‘দেশ রসাতলে যাবে, আর বসে থাকবো- দেখি না কী হয়। তাতো হতে পারে না। এতটা ঠান্ডা মাথার সুশীল অন্তত আমি নই।’ ফেসবুক পোস্টে নিজের অবস্থান এভাবেই স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন সিনিয়র সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক মঞ্জুরুল আলম পান্না।
পাঠকদের জন্য তার পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হলো। পান্না লিখেছেন, ‘এতটা ঠান্ডা মাথার সুশীল অন্তত আমি নই….১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর বিভিন্ন টকশোতে, এমনকি আমার নিজের ইউটিউব চ্যানেল ‘মানচিত্রে’ অসংখ্যবার বলেছি- এই সরকারকে সময় দিতে চাই, অন্তত তিন মাস।
এত দ্রুত সমালোচনা করা ঠিক হবে না। কিন্তু আমি নিজেই আমার কথা রাখতে পারিনি। এক/ দেড় মাসের মাথায় বিভিন্ন ইস্যুতে সমালোচনা না করে থাকতে পারিনি। যথরীতি আমাকে নতুন করে বলা শুরু হল- ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে আওয়ামী লীগকে ফিরিয়ে আনার ন্যারেটিভ তৈরি করছি।
এতে কিছু যায় আসে না। অভ্যস্ত হয়ে গেছি। পেশাগত জায়গা থেকে আওয়ামী সরকারের সমালোচনা করতে গিয়ে ‘বিএনপি-জামায়াতের দালাল’ ট্যাগ পেয়েছি, শেষ দশ বছর প্রায় বেকার থাকতে হয়েছে।
ইউনুসের জঙ্গি শাসনের সময় কারাগারে থাকতে হয়েছে প্রায় তিন মাস, ট্যাগ পেয়েছি কালাচারাল ফ্যাসিস্ট থেকে শুরু করে ফ্যাসিবাদের দোসর হিসেবে। এখন আবার আওয়ামী লীগের দালাল বানানো হবে, এর সবই চলছে হিসেব অনুযায়ি।’
এরপর তিনি লিখেন, ‘যা হোক। দেশের সার্বভৌমত্ব বিসর্জন দেয়া কথিত মার্কিন বণিজ্য চুক্তির কাজ বীরদর্পে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া, হামে শতশত শিশুর মৃ/ত্যূ নিয়ে সংসদে ন্যুণতম আলোচনা করার সাহস না থাকা,
ইউনুসসহ সাবেক উপদেষ্টাদের সেইফ এক্সিট দেয়া, পুলিশ হত্যার বিচার না করা, আওয়ামী লীগকে প্রায় নি/ষিদ্ধ রাখতে নির্বাহী আদেশকে আইনে পরিণত করা, যু/দ্ধাপরাধীদের মৃ/ত্যূতে সংসদে শোক প্রস্তাব গ্রহন, সুপ্রিম কোর্ট বার কাউন্সিলের নির্বাচনসহ অন্যান্য নির্বাচনে আওয়ামীপন্থী আইনজীবীদের প্রার্থীতা বাতিল, ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণ বাজানোর অপরাধে কারাগারে নিক্ষেপসহ গত তিন মাসে আরও অনেক বিষয় ঘটেছে, যা কোনভাবেই চলতে পারে না। দেশ রসাতলে যাবে, আর বসে থাকবো- দেখি না কী হয়। তাতো হতে পারে না। এতটা ঠান্ডা মাথার সুশীল অন্তত আমি নই।’