বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রাজনীতি

৬ মাসের মধ্যেই বিএনপির জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে : সারজিস আলম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর আওয়ামী লীগের জুলুম-নির্যাতনের শিকার হওয়া বিএনপি ক্ষমতায় এসে একই ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি চর্চা শুরু করেছে। ফলে মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই দলটির জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে খাগড়াছড়ির একটি কমিউনিটি সেন্টারে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা […]

৬ মাসের মধ্যেই বিএনপির জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে : সারজিস আলম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৬ আগস্ট ২০২৬, ০০:৪১

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম বলেছেন, দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর আওয়ামী লীগের জুলুম-নির্যাতনের শিকার হওয়া বিএনপি ক্ষমতায় এসে একই ধরনের রাজনৈতিক সংস্কৃতি চর্চা শুরু করেছে। ফলে মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই দলটির জনপ্রিয়তা কমতে শুরু করেছে।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) বিকেলে খাগড়াছড়ির একটি কমিউনিটি সেন্টারে এনসিপির সাংগঠনিক সমন্বয় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, বিএনপি দীর্ঘ ১৬-১৭ বছর জুলুম, মিথ্যা মামলা, গুম ও খুনের শিকার হয়েছে। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে নির্বাচিত হওয়ার পর আওয়ামী লীগের আমলে যে রাজনৈতিক ব্যবস্থা ও সংস্কৃতির মাধ্যমে তারা নির্যাতিত হয়েছিল, সেই একই ব্যবস্থা ও সংস্কৃতি তারা এখন চর্চা শুরু করেছে।

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রতি লিটার জ্বালানি তেলের দাম ২০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। জ্বালানি তেলের সঙ্গে বিদ্যুৎ, উৎপাদন, কৃষি ও পরিবহনসহ দেশের প্রায় সব খাত জড়িত। এতে মানুষের জীবন ধীরে ধীরে দুর্বিষহ হয়ে উঠছে। মানুষ টাকা দিয়েও সার পাচ্ছে না, মূল্য পরিশোধ করেও বিদ্যুৎ-গ্যাস পাচ্ছে না। শত শত কারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বিএনপির এক কোটি কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে সারজিস বলেন, ছয় মাসে বিএনপি লক্ষ্যের কাছাকাছি কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারেনি। বরং অনেক মানুষ কর্মসংস্থান হারিয়েছেন। তবে এই সময়ে তারা একটি কর্মসংস্থান তৈরি করেছে চাঁদাবাজির। তার দাবি, কয়েক লাখ মানুষের পেশা হয়েছে চাঁদাবাজি।

দেশের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণ করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, সর্বত্র স্বজনপ্রীতি চলছে। যোগ্যতা ও দক্ষতার পরিবর্তে দলীয় পরিচয় বিবেচনায় বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তারা চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট বন্ধ করতে গেলে তাদের হয়রানি, গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

নারী ইউএনওদের হেনস্তা এবং সিলেটের ডিসি সারোয়ার আলমকে বদলির প্রসঙ্গ তুলে সারজিস আলম বলেন, ইউএনও অফিসে গিয়ে নারী ইউএনওদের বিএনপির নেতাকর্মীরা কীভাবে হেনস্তা করেছেন, তা সবাই দেখেছেন। সিলেটের ডিসি সারোয়ার আলম চাঁদাবাজির সিন্ডিকেট বন্ধ করতে গিয়েছিলেন। এক দিনের মধ্যে তাকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, এভাবে প্রতিষ্ঠানগুলো দলীয়করণের মধ্য দিয়ে বিএনপির মাধ্যমে বাংলাদেশের আগের রাজনৈতিক ধারায় প্রত্যাবর্তন দেখা যাচ্ছে। দুঃখজনক বিষয় হলো, বিএনপি মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই সেই জায়গায় ফিরে গেছে।

বিএনপিকে সতর্ক করে সারজিস বলেন, তারা বিরোধী দল হতে পারেন এবং বিএনপির ভালো কাজকে ভালো বলার পাশাপাশি সমালোচনার জায়গায় সমালোচনা করবেন। সমালোচনা করলে চোখ তুলে নেওয়া কিংবা রক্তাক্ত করার হুমকি দিলেও তারা পিছপা হবেন না। বাংলাদেশের মানুষ বিবেকবোধ হারিয়ে ফেলেনি। যে মানুষ রাস্তায় নেমেছিল, সেই মানুষ এই জুলুম বেশিদিন সহ্য করবে না।

বিএনপিকে দ্রুত ‘হেদায়েতের পথে’ ফিরে এসে জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে গণভোটের রায় ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবি জানান।

পার্বত্য চট্টগ্রামের কোটা প্রসঙ্গে সারজিস আলম বলেন, পাহাড়ের মানুষ এবং শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য যৌক্তিক মাত্রায় কোটা রাখা প্রয়োজন। কারণ সমতলের মানুষের তুলনায় পাহাড়ের মানুষ শিক্ষা, চাকরি, বসবাস ও পারিবারিক জীবনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বেশি প্রতিকূলতার মুখোমুখি হন।

তবে এই কোটা ব্যবস্থাকে ব্যবহার করে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, প্রাপ্য ব্যক্তিকে সুযোগ না দিয়ে একটি সিন্ডিকেট নিয়োগ বাণিজ্যের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে।

পার্বত্য জেলা পরিষদ নিয়েও বিএনপির বিরুদ্ধে ‘দলীয় কোটা’ চালুর অভিযোগ করেন সারজিস। তিনি বলেন, বিএনপির নেতা বা পদ-পদবি থাকলে জেলা পরিষদে থাকা যাবে এটাই যেন এখানকার কোটা।

এ ধরনের দলীয়করণের ফলে পার্বত্য এলাকার মানুষের অধিকার, উন্নয়ন ও প্রত্যাশা থেকে তারা বঞ্চিত হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। পার্বত্য তিন জেলা পরিষদ গঠনে বিভিন্ন ধরনের আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ শোনা যাচ্ছে বলেও দাবি করেন সারজিস।

তিনি বলেন, ‘আমরা বিএনপির এই সিদ্ধান্তের প্রতি তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রত্যেকটি জায়গায় এ ধরনের দলীয়করণ বিএনপির জন্য কিংবা দেশের জন্য ভালো ফল বয়ে আনবে না।’

সভায় খাগড়াছড়ি জেলা এনসিপির আহ্বায়ক নূর আলম সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন দলের কেন্দ্রীয় যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, আলী আহসান জুনায়েদসহ স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ। এতে এনসিপির অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৮

রাজনীতি

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি। মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন […]

‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে, অপমান হজম না হওয়া পর্যন্ত সংসদে যাচ্ছি না : এমপি মনিরুল হক

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৯ জুন ২০২৬, ১১:০২

সংসদে বক্তব্য দেওয়ার সময় ‘অপমানিত’ হওয়ার অভিযোগে টানা ১১ দিন ধরে সংসদ অধিবেশন বর্জন করছেন কুমিল্লা-৬ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরী। গত ১৪ জুন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের এক রুলিং ও সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ১৫ থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত তিনি সংসদে যাননি।

মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, ‘আমাকে সংসদে অপমান করা হয়েছে। স্পিকার ফোন করে সংসদে ফিরতে বললেও আমি এই অপমান এখনো হজম করতে পারছি না। যেদিন পারব, সেদিনই সংসদে যাব।’

গত ১৪ জুন, বাজেট আলোচনায় মনিরুল হক চৌধুরী বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহেরের বোরকা পরিহিত স্ত্রীর অতীতের একটি প্রসঙ্গ টানেন। একই সাথে সংসদে বোরকা পরা জামায়াতের নারী এমপিদের ইঙ্গিত করে কিছু মন্তব্য করেন। এতে সরকারি দলের এমপিরা হাসলেও বিরোধী দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও পোশাক নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন এবং মনিরুল হক চৌধুরীর বক্তব্যের বিতর্কিত অংশটুকু সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ (এক্সপাঞ্জ) করার ঘোষণা দেন।

এরপর মনিরুল হক চৌধুরী দুঃখপ্রকাশ করে আত্মপক্ষ সমর্থনে পুনরায় কথা বলার জন্য ফ্লোর চাইলে ডেপুটি স্পিকার তা নাকচ করে দেন। পরবর্তীতে পানিসম্পদমন্ত্রী মো. শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং সরকারি দলের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম বিষয়টি হালকা করার চেষ্টা করে মনিরুল হক চৌধুরীকে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ করলেও ডেপুটি স্পিকার তার সিদ্ধান্তে অনড় থাকেন।

এই ঘটনার পর থেকেই ক্ষোভে সংসদ বয়কট করে চলেছেন এই সংসদ সদস্য।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৮

রাজনীতি

“ওসব কিছুই চাই না, আমি বড় ক্লান্ত, একেবারে অবসর চাই- শুধু ঘুমাবো” : মির্জা ফখরুল

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।” চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জুন ২০২৬, ২০:০৬

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

চব্বিশের ৫ আগস্ট-পূর্ববর্তী ১৭ বছর অগ্নিগর্ভ বাংলাদেশে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়া নেতা মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মুখে এমন উচ্চারণ শুনে মুহূর্তের জন্য থমকে যেতে হয়। রাজনীতির উত্তাল ময়দানে দীর্ঘদিনের দৃঢ় ও সংযত এই নেতার কণ্ঠে ক্লান্তির এমন স্বীকারোক্তি শুধু ব্যক্তিগত অনুভূতি নয়; বরং রাজনৈতিক মহলেও নতুন প্রশ্নের জন্ম দিতে পারে।

গত ২৩ এপ্রিল স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে গিয়েছিলাম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। বাইরে ছিল মানুষের ভিড়। প্রায় নিশ্চিত হয়েই ফিরে আসছিলাম—আজ আর দেখা হবে না। ঠিক তখনই তাঁর দীর্ঘদিনের সহকারী কৃষিবিদ ইউনুস আলী ডাক দিলেন।

মন্ত্রীর কক্ষে ঢুকেই চোখে পড়ল ভিন্ন এক মির্জা ফখরুলকে। রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াইয়ে অভ্যস্ত মানুষটিকে সেদিন অস্বাভাবিক ক্লান্ত লাগছিল। চোখে ঘুমঘুম ভাব, মুখে অবসাদের রেখা।

অন্যদের বিদায় দেওয়ার পর বললাম, “আমার কোনো তদবির নেই, অনেক দিন দেখা হয় না—তাই শুধু সাক্ষাৎ করতে এলাম।”

শরীরের খোঁজ নিতেই তিনি ধীরে উত্তর দিলেন—

“আমি বড় ক্লান্ত… আমার এখন অবসর দরকার।”

কথাটি শুনে কিছুটা বিস্মিত হয়েই বললাম, “দেশের মানুষ আপনাকে এই মন্ত্রণালয়ের পর বঙ্গভবনে দেখতে চায়।”

তিনি হালকা হাসলেন। তারপর বললেন—

“ওসব কিছুই চাই না। একেবারে অবসর চাই… শুধু ঘুমাবো।”

এই কয়েকটি বাক্য যেন দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের এক অনুচ্চারিত ক্লান্তির ভাষা হয়ে উঠেছিল।

এরপর কথোপকথন গড়ায় স্মৃতির ভেতর। ২০০৮ সালে লন্ডন থেকে ফেরার পর প্রথম কোনো সাংবাদিক হিসেবে আমাকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন তিনি।

তার কিছুদিন পর কাউন্সিলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব পেয়ে জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে তাঁর উত্থান ঘটে। স্মৃতিচারণে উঠে আসে বেগম খালেদা জিয়া, প্রয়াত সাদেক হোসেন খোকা ও ইশরাক হোসেন প্রসঙ্গও।

৩০ অক্টোবর ২০২৫
poll_title
জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট প্রশ্নে আপনার মতামত কী?

মোট ভোট: ১৪৫১৪

রাজনীতি

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে,কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়: সারজিস আলম

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা দরকার। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা, ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম। শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে এনসিপির কক্সবাজার জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য […]

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা ও ন্যায়ের ভিত্তিতে,কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয়: সারজিস আলম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৩ আগস্ট ২০২৬, ১৭:০৮

ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও পারস্পরিক সম্পর্ক থাকা দরকার। তবে সেই সম্পর্ক হতে হবে মর্যাদা, ন্যায়, সমতা ও পারস্পরিক সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধার ভিত্তিতে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম।

শনিবার (২২ আগস্ট) বিকেলে কক্সবাজার সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের হলরুমে এনসিপির কক্সবাজার জেলা সাংগঠনিক সমন্বয় সভা ও রাজনৈতিক কর্মশালায় তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাংলাদেশের গণহত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দিয়ে রেখেছে জানিয়ে সারজিস বলেন, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে তাকে ফিরিয়ে দিয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একইভাবে হাদি হত্যাকাণ্ডের আসামিদেরও ফিরিয়ে দিতে হবে।

ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং প্রধানের আকস্মিক সফর এবং বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের পর ভারতের পক্ষ থেকে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন তুলে এনসিপির এই নেতা বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে এখনই ভারতে যেতে হবে পরে গেলে ক্ষতি হবে-এ ধরনের বক্তব্য কোনো স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রতি মর্যাদাপূর্ণ আচরণের প্রকাশ নয়।

এটা ভারতের ‘আধিপত্যবাদের স্টেটমেন্ট’ বলে মনে হয়েছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্প্রতি যে দুটি শক্ত অবস্থানসম্পন্ন বিবৃতি দিয়েছে, তা সাধুবাদ জানাই। তবে, এসব অবস্থান শুধু বক্তব্যে সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তব কর্মকাণ্ডেও প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

এসময় বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হতে হবে দুই দেশের জনগণ ও দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা, ন্যায় এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয় বলেও উল্লেখ করেন সারজিস।

অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব এসএম সুজা উদ্দিন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা রিফাত রশিদ, আবু বাকের মজুমদারসহ এনসিপির কক্সবাজারের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক হতে হবে দুই দেশের জনগণ ও দুই রাষ্ট্রের পারস্পরিক মর্যাদা, সমতা, ন্যায় এবং সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে, কোনো ব্যক্তি বা দলের স্বার্থে নয় বলেও উল্লেখ করেন সারজিস।

১৩ নভেম্বর ২০২৫
poll_title
আপনি কি জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন করেন?

মোট ভোট: ৭৩৮৮