শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

ঐকমত্য বাড়িয়ে নির্বাচন অর্জনের বছর

ঘটনাবহুল এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে বিদায় নিয়েছে ২০২৪ সাল। কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আগে বছরের শেষ দিনটিতে রাজধানী ঢাকার শহীদ মিনারে ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যাতে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র প্রস্তুত করে জাতির সামনে পাঠ করার দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। বছরের শেষপ্রান্তে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র যখন ছাত্ররা […]

নিউজ ডেস্ক

০১ জানুয়ারী ২০২৫, ১৩:৫৯

ঘটনাবহুল এক ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের সাক্ষী হয়ে বিদায় নিয়েছে ২০২৪ সাল। কালের গর্ভে হারিয়ে যাওয়ার আগে বছরের শেষ দিনটিতে রাজধানী ঢাকার শহীদ মিনারে ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে, যাতে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র প্রস্তুত করে জাতির সামনে পাঠ করার দাবি জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা।

বছরের শেষপ্রান্তে জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র যখন ছাত্ররা প্রস্তুত করছিল তখন অন্তর্বর্তী সরকার থেকে জানানো হয়েছে সব রাজনৈতিক দল ও অংশীজনের সঙ্গে কথা বলে তারা জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র প্রস্তুত করবেন, যা বিলম্বিত হলেও যার মধ্যে নিহিত রয়েছে সমন্বয় ও জাতীয় ঐকমত্যের বার্তা।
এদিকে রাজনৈতিক দলগুলো নির্বাচনের প্রশ্নে সরব হয়েছে বছরের শেষ দিনগুলো থেকেই। সরকার প্রণীত বিভিন্ন কমিশনও জোরেশোরে কাজ করছে, যা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কারের দিকনির্দেশক হয়ে দিশা জাগাবে বলে ধারনা করা হচ্ছে।

এমতাবস্থায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট বিপ্লবাত্মক পরিস্থিতি পেরিয়ে বাংলাদেশ তিনটি চ্যালেঞ্জ সামনে নিয়ে মুখোমুখি হয়েছে নতুন বছরের। একদিকে রয়েছে বিপ্লব সম্পৃক্ত ছাত্রজনতার সংস্কার ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা। অন্যদিকে রয়েছে রাজনৈতিক দলগুলোর নির্বাচনের দাবি। এই দুই জনপ্রত্যাশার সমন্বয় ও ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার বাস্তবতা রয়েছে ত্রিভুজের তৃতীয় বাহুর মতো প্রসারিত। এই তিন সক্রিয় ইস্যুকে সঙ্গী করে বাংলাদেশে এসেছে নতুন বছর: ২০২৫ সাল।

প্রকৃতির চিরাচরিত নিয়মে সারা বিশ্ববাসীর মতোই নতুন বছরের আগমনী বার্তায় বাংলাদেশও উদ্বেলিত। যাবতীয় চ্যালেঞ্জের মধ্যেও সঞ্চারিত রয়েছে নবতর আশাবাদ। নব উদ্যমে সুন্দর আগামীর পথচলার জন্য অনুপ্রেরণার দোলা দিচ্ছে নতুন বছরের নতুন প্রতীতি ও প্রত্যয়। নতুন বছরের এই মাহেন্দ্রক্ষণে সকল চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে নতুন সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে উন্নতির নতুন শিখরে আরোহণে অঙ্গীকারবদ্ধ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, রাজনৈতিক ও সামাজিক শক্তি, সিভিল সোসাইটি তথা নাগরিক সমাজের প্রতিটি সদস্য।

পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, বাংলাদেশে ক্ষমতার নাটকীয় পরিবর্তনের পর জোর দাবি ওঠে জবাবদিহিতা ও সংস্কারের। বিশেষত, বাংলাদেশের গণতন্ত্র যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে এবং নির্বাচন ও শাসনের ক্ষেত্রে যেসব ত্রুটি-বিচ্যুতি রয়েছে, সেগুলো দূরীকরণের দাবি এজন্য জানানো হয়, যাতে কুশাসন ও স্বৈরতন্ত্রের উত্থানের পথ চিরতরে বন্ধ হয়। একই সঙ্গে, এই জনপ্রত্যাশা জাগ্রত হয়েছে যে, সমাজ ও রাজনীতিতে বিভাজন দূর হয়ে মানুষে-মানুষে সম্প্রীতি, সৌহার্দ ও ভ্রাতৃত্বের বন্ধন যেন আরও জোরদার হয় এবং বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে মৌলিক রাজনৈতিক বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠিত হয়।

নববর্ষের প্রাক্কালে প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, “ছাত্র-শ্রমিক-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার লাখো শহিদের রক্ত ও গত জুলাই-আগস্ট মাসে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে অর্জিত স্বাধীনতাকে সর্বদা সমুন্নত রাখার অঙ্গীকার করছে। আমরা দেশকে ভালোবাসবো, দেশের মানুষের সার্বিক কল্যাণে সর্বশক্তি নিয়োগ করবো এবং যেকোনো সন্ত্রাসবাদকে প্রতিহত করবো।” তিনি নতুন বছরে দেশের সামগ্রিক রূপান্তরের একটি পর্বে উপনীত হওয়ার আশা পোষণ করেন এবং অতীতের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্র ও সমাজে সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান।

নতুন বছরে অমিত সম্ভাবনার পথে এগিয়ে যাক বাংলাদেশ, এমন আশা কেবল শাসনের সঙ্গে জড়িতরাই নন, সকল মানুষের কামনা। সাধারণ মানুষ চায়, বাংলাদেশ থেকে চিরদিনের জন্য দূর হয়ে যাক সব অন্যায়-উৎপীড়ন, নির্যাতন, দুর্নীতি ও কুশাসন। সকলেই এমন একটি জাতি নির্মাণের প্রত্যাশা করেন, যেখানে প্রত্যেকটি নাগরিকই গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রত্যেকের কণ্ঠ স্বাধীন থাকবে।

এদিকে, জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও এ প্ল্যাটফরমের নেতাদের নিয়ে গঠিত জাতীয় নাগরিক কমিটি একটি রাজনৈতিক দল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে। অল্প কয়েক দিনের মধ্যেই এই দলের আত্মপ্রকাশ হতে পারে। নতুন বছরে রাজনীতির মাঠে নতুন এই দলের আবির্ভাব বদলে দিতে পারে পরিস্থিতি। তবে, অতীতের মতো কিংস পার্টির রূপে নতুন দল এলে তা রাজনীতির মাঠে কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে কিনা, সেটাও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনাযোগ্য বিষয়।

সামগ্রিকভাবে, ২০২৫ সালে একদিকে বিপ্লবী ছাত্রতরুণদের পক্ষে সংস্কার ও পরিবর্তনের দাবি আর অন্যদিকে রাজনৈতিক দলগুলোর তরফে নির্বাচনের দাবির মাঝখানে একটি সমন্বয়রেখা টানার বিষয়টিই সবচেয়ে জরুরি ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রূপে প্রতিভাত হতে পারে। যে চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য জাতীয় ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করার দিকেই সরকারকে সর্বাধিক মনোযোগী হওয়ার আবশ্যকতা বছরে সূচনালগ্নেই অনুভূত হচ্ছে।

আশাবাদী বাংলাদেশের কাছে ঘটনাবহুল ২০২৪ সাল কঠিন রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, ছাত্র-জনতার আত্মদান এবং অধিকার হারানোর যন্ত্রণা নতুন বছরে যেমন বেদনার্ত করবে সবাইকে, অন্যদিকে তেমনিভাবে নতুন উদ্যোমে শান্তি, সম্প্রীতি ও বহুদলীয় গণতন্ত্রের অধিকার তথা গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পুনঃপ্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ঐকমত্য নিয়ে কাজ করার তাগিদ বহুলভাবে উদ্বুদ্ধ করবে সবাইকে। জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ও ভোটের অধিকার নিশ্চিত করা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান সমূহ শক্তিশালী করা ও অর্থনীতির পুনরুদ্ধারসহ বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুজ্জীবনে আশাও পুনরুজ্জীবিত হবে সংস্কারের পথে ধাবমান ২০২৫ সালের বাংলাদেশে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমে বৈষম্যের পতনের স্মৃতিমাখা বছরের অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করে আগামী দিনগুলোকে শুধরে নেওয়ার প্রস্তুতি নতুন বছরের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে সবাইকে উদ্বেলিত করছে। ফলে অতীত অবক্ষয়ের চিহ্নগুলো সংস্কার ও পরিবর্তনের সমান্তরালে উত্থাপিত গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে চিরতরে মুছে দিয়ে বৈষম্য, দুর্নীতি ও কুশাসনমুক্ত গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের পুনরুজ্জীবনে জাতীয় ঐকমত্যভিত্তিক সমন্বিত প্রচেষ্টাই ২০২৫ সালের অন্তর্নিহিত বার্তা।

 

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।