শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

দেশের চাহিদা পূরণের পর উৎপাদিত অতিরিক্ত সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদ যাবে বিদেশে: সেনাপ্রধান

দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সমরাস্ত্র রপ্তানি করতে চায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জলিল টেক্সটাইল মিলের ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমিতে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার (বিওএফ) সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে আধুনিক অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশের প্রয়োজন মেটানোর […]

দেশের চাহিদা পূরণের পর উৎপাদিত অতিরিক্ত সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদ যাবে বিদেশে: সেনাপ্রধান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৮ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫২

দেশের প্রতিরক্ষা বাহিনীর চাহিদা পূরণের পাশাপাশি সমরাস্ত্র রপ্তানি করতে চায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। এ লক্ষ্যে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জলিল টেক্সটাইল মিলের ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমিতে বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার (বিওএফ) সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে আধুনিক অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেছেন, দেশের প্রয়োজন মেটানোর পর অতিরিক্ত সমরাস্ত্র বিদেশে রপ্তানি করে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। প্রতিরক্ষা শিল্পকে রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তর করতে চান তারা।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে জলিল টেক্সটাইল মিল প্রাঙ্গণে জমি হস্তান্তর ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন সেনাপ্রধান। এ সময় সরকারের পক্ষ থেকে প্রতীকী মূল্যে ৫৪ দশমিক ৯৯ একর জমি বাংলাদেশ সমরাস্ত্র কারখানার জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমরা খালি এই প্রতিরক্ষা শিল্প নিজের প্রয়োজন মেটানোই নয়, আমরা এটাকে রপ্তানিমুখী শিল্পে রূপান্তর করতে চাচ্ছি।’

তার ভাষ্য, এ প্রকল্পে জলিল টেক্সটাইল থেকে ছাঁটাই হয়ে চলে যাওয়া শ্রমিকের তুলনায় দ্বিগুণ-তিনগুণ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। একই সঙ্গে এখান থেকে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগ তৈরি হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের তৈরি অ্যাসল্ট রাইফেল, অ্যামুনিশন ও গোলাবারুদের বিদেশে চাহিদা রয়েছে। বিভিন্ন দেশ এসব পণ্য বাংলাদেশ থেকে কিনতে আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে রপ্তানির ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন কেস-টু-কেস ভিত্তিতে দেওয়ার প্রক্রিয়া থাকায় জটিলতা তৈরি হচ্ছে বলে জানান তিনি।

সেনাপ্রধান বলেন, ‘আপনি কিছু রপ্তানি করবেন, তারপর আমি একটা চিঠি দেব; চিঠি অ্যাপ্রুভ হয়ে আসতে আসতে লাগবে দেড় মাস, দুই মাস। এইভাবে কোনো রপ্তানিমুখী শিল্পের প্রসার সম্ভব নয়।’

তার মতে, অস্ত্র রপ্তানির ক্ষেত্রে জবাবদিহি নিশ্চিত করার পাশাপাশি একটি নির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। তাহলে দ্রুততার সঙ্গে সমরাস্ত্র রপ্তানি করা সম্ভব হবে এবং এ খাত থেকে বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যাবে।

ফৌজদারহাটে জলিল টেক্সটাইলের জায়গাটি বেছে নেওয়ার কারণও তুলে ধরেন সেনাপ্রধান। তিনি বলেন, ‘জায়গাটি চট্টগ্রাম বন্দরের কাছাকাছি। ফলে উৎপাদিত পণ্য পরিবহন ও রপ্তানির ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা দেবে। পাশাপাশি পাহাড়ঘেরা হওয়ায় বিস্ফোরক বা বিস্ফোরকজাতীয় সরঞ্জাম উৎপাদনে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলেও আশপাশের মানুষের ক্ষয়ক্ষতির ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে কম থাকবে।’

সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমরা যা কিছু ফায়ার করব, সেগুলো সব আমরা নিজেরা তৈরি করব। কারণ আমদানি করে যুদ্ধ করা সম্ভব না।’

দেশের তিন বাহিনীর পাশাপাশি পুলিশ, আনসার ও অন্যান্য প্যারামিলিটারি বাহিনীর জন্যও সমরাস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদনের পরিকল্পনার কথা জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের নিজস্ব প্রয়োজনীয়তা অবশ্যই পূরণ করা হবে। এরপর অতিরিক্ত উৎপাদিত সমরাস্ত্র বিদেশে রপ্তানি করা হবে। এ জন্য সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, বিশ্বে প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। কম মূল্যে ড্রোনসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্রের চাহিদা রয়েছে। সরকার অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা পণ্য রপ্তানিতে সব ধরনের সহযোগিতা করবে।

জানা গেছে, ১৯৬১ সালে সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাটে প্রায় ৫৫ একর জমির ওপর জলিল টেক্সটাইল মিল প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠানটি জাতীয়করণ করে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) অধীনে নেওয়া হয়। একসময় সুতা ও কাপড় উৎপাদনে প্রতিষ্ঠানটির সুনাম ছিল এবং মানসম্মত উৎপাদনের জন্য তিনবার জাতীয় স্বর্ণপদকও পেয়েছিল। তবে লোকসান ও নানা সংকটে ২০০৪ সালে এর উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকার পর এখন সেই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জায়গায় গড়ে উঠতে যাচ্ছে দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের নতুন অবকাঠামো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই উদ্যোগের মাধ্যমে দেশের সমরাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রতিরক্ষা খাতে স্বনির্ভরতা অর্জনের পথ আরও শক্তিশালী হবে।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।