প্রধানমন্ত্রীর এ সিদ্ধান্তে সরকারের প্রায় ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আপ্যায়ন ব্যয়েও উল্লেখযোগ্য কাটছাঁট করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
প্রতিবছর বাজেট পাসের দিন রাতে জাতীয় সংসদ ভবনে অর্থ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে নৈশভোজের আয়োজন করা হয়। এতে প্রধানমন্ত্রী, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তা এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। তবে এবার ব্যয় সংকোচনের নীতির কারণে সেই আয়োজন বাতিল করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব জানান, বিগত সরকারের সময়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়ন খাতে বছরে ৩০ থেকে ৫৫ কোটি টাকা ব্যয় হতো। এর বাইরে অতিরিক্ত আরও ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ের নজিরও রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় হয়েছিল ৩০ কোটি ২ লাখ ৯৭ হাজার ৩৩৫ টাকা।
তিনি আরও জানান, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য খাবার সরবরাহ করত। সে সময়ের বিপুল অঙ্কের বকেয়া বিল এখনো পরিশোধ করা বাকি রয়েছে, যা বর্তমান সরকার পর্যায়ক্রমে পরিশোধ করছে।
অতিরিক্ত প্রেস সচিবের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তারেক রহমান আপ্যায়ন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছেন। চলতি মাসে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আপ্যায়নে ব্যয় হয়েছে ১১ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। এছাড়া দুই ঈদ উপলক্ষে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে আপ্যায়ন বাবদ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯০ লাখ টাকা।
তিনি আরও বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পাসের দিন প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান সকাল পৌনে ১০টায় জাতীয় সংসদে উপস্থিত হন এবং পুরো অধিবেশনজুড়ে বাজেটের মঞ্জুরি দাবি, ভোটগ্রহণ ও আইন প্রণয়ন কার্যক্রমে অংশ নেন। অধিবেশনের বিরতির সময়ও তিনি দাপ্তরিক দায়িত্ব পালন করেন এবং জরুরি বিভিন্ন ফাইলে স্বাক্ষর করেন।
উল্লেখ্য, গত ১১ জুন জাতীয় সংসদে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করেন। পরে বিভিন্ন মঞ্জুরি দাবি নিষ্পত্তির পর জাতীয় সংসদে সর্বসম্মতিক্রমে বাজেট পাস হয়।