শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

যার সন্তান হারায়নি, সে এর যন্ত্রণা বুঝবে না: শহীদ আল আমিনের মা

 ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর উল্লাসে মেতে ওঠে সারাদেশ। ওই দিন দুপুরের পর থেকেই সব শ্রেণি-পেশার মানুষ বিজয় মিছিল নিয়ে নেমে পড়ে রাস্তায়। সেই মিছিলে পুলিশ ও আওয়ামী সমর্থিত বিভিন্ন সংগঠনের সন্ত্রাসীদের এলোপাথাড়ি গুলিতে শাহাদত বরণ করেন আল আমিন। ৫ আগস্ট দুপুরে সারাদেশের মানুষের মত রাজধানীর বাড্ডা এলাকায়ও […]

যার সন্তান হারায়নি, সে এর যন্ত্রণা বুঝবে না: শহীদ আল আমিনের মা

ছবি: সংগৃহিত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৫, ২০:৪৯

 ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর উল্লাসে মেতে ওঠে সারাদেশ। ওই দিন দুপুরের পর থেকেই সব শ্রেণি-পেশার মানুষ বিজয় মিছিল নিয়ে নেমে পড়ে রাস্তায়। সেই মিছিলে পুলিশ ও আওয়ামী সমর্থিত বিভিন্ন সংগঠনের সন্ত্রাসীদের এলোপাথাড়ি গুলিতে শাহাদত বরণ করেন আল আমিন।

৫ আগস্ট দুপুরে সারাদেশের মানুষের মত রাজধানীর বাড্ডা এলাকায়ও আনন্দ মিছিলে নামে উৎফুল্ল জনতা। মিছিলে যোগ দেন আল আমিন হোসেন আগমন চিশতীও।
পুরো রাজধানী জুড়ে যখন মানুষের বিজয় উৎসব চলছে তখনও বাড্ডা এলাকায় পুলিশ এবং আওয়ামীলিগ ও  এর বিভিন্ন  অঙ্গ সংগঠনের সন্ত্রাসীরা এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। এর এক পর্যায়ে একটি গুলি আল আমিনের মাথায় লাগে। উপস্থিত ছাত্র-জনতা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়, কিন্তু তাতে কোনো লাভ হয়নি। দায়িত্বরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

আল আমিন হোসেন আগমনের গ্রামের বাড়ি বরগুনা সদর উপজেলার নাপিতখালী গ্রামে। তার বাবা হানিফ চিশতী (৬৬)। মা মনিহার বেগম (৪৬)। আল আমিনের তিনটি ছোট বোন রয়েছে। তিনি বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত ছিলেন । স্বেচ্ছাসেবক দল ভাটারা থানার যুগ্ম আহ্বায়কের দায়িত্বে ছিলেন আল আমিন।
রাজধানীর পল্টনের অফিসে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা বাসস-এর প্রতিবেদকের সাথে আলাপকালে গণ-অভ্যুত্থানে  শহীদ আল আমিন হোসেন চিশতীর বাবা হানিফ চিশতী এসব কথা বলেন।

শহীদ আল আমিন দরিদ্র মানুষকে সবসময় সাহায্য করতেন জানিয়ে বাবা হানিফ চিশতী বলেন, ছেলেটা আমার শান্ত স্বভাবের ছিল।  সে দরিদ্র মানুষকে সহযোগিতা করত। কার ঘরে খাবার নেই, কে টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না-খোঁজ নিয়ে সবাইকে সহযোগিতা করত। আমার ছেলেটার জন্য মহল্লার মানুষ এখনও কাঁদে।
 
৫ আগস্ট দুপুর ৩ টার দিকে বাড্ডা থানায় প্রবেশের মুখের রাস্তায় (ফুলকলি মিষ্টির দোকানের সামনে) গুলিবিদ্ধ হন তিনি। ৬ আগস্ট বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সামনে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এরপর আল আমিনের লাশ ৭ আগস্ট দুপুরের দিকে বরগুনার নাপিত খালি গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

বাবা হানিফ চিশতী বলেন, ‘ও আমার একমাত্র সন্তান ছিল। বিএনপির রাজনীতি করার কারণে বিগত ১৬ বছর ওর সাথে আমার ঠিক মত দেখা হয়নি। পুলিশের গ্রেফতারের ভয়ে সে কখন কোথায় থেকেছে তার ঠিক ছিল না।’
তিনি বলেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন যখন শুরু হয় তখন থেকেই সে আন্দোলনে সক্রিয় হয়ে পডে। বাসায় ঠিক মত আসত না। ফোনেই ওর সাথে বেশি যোগাযোগ হত।আমি অফিসের কাজে ব্যস্ত থাকতাম।

শহীদ আল আমিনের বাবা হানিফ চিশতী বলেন, বিকেল সাড়ে ৩ টার দিকে আমার এক আত্মীয় ফোন করে জানায় আল আমিনের গুলি লাগছে। এই কথা শুনে বলি, কোথায় আছে আল আমিন? তখন সে বলে বাড্ডায় যেতে। আমি সেখানে গিয়ে শুনি ওকে ঢাকা মেডিকেলে নেওয়া হয়েছে। পরে অনেক কষ্ট করে ঢাকা মেডিকেলে যাই।

সেদিন পুরো ঢাকা ছিল মিছিলের নগরী। ঢাকা মেডিকেলে পৌঁছে দেখে একের পর এক লাশ আর আহত রোগী আসছে। চারদিকে শুধু মানুষের কান্নার রোল। পরে অনেক সময় খোঁজাখুজি করে মর্গে গিয়ে আল আমিনের লাশ পাই। দেখি, গুলিতে ঝাঁজরা রক্তমাখা নিথর দেহ পড়ে আছে। ডাক্তার বলেন, আপনার ছেলে মারা গেছে, দ্রুত লাশ নিয়ে যান।

গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আল আমিনের মা মনিহার বেগম বলেন, ‘যার সন্তান হারায়নি, সে সন্তান হারানোর যন্ত্রণা বুঝবে না। এখনো শুনতে পাই, আল আমিন আমাকে মা মা বলে ডাকছে। কিন্তু আমার বাবা তো চলে গেছে অনেক দূরে। বিগত ১৬ বছর আমার ছেলেডারে ঠিক মত রান্না করে খাওয়াতে পারি নাই।’

আল আমিন হোসেন শহীদ হওয়ার ঘটনায় ২১ সেপ্টেম্বর বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন তাঁর মা মনিহার বেগম। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে প্রধান আসামি করা হয়। এছাড়াও এই মামলায় আরও ২৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।