৌক্তিক সময় চান উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার পাঁচজন তদন্ত কর্মকর্তা গুমের বিষয়গুলো তদন্ত করছেন। তদন্ত সম্পন্ন করে তারা দ্রুতই প্রতিবেদন দেবেন।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।