শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

সীমান্তে বদলে গেছে খেলা, বিএসএফকে চোখ রাঙাচ্ছে বিজিবি

ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে বিজিবিকে “নতজানু” করে রাখা হয়েছিল। এর ফলে সীমান্তে যথাযথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিজিবি এখন চোখ রাঙাচ্ছে বিএসএফকে। দেশের বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর ‘পুশইন’ চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিচ্ছে। সম্প্রতি লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নওগাঁ ও যশোরসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কঠোর অবস্থান এবং […]

সীমান্তে বদলে গেছে খেলা, বিএসএফকে চোখ রাঙাচ্ছে বিজিবি

সীমান্তে বদলে গেছে খেলা, বিএসএফকে চোখ রাঙাচ্ছে বিজিবি

নিউজ ডেস্ক

০৭ জুন ২০২৬, ১১:১৩

ফ্যাসিস্ট হাসিনার শাসনামলে বিজিবিকে “নতজানু” করে রাখা হয়েছিল। এর ফলে সীমান্তে যথাযথ প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিজিবি এখন চোখ রাঙাচ্ছে বিএসএফকে।

দেশের বিভিন্ন সীমান্তে ভারতীয় বাহিনীর ‘পুশইন’ চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিচ্ছে। সম্প্রতি লালমনিরহাট, পঞ্চগড়, নওগাঁ ও যশোরসহ বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় বিজিবির কঠোর অবস্থান এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতায় এসব চেষ্টা প্রতিহত হয়েছে।

পাটগ্রামে এক ভারতীয় নাগরিককে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার সাপ্পারবাড়ি সীমান্তে শনিবার দুপুরে ভারতীয় ১৫৬ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের দাওয়ারীকামার ক্যাম্পের সদস্যরা একজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

বিজিবির কালিরহাট বিওপি সূত্র জানায়, দুপুর ১২টার দিকে ওই ব্যক্তিকে জোরপূর্বক পুশইনের চেষ্টা করলে বিজিবি টহল দল বাধা দেয়। পরে বিএসএফ সদস্যরা পিছু হটে তাকে নিয়ে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরে যায়। ঘটনাস্থলে থাকা বিজিবি কর্মকর্তারা জানান, ওই ব্যক্তি সীমান্তের জিরো লাইনের ভারতীয় অংশে অবস্থান করছেন।

পঞ্চগড়ে ১০ জনকে নিয়ে ৩০ ঘণ্টার অচলাবস্থা

পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি সীমান্তে নারী, শিশু ও পুরুষসহ ১০ জনকে পুশইনের চেষ্টা ঘিরে প্রায় ৩০ ঘণ্টা ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে। শুক্রবার ভোর থেকে তারা ভারতীয় শূন্যরেখায় অবস্থান করছে।

বিজিবি জানায়, পতাকা বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিজিবির অবস্থান হলো—আইনগত প্রক্রিয়া ছাড়া তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

ভুক্তভোগীরা দীর্ঘ সময় ধরে অনাহারে ও অনিরাপদ অবস্থায় থাকলেও বিজিবি তাদের শুকনো খাবার সরবরাহ করেছে বলে জানা গেছে। বিজিবি-বিএসএফ পর্যায়ের একাধিক বৈঠকেও সমাধান আসেনি।

নওগাঁয় ১৭ জনকে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ

নওগাঁর সাপাহার সীমান্তে ১৭ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে পুশইনের চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। বিজিবির শক্ত অবস্থানের কারণে দীর্ঘ ১৯ ঘণ্টা শূন্যরেখায় আটকে থাকার পর শেষ পর্যন্ত তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেয় বিএসএফ।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাতের আঁধারে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ফেরত নিয়ে যায়। বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, মানবিক বিবেচনায় প্রথমে তাদের শূন্যরেখায় থাকতে দেওয়া হলেও পরে পরিস্থিতি বিবেচনায় ফেরত পাঠানো হয়।

বেনাপোলে স্থানীয়দের সঙ্গে মিলিত হয়ে প্রতিরোধ

যশোরের বেনাপোল সীমান্তেও একই ধরনের পুশইন চেষ্টার অভিযোগ ওঠে। সেখানে প্রায় ৮–১০ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে স্থানীয়রা জানান।

তবে বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের যৌথ অবস্থানে বিএসএফের সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে শূন্যরেখায় অবস্থানরত ব্যক্তিদের ভারতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।

বিজিবির ৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে জোরপূর্বক পুশইন গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি দাবি করেন, যাচাই-বাছাই ছাড়া কাউকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়া আইনগতভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

পাটগ্রাম ও অন্যান্য সীমান্তে বিজিবির সতর্ক অবস্থান

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম সীমান্তে বিজিবির নায়েব সুবেদার আব্দুল মাজেদ জানান, পুশইনের চেষ্টা হলে সঙ্গে সঙ্গে কঠোর প্রতিবাদ জানানো হয় এবং বিএসএফ পিছু হটতে বাধ্য হয়।

এছাড়া সীমান্তজুড়ে বিজিবির টহল জোরদার করা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ ঠেকাতে অতিরিক্ত নজরদারি চলছে বলে জানিয়েছে বাহিনীটি।

স্থানীয়দের ভূমিকা ও মানবিক পরিস্থিতি

একাধিক সীমান্ত এলাকায় স্থানীয় জনগণ বিজিবির সঙ্গে একাত্ম হয়ে অবস্থান নিয়েছে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে বেনাপোল সীমান্তে গ্রামবাসীরা রাতেও টর্চ হাতে পাহারায় অংশ নেয় বলে স্থানীয় সূত্র জানায়।

অন্যদিকে পঞ্চগড় সীমান্তে আটকে পড়া নারী, শিশু ও পুরুষরা মানবিক সংকটে পড়েছেন। তারা খোলা আকাশের নিচে দীর্ঘ সময় অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।

নওগাঁ ও বেনাপোল সীমান্তে সফল প্রতিরোধ

নওগাঁ ও বেনাপোলে বিজিবির কঠোর অবস্থানের কারণে শেষ পর্যন্ত বিএসএফ তাদের পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে নেয় বলে জানা গেছে। দুই স্থানে স্থানীয় জনগণের সহযোগিতাকে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বিজিবি।

বিজিবি-বিএসএফ পতাকা বৈঠকেও অগ্রগতি নেই

বিভিন্ন সীমান্তে একাধিক পতাকা বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সমাধান আসেনি। বিজিবির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী পরিচয় যাচাই না করে কাউকে বাংলাদেশে পাঠানোর সুযোগ নেই।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।