বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

নির্বাচনের প্রস্তুতি দেখতে ইইউ দল ঢাকায় আসছে ১৮ সেপ্টেম্বর

“সকল প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ এবং ভোটারদের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত হওয়া।” বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ ছাড়া একটি জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করার চেষ্টা, ইইউ-এর কাছে প্রহসনের শামিল হতে পারে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৫, ০৩:২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে আবারও সক্রিয় হয়েছে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ রাজনীতি। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) আগামী ১৮ সেপ্টেম্বর থেকে বাংলাদেশে একটি প্রাক-নির্বাচনী পর্যবেক্ষক দল পাঠাচ্ছে, যারা ৭ অক্টোবর পর্যন্ত অবস্থান করবে। এই সফরের উদ্দেশ্য একটাই—বাংলাদেশের নির্বাচন আদৌ গণতান্ত্রিক, অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য হতে যাচ্ছে কি না, তা মূল্যায়ন করা।

তিনজন বিদেশি ও চারজন স্থানীয় বিশ্লেষকসহ মোট সাত সদস্যের এই দল নির্বাচন কমিশন, অন্তর্বর্তী সরকার, বিএনপি-জামায়াতসহ রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, আন্তর্জাতিক সংস্থা, সাংবাদিক এবং কূটনীতিকদের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠক করবে। মূলত এই অনুসন্ধানী টিমের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করবে ইইউ ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠাবে কি না।

তবে এই সফরের প্রেক্ষাপটে একটি গুরুতর রাজনৈতিক পরিবর্তন ইইউকে ভাবিয়ে তুলছে—আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা এবং নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে দলটির নিবন্ধন স্থগিত। অন্তর্বর্তী সরকারের এই ঘোষণায় দলটির অনলাইন, নির্বাচনী প্রস্তুতি, রাজনৈতিক সভা এমনকি প্রচারণা—সবকিছু নিষিদ্ধ হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞা পশ্চিমা কূটনৈতিক মহলে প্রশ্ন তুলছে: আসন্ন নির্বাচন কি সত্যিই হবে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’?

ইইউ পূর্বেও স্পষ্টভাবে বলেছে—তাদের কাছে একটি গণতান্ত্রিক নির্বাচনের মানে হচ্ছে

“সকল প্রধান রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণ এবং ভোটারদের পূর্ণ অধিকার নিশ্চিত হওয়া।”

বর্তমান প্রেক্ষাপটে আওয়ামী লীগ ছাড়া একটি জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করার চেষ্টা, ইইউ-এর কাছে প্রহসনের শামিল হতে পারে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

এই পরিস্থিতি ইইউ-কে জটিল এক কূটনৈতিক চাপে ফেলেছে। একদিকে তারা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সুশাসনের পৃষ্ঠপোষক হিসেবে বাংলাদেশে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দেখতে চায়। অন্যদিকে, শেখ হাসিনার দল আওয়ামী লীগের নির্বাচন থেকে নির্বাসন আন্তর্জাতিকভাবে নির্বাচনকে সন্দেহজনক করে তুলতে পারে। এ অবস্থায়, ইইউ যদি মনে করে যে নির্বাচন পর্যাপ্ত অংশগ্রহণমূলক নয়, তারা ‘পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ দল’ পাঠানো থেকে সরে দাঁড়াতে পারে।

ইইউর একটি সূত্র স্পষ্ট করে বলেছে—

“আমরা নির্বাচন পর্যবেক্ষণ করি তখনই, যখন অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতা বজায় থাকে।”

আর তাই আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা যদি তাদের দৃষ্টিতে গণতন্ত্রের পরিপন্থী হয়ে দাঁড়ায়, তাহলে তারা এই নির্বাচনের স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানাতেও পারেন।

স্মরণযোগ্য যে, ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে ইইউ পূর্ণাঙ্গ পর্যবেক্ষণ দল পাঠায়নি। তারা সীমিত অনুসন্ধানী দল পাঠিয়েছিল, যা একটি রাজনৈতিক বার্তা বহন করেছিল। একইভাবে এবারও তারা পুরো মূল্যায়ন শেষে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারে যে—এই নির্বাচন ‘অগ্রহণযোগ্য’ এবং ‘অনির্বাচনী শাসনের ধারাবাহিকতা’।

একইসাথে, ১৩ জুন লন্ডনে অনুষ্ঠিত বৈঠকে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের মধ্যে নির্বাচনের সম্ভাব্য সময় নিয়ে নীতিগত ঐক্যমত্য হয়। সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, রমজানের আগেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের চেষ্টা থাকবে। কিন্তু আজ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে তারিখ ঘোষণা করেনি। এই বিলম্বকেও ইইউ মূল্যায়নের অংশ হিসেবে বিবেচনা করতে পারে, কারণ নির্বাচন যত পিছাবে, তত আন্তর্জাতিক সন্দেহ বাড়বে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, প্রাক-নির্বাচনী দল বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ, নিরাপত্তা পরিস্থিতি, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা, নাগরিক স্বাধীনতা এবং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা—এসব নিয়েই একটি বিস্তৃত প্রতিবেদন তৈরি করবে। এই রিপোর্টটি ব্রাসেলসে ইইউ সদর দপ্তরে পাঠানো হবে এবং সেই প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে—এটা একটি ‘ভোট’ হবে, নাকি আরেকটি ‘ভাওতাবাজি’।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।