দীর্ঘদিনের জল্পনা–কল্পনা, রাজনৈতিক আলোচনার উত্তাপ এবং অনিশ্চয়তার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিতে শুরু করলে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রবেশ করে দেশ।
বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার একযোগে এই ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করছে। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে নির্বাচনমুখী পরিবেশ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। রাজনৈতিক দলগুলো এখন মনোনয়ন, প্রার্থী বাছাই, নির্বাচনী কৌশল ও প্রচার–পরিকল্পনায় ব্যস্ত হয়ে পড়বে।
ইসি–সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সিইসি তার ভাষণে ভোটগ্রহণের সম্ভাব্য তারিখ, মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময়, যাচাই–বাছাইয়ের সময়সূচি, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের তারিখ এবং প্রতীক বরাদ্দের দিন ঘোষণা করছেন। একইসঙ্গে তিনি শান্তিপূর্ণ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে কমিশনের প্রস্তুতি ও অঙ্গীকার তুলে ধরছেন।
তফসিল ঘোষণার মধ্য দিয়ে সাংবিধানিকভাবে জাতীয় নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক সূচনা হলো। নির্বাচনী আচরণবিধি কার্যকর হওয়ায় সরকারি ব্যয়, কর্মসূচি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তেও বিশেষ নিয়ন্ত্রণ আসবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও নির্বাচনকেন্দ্রিক দায়িত্ব পালনে নতুন নির্দেশনা পেতে শুরু করেছে।
রাজনৈতিক দলগুলো তফসিল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন স্থানে বৈঠক, আলোচনা ও জরুরি সভা করছে। বিশেষ করে প্রধান দুই জোটের নেতারা নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে মাঠে সক্রিয় হচ্ছেন।
তফসিল ঘোষণার পর নির্বাচনী উত্তাপ আরও বাড়বে বলে ধারণা করছেন পর্যবেক্ষকরা। ভোটাররাও ধীরে ধীরে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগ্রহ প্রকাশ করতে শুরু করেছেন।
দেশের পরবর্তী সরকার কারা গঠন করবে—তার পথরেখা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হলো আজকের তফসিল ঘোষণার মাধ্যমে।