জুলাই আন্দোলনের হত্যা মামলার আসামি এবং ক্যান্টনমেন্ট এলাকার কুখ্যাত মাদক সম্রাজ্ঞী হিসেবে পরিচিত আওয়ামী লীগ নেত্রী স্বপ্না আক্তারকে গ্রেফতার করেছে যৌথ বাহিনী। সোমবার (১ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট থানাধীন মাটিকাটা এলাকার একটি বাসায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। পরে রাতেই তাকে গুলশান থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করে গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান জানান, “সোমবার গভীর রাতে যৌথ বাহিনী স্বপ্নাকে গ্রেফতার করে আমাদের থানায় হস্তান্তর করেছে। মঙ্গলবার সকালে আদালতে হাজির করে তার রিমান্ড আবেদন করা হয়েছে।”
সূত্র জানায়, গুলশান থানায় দায়ের হওয়া জুলাই হত্যা মামলার ৬২ নম্বর আসামি স্বপ্না আক্তার। তিনি ক্যান্টনমেন্ট থানার ১৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক ব্যবসা, জমি দখল ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক অভিযোগ রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে স্বপ্না মাদক কারবারের মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হন। এলাকায় তিনি ‘মাদক সম্রাজ্ঞী’ নামে পরিচিত। অভিযোগ রয়েছে, ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় নারী ও পুরুষদের দুটি পৃথক বাহিনী গড়ে তুলেছিলেন তিনি। এ বাহিনী ব্যবহার করে শিল্পপতিদের জিম্মি করা, অবৈধ অর্থ আদায় এবং জমি দখলের মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন।
তার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই স্থানীয়দের অভিযোগ থাকলেও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পেত না। আওয়ামী লীগের ছত্রচ্ছায়ায় স্বপ্না আক্তার এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিলেন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন। অবশেষে যৌথ বাহিনীর হাতে তার গ্রেফতারকে সাধারণ মানুষ স্বাগত জানিয়েছেন এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছেন।