বৈশ্বিক যুদ্ধ ও জ্বালানি সরবরাহে অস্থিরতার মধ্যেও বাংলাদেশে জ্বালানির কোনো সংকট সৃষ্টি হয়নি বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক উপদেষ্টা ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে জ্বালানি সংকট দেখা দিলেও বাংলাদেশে তেল সরবরাহ সবসময় স্থিতিশীল ছিল এবং এখনও রয়েছে।
শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেট-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
উপদেষ্টা জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার রাষ্ট্রীয় অনুসন্ধান সংস্থা বাপেক্সকে পুনরুজ্জীবিত করছে। পাশাপাশি স্থল ও সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান জোরদার করা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে ৫ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ চলছে।
তিনি বলেন, সমুদ্রসীমা অর্জনের পরও গত ১৭ বছরে সেখানে কার্যকর গ্যাস অনুসন্ধান হয়নি। স্থলভাগের সম্ভাবনাময় গ্যাসক্ষেত্রগুলোতেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগের ঘাটতি ছিল। অথচ বাপেক্সের সফলতার ইতিহাস রয়েছে। বর্তমান সরকার আমদানিনির্ভরতা কমাতে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও সক্রিয় করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ লক্ষ্যে বাপেক্সের জন্য আরও পাঁচটি রিগ সংগ্রহ করা হবে এবং দেশের বিভিন্ন এলাকায় গ্যাস অনুসন্ধান কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে। গভীর সমুদ্রে অনুসন্ধানে অভিজ্ঞতার সীমাবদ্ধতার কারণে আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোকে বিনিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
জ্বালানি আমদানির বিষয়ে তিনি বলেন, বৈশ্বিক অস্থিরতা ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে কাতার ও সৌদি আরবের সঙ্গে কিছু চুক্তিতে ‘ফোর্স মেজর’ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ফলে বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি সংগ্রহ করতে হয়েছে।
তিনি জানান, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে প্রায় আড়াই বিলিয়ন ডলারের তেল কেনা হয়েছে। যুদ্ধ ও বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেও দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা সম্ভব হয়েছে এবং কোনো তেল সংকট তৈরি হয়নি।
বিদ্যুৎ খাতের আর্থিক চাপের প্রসঙ্গে উপদেষ্টা বলেন, অতীতে উচ্চমূল্যে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে বিদ্যুৎ কিনলেও তা তুলনামূলক কম দামে ভোক্তাদের কাছে সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে ভর্তুকির বড় অংশ সরকারকে বহন করতে হচ্ছে।