আগামীকাল সিলেট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী—এমন ঘোষণাকে ঘিরে পুরো অঞ্চলজুড়ে তৈরি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবারের মতো শনিবার (২ মে) সিলেট সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ সফরে ক্রীড়া, উন্নয়ন ও ঐতিহ্যের সমন্বয়ে একাধিক কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর হাত ধরে শুরু হতে যাচ্ছে তরুণদের জন্য বিশেষ ক্রীড়া উদ্যোগ ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। একই সঙ্গে উদ্বোধন করা হবে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্প। সফরকে কেন্দ্র করে সিলেটে ইতোমধ্যে সাজসাজ রব বিরাজ করছে।
জেলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠানে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন তিনি। সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের অংশ হিসেবে নেওয়া এই কর্মসূচিতে ফুটবল, ক্রিকেট, কাবাডিসহ মোট আটটি খেলায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাবে দেশের তরুণরা।
সিলেটের ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. নূর হোসেন জানান, বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের খেলোয়াড়দের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী মতবিনিময় করবেন। এ উপলক্ষে ক্রীড়াবিদ, সংগঠক, কোচ ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও উচ্ছ্বাস দেখা গেছে।
সফরের অংশ হিসেবে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প এবং কান্দিগাঁওয়ের বাসিয়া খাল খনন কার্যক্রমসহ কয়েকটি উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
সিলেটে পৌঁছে তিনি হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন এবং বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেবেন। দরগাহ-এ-হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর খাদেম সামুন মাহমুদ খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে তারা অত্যন্ত আনন্দিত; এর আগে তার বাবা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানও এখানে সফর করেছিলেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এক দলীয় কর্মী বলেন, এ সফরের মাধ্যমে সিলেটের উন্নয়নে নতুন গতি আসবে বলে তারা আশা করছেন।
সিলেট বিএনপির এক নেতা জানান, প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে সিলেটে এসেছিলেন। এখন তাঁরই সন্তান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আসছেন—এটি তাদের জন্য গর্বের বিষয়।
এদিকে সিলেটের পুলিশ সুপার ড. চৌধুরী মো. যাবের সাদেক জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে, তবে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি যেন না হয়, সে বিষয়টিও গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।