স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এম এ মুহিত বলেছেন, বিরোধী দল বারবার সংস্কারের কথা বললেও তারা শুধু সেই সংস্কারের কথা বলে, যা তাদের ক্ষমতার ভাগ নিশ্চিত করবে। কিন্তু স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার নিয়ে তারা কখনোই কথা বলেনি।
রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও দুঃশাসনের কারণে দেশের স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করছে।
স্বাস্থ্য খাতের বাজেট নিয়ে তিনি বলেন, এবারের বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রায় দ্বিগুণ করে ৬৯ হাজার কোটি টাকা করা হয়েছে। এর লক্ষ্য একটি সহজলভ্য, সাশ্রয়ী ও অন্তর্ভুক্তিমূলক স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলা, যেখানে ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবাই মানসম্মত চিকিৎসাসেবা পাবেন।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতে বিনিয়োগ শুধু হাসপাতাল নির্মাণ নয়; এটি মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি, দারিদ্র্য হ্রাস, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক বৈষম্য কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ডা. মুহিত জানান, দেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশই ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, কিডনি রোগসহ অসংক্রামক রোগে ঘটে। পাশাপাশি মহামারি, দ্রুত নগরায়ণ এবং চিকিৎসা ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি স্বাস্থ্য খাতের বড় চ্যালেঞ্জ।
তিনি বলেন, বর্তমানে চিকিৎসা ব্যয়ের প্রায় ৭৯ শতাংশ রোগীকেই নিজের পকেট থেকে বহন করতে হয়, যা অনেক দেশের তুলনায় অত্যন্ত বেশি। তাই সরকার পরিকল্পনাহীন অবকাঠামো নির্মাণের পরিবর্তে স্বাস্থ্যব্যবস্থার মৌলিক সংস্কারে গুরুত্ব দিচ্ছে।
বিরোধী দলের সমালোচনার জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে সংসদে গঠনমূলক আলোচনা হলে সরকার তা স্বাগত জানাত। তিনি স্বাস্থ্য খাতে অবকাঠামো, জনবল, ব্যবস্থাপনা, বিকেন্দ্রীকরণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার এমন একটি স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়, যেখানে শহর ও গ্রামের মানুষ সমান মানের চিকিৎসাসেবা পাবে এবং রোগের চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।