গণভোট ইস্যুতে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলমান মতভেদের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে উপদেষ্টা পরিষদ। একই সঙ্গে দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে—নিজস্ব উদ্যোগে আলোচনা করে এক সপ্তাহের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত জমা দিতে। তবে রাজনৈতিক দলগুলো ঐকমত্যে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে সরকার নিজ সিদ্ধান্ত নেবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আসিফ নজরুল।
সোমবার (৩ নভেম্বর) উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানান তিনি।
ড. আসিফ নজরুল বলেন, “গণভোট সংক্রান্ত বিষয়ে আমরা কোনো আল্টিমেটাম দিইনি, শুধু আহ্বান জানিয়েছি। রাজনৈতিক দলগুলো যেন নিজেদের মধ্যে বসে আলোচনা করে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত জমা দেয়। এরপর সরকার প্রয়োজন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেবে।”
তিনি আরও বলেন,
“সরকার আর কোনো নতুন আলোচনার আয়োজন করবে না। গত ১৫ বছরে ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নিজের উদ্যোগে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। তারা প্রতিকূল সময়ে একসঙ্গে আন্দোলন করেছে, নির্যাতনের শিকার হয়েছে। এবারও তারা স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত নেবে বলে আমরা আশা করছি।”
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের সুপারিশ জমা দেওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে মতবিরোধ দেখা দিয়েছে, তা নিরসনে অন্তর্বর্তী সরকার আপাতত কোনো নতুন উদ্যোগ নিচ্ছে না। দলগুলোর মধ্যে আলোচনার সুযোগ রাখতেই এক সপ্তাহের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় নির্বাচনের আয়োজনের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
আইন উপদেষ্টা বলেন,
“গণভোটের সময়সূচি ও বিষয়বস্তু নির্ধারণের জন্য এখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। বর্তমান প্রেক্ষাপটে আর কোনো সময় নষ্ট করার সুযোগ নেই। তাই রাজনৈতিক দলগুলোকে স্ব-উদ্যোগে আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হয়েছে। যদি তারা ঐক্যবদ্ধ নির্দেশনা দিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে সরকার নিজস্ব সিদ্ধান্ত নেবে এবং সেই অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।”