বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

এমন প্রশ্ন করবেন না, বিদ্যুৎমন্ত্রী কেন নাটোরে বিয়ে করেননি: স্পিকার

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ ধারায় নোটিশ উত্থাপন এবং মন্ত্রীর জবাবের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম হাস্যরসের ছলে সরকার দলীয় হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে বলেন, আপনি মন্ত্রীকে একটা সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন করতে পারেন। এমন প্রশ্ন করবেন না যে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রী কেন নাটোরে বিয়ে করে নাই? বুধবার (১০ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় […]

এমন প্রশ্ন করবেন না, বিদ্যুৎমন্ত্রী কেন নাটোরে বিয়ে করেননি: স্পিকার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ জুন ২০২৬, ০০:৪৪

জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ ধারায় নোটিশ উত্থাপন এবং মন্ত্রীর জবাবের পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম হাস্যরসের ছলে সরকার দলীয় হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে বলেন, আপনি মন্ত্রীকে একটা সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন করতে পারেন। এমন প্রশ্ন করবেন না যে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রী কেন নাটোরে বিয়ে করে নাই?

বুধবার (১০ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় ও প্রথম বাজেট অধিবেশনের চতুর্থ দিন কার্যপ্রণালি বিধির ৭১ বিধি অনুসারে জরুরি জনগুরুত্বপুর্ণ নোটিশ উত্থাপন এবং মন্ত্রীর জবাবে পর স্পিকার এ কথা বলেন সরকার দলীয় হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে। এ সময় সংসদ সদস্যদের মধ্যে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।

নোটিশের জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা দিয়া ২০০৫ সালে নাটোরে গ্যাস দেওয়ার জন্য ওখানে উত্তরাঞ্চল গ্যাস সঞ্চালন কোম্পানি গঠন করেছিলেন এবং সেই কাজও শুরু হয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারে এসে সেই কাজটা বন্ধ করে দিয়েছে এবং সেই সময় এই কাজটা করতে মাত্র ৮১ হাজার কোটি টাকা লাগতো কিন্তু তারা ২০১২ সালে এই প্রকল্পটি বন্ধ করে দেয়। এখন আমাদের দেশে গ্যাসের সঞ্চালন কমেই কমে যাচ্ছে। তার কারণ হচ্ছে এই ফ্যাসিস্ট সরকার গত ১৭/১৮ বছর একটা কূপও খনন করে নাই।

এই ১৭/১৮ বছরে যদি বছরে যদি চারটি করে কূপ খনন করত আমি মনে করি আমাদের দেশে গ্যাস আছে এবং গ্যাসের উত্তোলন হতো। শুধু তাই না উনারা সমুদ্র বিজয় করছিলেন। সমুদ্র বিজয় করে কত রকমের আতশবাসী জ্বালিয়েছিল কিন্তু সমুদ্রের নিচে যে গ্যাস আছে, তেল আছে, সেটা আহরণ করেন নাই।

মন্ত্রী বলেন, আমরা দায়িত্বভার গ্রহণ করার পরে আমাদের নির্বাচনী ওয়াদা এবং আমাদের ১৮০ দিনের যে পরিকল্পনা অনুসারে আমরা আমাদের বাংলাদেশের অপশোর এবং অনশোর গ্যাস উত্তোলন করার জন্য অলরেডি আমরা পেপারে বলছি পেপারে আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি দেশি বিদেশি কোম্পানিকে।

এই গ্যাস উত্তোলন করার জন্য এগিয়ে আসার জন্য এবং আমাদের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অতি দ্রুত আমাদের পাপেক্সের যে কয়টা কূপ আছে আরও পাঁচটা কূপ সংযুক্ত করে আমরা আমাদের কূপ খনন করে দ্রুত বাংলাদেশের গ্যাসের যে পরিস্থিতি উত্তরণ করার জন্য।

মন্ত্রী আরও বলেন, এখন নাটর বাংলা ভাষায় আমার শ্বশুরবাড়ি এখানে তো গ্যাস দিতেই হবে কিন্তু যখন গ্যাস পাব এই যে আমরা গ্যাস উত্তোলনের চেষ্টা করছি যখন গ্যাস পাব দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া যে কাজ শুরু করে দিয়ে গিয়েছিলেন আমরা ইনশাল্লাহ সেটাকে শেষ করব।

আলোচনায় অংশ নিয়ে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে হুইপ এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলূ বলেন, আসলে উনি নিজেই স্বীকার করেছেন বা আপনি (স্পিকার) নিজেও জানেন যে আমি এর আগেও বলেছি উত্তরে। সেটা হচ্ছে নাটোর অ্যাকচুয়ালি ঐতিহ্যবাহী বনলতা সেন। আপনি জানেন রানী ভবানীর নাটর একসময় এই রানী ভবানী সৈন্য দিয়ে নোয়াসিরা দলকে সাহায্য করেছিল। তো এটা একটা ঐতিহ্যবাহী শহর।

এই শহরে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্যার সাড়ে তিন বছরের শাসন আমলে ১৩বার রাত্রি যাপন করেছেন উত্তরা গণভবনে। উনি এতই গুরুত্ব দিয়েছেন তার শাসন আমলে এবং বেগম খালেদা জিয়াও নাটোরে তিনদিন রাত্রি যাপন করেছেন। আমি মনে করি নাটর একটা গুরুত্বপূর্ণ এবং আমার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সাহেব উনি প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগে অসংখ্যবার নাটরে গিয়েছেন উনিও রাত্রি যাপন করেছেন।

আমি এই সমস্ত দিক বিবেচনা করি যেহেতু উনি আমার দুলাভাই, উনি নাটরে বিয়ে করেছেন এবং নাটোরে জনগণের প্রত্যাশা উনি ওই পলিটিক্যাল কথা বললেন। উনাকেই বলতে হবে যেহেতু নাটোর দিয়ে রাজশাহীতে গ্যাস গিয়েছে নাটোরের উপর দিয়ে। যেহেতু ফ্যাসিস্ট সরকার শাসন আমলে আপনারা জানেন জবাবদিহিতা ছিল না।

আর নাটোরে যারা রাজনীতিবিদ ছিল সন্ত্রাসী এদের ভোটে কখনও এমপি হয় নাই। যার জন্য প্রয়োজন বোধ করে নাই। কিন্তু এখন যেহেতু পলিটিক্যাল গভর্নমেন্ট এসেছে আর আমাদের নেতা তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী উনিও একজন রাজনীতি পরিবার থেকে এসেছেন, আমাদের প্রত্যাশা নাটোরের মানুষের, উনি কবে নাগাদ… যেহেতু নাটোরে গ্যাস গিয়েছে। কবে নাগাত গ্যাসের সংযোগ দিবেন? এটাই তার কাছে আমি প্রশ্ন করছি।

স্পিকার বিদ্যুৎ মন্ত্রীকে বলেন, মন্ত্রী কবে নাগাদ গ্যাস দেবেন।

এ সময় দাঁড়িয়ে বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, আমাদের সাহেব যেভাবে বললেন এত মানে শ্বশুরবাড়ির আবদার হয়ে গেল। আমি তো বলেছি আমি তো বলেছি যে আমরা কেবল কূপ খনন করা শুরু করেছি, আমরা টেন্ডার আহ্বান করেছি যাতে বাংলাদেশে ইন্টেনসিভ এক্সপ্লোরেশন করা হয় এবং গ্যাস আবিষ্কার করা হয়। গ্যাস আবিষ্কার হওয়ায় এই কোটি টাকার যে প্রকল্পটা বন্ধ হয়ে গেছে। আমি আশা করি আমাদের নেতা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এই নাটোরে গ্যাস যাবে এবং উদ্বোধন করা হবে।

জাতীয়

মাদ্রাসা ছাত্ররা ভালোভাবে কোরআন শেখেনি বলেই আমরা ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে পারছিনা : শিক্ষামন্ত্রী

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার […]

নিউজ ডেস্ক

১৫ এপ্রিল ২০২৬, ১৮:০৮

দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার নানা সীমাবদ্ধতা তুলে ধরে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি বলেছেন, মাদরাসা থেকে পাস করা অনেক শিক্ষার্থী প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করতে না পারায় ধর্মীয় শিক্ষক পদে নিয়োগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

বুধবার সিলেটে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, প্রায় ৯ হাজার ধর্মীয় শিক্ষক পদ খালি থাকলেও উপযুক্ত প্রার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। তার মতে, অনেক শিক্ষার্থী কোরআনের যথাযথ জ্ঞান অর্জন করতে পারছে না এবং কওমি ধারার শিক্ষার্থীদের স্বীকৃত সমমানের ডিগ্রির অভাবও একটি বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার এই সমস্যা দীর্ঘদিনের এবং এটি একদিনে তৈরি হয়নি। তিনি শিক্ষা সংস্কারে সরকারের প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া-এর সময়কার শিক্ষা উন্নয়নের কথাও উল্লেখ করেন।

নৈতিক শিক্ষার ঘাটতির বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন তিনি। তার মতে, পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও ধর্মীয় শিক্ষার ওপর জোর না দিলে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়।

এই প্রেক্ষাপটে তিনি শিক্ষা ব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন এবং যোগ্য শিক্ষক তৈরি ও নিয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

জাতীয়

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর […]

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ: তদন্তের মুখে পুলিশ বাহিনীর সাড়ে ৯ হাজার নিয়োগ

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০৯:৪৭

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ পাওয়া সাড়ে নয় হাজারের বেশি সদস্যের নিয়োগপ্রক্রিয়া খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তাঁদের নিয়োগ যাচাই-বাছাই করে তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে ইতিমধ্যে নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এই পুলিশ সদস্যদের মধ্যে দেড় হাজারজন উপপরিদর্শক (এসআই) পদে এবং কনস্টেবল পদে আট হাজারের বেশি নিয়োগ পেয়েছিলেন। তাঁরা গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ, মাদারীপুর ও শরীয়তপুরের বাসিন্দা। অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের অনেকে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী অথবা দলীয় রাজনীতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পরিবারের সদস্য।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্র জানায়, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা কোটা লঙ্ঘন এবং স্থায়ী ঠিকানার তথ্য গোপন করে রাজনৈতিক প্রভাবে অনিয়মের মাধ্যমে এসব উপপরিদর্শক ও কনস্টেবলকে নিয়োগ দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে পুলিশ সদর দপ্তর এসব নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে। অসংগতি পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিগত সরকারের (আওয়ামী লীগ সরকার) আমলে পুলিশের নিয়োগে বিভিন্ন পর্যায়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। অনেকে স্থায়ী ঠিকানা পরিবর্তন করে ও অনিয়মের মাধ্যমে নিয়োগ পেয়েছেন। বিষয়গুলো তদন্তের জন্য পুলিশ সদর দপ্তরকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্তে যেন কারও প্রতি অন্যায় বা জুলুম করা না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের অনিয়ম করার সাহস কেউ না পায়, সে লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর দ্বিতীয় বৈঠকেই পুলিশের এসব নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাইয়ের নির্দেশ দিয়েছেন। এই তদন্ত করবে মূলত পুলিশ সদর দপ্তর এবং এ বিষয়ে যেকোনো সহায়তা দেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ঠিকানা পরিবর্তন, কোটা জালিয়াতি এবং ‘ছাত্রলীগ কোটা’ থেকে সরাসরি নিয়োগ পাওয়া এক হাজার ২১৭ জনসহ নানা অনিয়মের মাধ্যমে অন্তত দেড় হাজার উপপরিদর্শক ও আট হাজারের বেশি কনস্টেবলের নিয়োগপ্রক্রিয়া পুনরায় যাচাই-বাছাই করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। পরে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সূত্র বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৫ বছরে সারা দেশে পুলিশ বাহিনীতে প্রায় ৪৫ হাজার সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। তাঁদের মধ্যে উপপরিদর্শক অন্তত ১০ হাজার ও কনস্টেবল পর্যায়ে ৩৫ হাজার।

বিএনপি ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, বিগত আওয়ামী লীগ সরকার দলীয় লোকজনকে পুলিশ বাহিনীতে নিয়োগ দিয়েছে। পুলিশকে দলীয়করণের মাধ্যমে রাজনৈতিক কাজে অর্থাৎ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের ধরপাকড়, গুম, হত্যা, নির্যাতন ও দমন-পীড়নে ব্যবহার করেছে।

পুলিশের সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, কনস্টেবল নিয়োগের ক্ষেত্রে জেলাভিত্তিক কোটা থাকলেও তা লঙ্ঘন করে গোপালগঞ্জসহ বৃহত্তর ফরিদপুর, কিশোরগঞ্জ ও মাদারীপুরের বিপুলসংখ্যক লোক নিয়োগ করা হয়। এসব অঞ্চলে কোটার ৩ গুণেরও বেশি লোক নিয়োগ দেওয়া হয়। বৃহত্তর ফরিদপুর অঞ্চল থেকে ১০ হাজার এবং কিশোরগঞ্জ থেকে ৭ হাজার পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়। শুধু গোপালগঞ্জ জেলা থেকেই নিয়োগ পান ৮ হাজার জন। মাদারীপুর ও শরীয়তপুর জেলা থেকেও বিপুলসংখ্যক পুলিশ সদস্য নিয়োগ দেওয়া হয়।

এর বাইরে ঢাকা জেলার ধামরাই উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা সাজিয়ে এক হাজার লোককে কনস্টেবল পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। এই নিয়োগ হয় ২০১১ সাল থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে। ভুয়া জমির দলিল ও জাল নাগরিক সনদের ভিত্তিতে অন্য জেলার লোকদের ধামরাই উপজেলার বাসিন্দা দেখিয়ে কনস্টেবল পদে নিয়োগের ব্যবস্থা করে পুলিশের ভেতরের আওয়ামী লীগপন্থী একটি চক্র।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, কনস্টেবলদের মতো উপপরিদর্শক পদে আট ব্যাচের নিয়োগেও জেলা কোটা মানা হয়নি। গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুরের প্রার্থীদের বেশি নিয়োগ দেওয়া হয়। অন্য জেলার নিয়োগের ক্ষেত্রে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছিল আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মী এবং দলীয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত পরিবারের সদস্যদের।

উপপরিদর্শক নিয়োগ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০১২ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত আটটি (৩৩তম থেকে ৪০তম) ব্যাচে অন্তত ১০ হাজার উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। ২০১৮ সালে সরকারি চাকরিতে নিয়োগে কোটা বাতিলের পরিপত্র জারির আগপর্যন্ত মুক্তিযোদ্ধা, জেলা, নারী, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী—এই পাঁচ ক্যাটাগরিতে মোট ৫৬ শতাংশ কোটা ছিল।

৩৬তম থেকে ৪০তম ব্যাচের নিয়োগ পর্যালোচনায় দেখা যায়, জেলা কোটা অনুযায়ী গোপালগঞ্জের শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ প্রার্থী নিয়োগের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ পায় ৩ দশমিক ৮৮ শতাংশ, যা সংখ্যায় ২৩২ জন। ফরিদপুরের ক্ষেত্রে ১ দশমিক ৩৩ শতাংশের সুযোগ থাকলেও নিয়োগ দেওয়া হয় ১৮৭ জনকে। শূন্য দশমিক ৮১ শতাংশ কোটার সুযোগ থাকা মাদারীপুর থেকে নিয়োগ পান ১৩৩ জন। এভাবে কোটা লঙ্ঘন করে ৫৫২ জন উপপরিদর্শক নিয়োগ করা হয়। এই ব্যাচগুলোতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া ৬৬৫ জন রয়েছেন। জনশ্রুতি রয়েছে, তাঁরা সরাসরি ছাত্রলীগ-সম্পৃক্ত কোটায় নিয়োগ পেয়েছেন।

অভিযোগ রয়েছে, ২০১৪ সালের দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই উপপরিদর্শকদের নিয়োগ দিয়ে মাঠে নামাতে নানা অনিয়ম করা হয়। দুই বছরের প্রশিক্ষণ কমিয়ে এক বছর করা হয়। লিখিত পরীক্ষা শেষে মৌখিক পরীক্ষা (ভাইভা) নেওয়ার আগেই পুলিশ ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়।

সার্বিক বিষয়ে সদ্য বিদায়ী পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজি) বাহারুল আলম বলেন, সচিবালয়ে এক বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিগত সময়ে অনিয়ম ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া পুলিশ সদস্যদের নিয়োগপ্রক্রিয়া যাচাই-বাছাই করে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। কোনো ধরনের অসংগতি পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে মন্ত্রীর বার্তা পুলিশ সদর দপ্তরে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। তদন্ত কমিটি গঠন করে নিয়োগ যাচাই-বাছাই করবে পুলিশ সদর দপ্তর।

পুলিশ সদর দপ্তরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৫ মার্চ এক অফিস আদেশে জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের (টিআরসি) শনাক্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট জেলার পুলিশ সুপারকে প্রধান করে চার সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠনের বিষয়টিও এতে জানানো হয়েছে। অতিরিক্ত ডিআইজি (রিক্রুটমেন্ট অ্যান্ড ক্যারিয়ার প্ল্যানিং-১) মো. আবু হাসানের সই করা ওই অফিস আদেশ দেশের সব জেলার পুলিশ সুপারদের পাঠানো হয়েছে।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।