শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

প্রশ্নপত্র বিতরণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সরকারের: উপদেষ্টা মাহদী আমিন

চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিতরণে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। একই সঙ্গে অপপ্রচার থেকে সচেতন থাকা জরুরি বলেও মনে করেন তিনি। রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে নিজের ফেসবুকে এক পোস্টে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, […]

প্রশ্নপত্র বিতরণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সরকারের: উপদেষ্টা মাহদী আমিন

প্রশ্নপত্র বিতরণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি সরকারের: উপদেষ্টা মাহদী আমিন

নিউজ ডেস্ক

২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪৬

চলমান এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র বিতরণে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন। একই সঙ্গে অপপ্রচার থেকে সচেতন থাকা জরুরি বলেও মনে করেন তিনি।

রোববার (২৬ এপ্রিল) সকালে নিজের ফেসবুকে এক পোস্টে এ কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র।

প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টাদের মধ্যে মাহদী আমিন শিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসে মাহদী আমিন বলেন, সরকার প্রশ্নপত্র বিতরণে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করছে। পাশাপাশি গুজব রটানো রোধে সার্বক্ষণিক সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অপপ্রচার রোধে সাইবার নজরদারি ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। কোনো চক্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অপতৎপরতা চালানোর চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে, ইনশাআল্লাহ। শিক্ষার্থীদেরও উচিত ফলাফলের আশায় এসব অসৎ কৌশলে জড়িয়ে না পড়া, কারণ গণমানুষের সরকার ‘আনন্দময় শিক্ষা’র যে সংস্কৃতি গড়ে তুলছে, তা এই ধরনের প্রতারণামূলক মানসিকতার সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

ইতোমধ্যে প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, প্রশ্নপত্র দেওয়ার নামে ভুয়া প্রশ্ন সাজিয়ে, এসএসসি পরীক্ষার্থীদের থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার কারণে প্রতারক চক্রের চার সদস্যকে গত কয়েক দিনে গ্রেফতার করেছে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)। গতকাল ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেফতারকৃতরা অবৈধভাবে অর্থনৈতিক লেনদেনের উদ্দেশ্যে একটি স্বচ্ছ, সুন্দর ও সুষ্ঠু পরীক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যাহত করার চেষ্টা করেছে। পাশাপাশি তারা প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজব ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে নৈরাজ্য, হতাশা, উদ্বেগ ও নৈতিক বিপর্যয় সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালায়।

মাহদী আমিন বলেন, ঢাকা শিক্ষা বোর্ড স্পষ্ট জানিয়েছে যে, একটি অসাধু চক্র সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক ও নৈতিক অবক্ষয় সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। চক্রটি অবৈধ অর্থ এবং সরকারের ভাবমূর্তি বিনষ্ট করার উদ্দেশ্যে চলমান পরীক্ষা কার্যক্রমকে ব্যাহত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে। প্রশ্নপত্র ফাঁস সংক্রান্ত ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিষয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ জনগণকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র আরও বলেন, একটি টেলিভিশন চ্যানেলের প্রতিবেদনে প্রশ্নফাঁস নিয়ে যে বিষয়টি সামনে এসেছে, তা বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, এটি প্রকৃত কোনো প্রশ্নফাঁস নয় বরং একটি সুপরিকল্পিত প্রতারণা চক্রের কাজ। চলমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে নানান সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সরকারের মাত্র দুই মাসেই বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান অগ্রগতি ও ইতিবাচক উদ্যোগ সর্বমহলে প্রশংসিত হচ্ছে। আর এই প্রেক্ষাপটে একটি গোষ্ঠী মিসইনফরমেশন ও অপতথ্য ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করছে, যা দুঃখজনক।


তিনি উল্লেখ করেন, প্রতিবেদনে এক পরীক্ষার্থীর বর্ণনায় দেখা যায়, প্রতারকরা রাতে প্রশ্ন দেওয়ার কথা বলে নানা অজুহাত দেয় এবং বলে ‘টেকনিক্যাল সমস্যা’, ‘অল্পক্ষণ পর দেওয়া হবে’ ইত্যাদি। অথচ পরদিন দাবি করা হয়, আগেই প্রশ্ন দেওয়া হয়েছিল। এতে পরিষ্কার বোঝা যায়, তাদের আসলে প্রশ্ন দেওয়ার কোনো সক্ষমতাই ছিল না।

মাহদী আমিন উল্লেখ করেন, চক্রটি প্রথমে লোভনীয় বিজ্ঞাপন দিয়ে টাকা নেয়, এরপর সময়ক্ষেপণ করে এবং শেষপর্যন্ত গ্রুপ বন্ধ করে উধাও হয়ে যায়। তাদের আরেকটি কৌশল হলো, পরীক্ষা শুরুর পর প্রশ্ন সংগ্রহ করে সেটিকে আগে আপলোড করা হয়েছিল, এমনভাবে উপস্থাপন করা, যাতে শিক্ষার্থীরা বিভ্রান্ত হয়ে পরে তাদের ফাঁদে পা দেয়।

ওই চক্রটির প্রসঙ্গে মাহদী আমিন আরও বলেন, মূলত তারা পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর আগের রাতের আপলোড করা ভুয়া প্রশ্নের ছবি সরিয়ে মূল প্রশ্ন রিপ্লেস করে, যাতে পরবর্তীতে যারা প্রশ্ন কিনতে চাইবে, তাদেরকে দেখানো যায় যে তাদের ফাঁস করা প্রশ্ন সঠিক ছিল। ফ্যাসিবাদের সময় থেকেই এই অপকৌশল গ্রহণ করে অস্থিরতা সৃষ্টি করেছিল এই অপচক্র, এবং বর্তমান নির্বাচিত সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এই বিষয়ে সজাগ রয়েছে।

সত্যিকার প্রমাণ না থাকায় সেই বেসরকারি টেলিভিশন নিজ দায়িত্বে প্রতিবেদন সরিয়ে নেয় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা বলেন, তারা (বেসরকারি টেলিভিশন) বক্তব্য প্রদান করে: ‘ডিজিটাল মাধ্যমে প্রচারিত এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস সম্পর্কিত প্রতিবেদনটিতে কিছু ত্রুটি ও ঘাটতি থাকায় বোর্ডের প্রতিবাদলিপির পূর্বেই তা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। আমরা দর্শক ও পাঠকদের নিকট সঠিক ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পৌঁছে দিতে সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’

তবে এরই মধ্যে সামাজিক মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হয়েছে উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, বিভিন্ন ফ্যাক্ট-চেকিং প্ল্যাটফর্মও নিশ্চিত করেছে, এটি প্রশ্নফাঁস নয় বরং পরিকল্পিত প্রতারণা। প্রযুক্তিগত নানা চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও, প্রশ্নপত্রের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যাতে কোনোভাবেই প্রশ্নফাঁস না ঘটে। এই প্রচেষ্টা সফল করতে সকল অংশীজনের সম্মিলিত সহযোগিতা ও দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য।

অপপ্রচারের কান না দিয়ে সচেতন থাকা জরুরি বলেও মনে করেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এই মুখপাত্র। তিনি বলেন, তথ্য যাচাই ছাড়া কিছু বিশ্বাস না করা উচিত, আর সমালোচনাও হওয়া উচিত তথ্যভিত্তিক ও দায়িত্বশীল। সরকার শিক্ষাখাতকে ঢেলে সাজাতে সর্বদা সচেষ্ট, আমরা চাই রাষ্ট্র গঠনের সাথে প্রত্যেকে যে যার জায়গা থেকে অংশগ্রহণ করুক।

১৬ বছরের ফ্যাসিবাদী শাসনামলে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংস করা হয়েছিল উল্লেখ করে মাহদী আমিন বলেন, সেই সময়ে শিক্ষকদের সম্মান, মর্যাদা ও অবস্থান নষ্ট করা, পাঠ্যপুস্তকে বিকৃত ইতিহাস, বিতর্কিত বিষয়বস্তু অন্তর্ভুক্তি এবং মেধার চেয়ে দলীয় আনুগত্যকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদে জাতির চিন্তাশক্তি ও যুক্তি প্রবণতা ধ্বংস করার হাতিয়ার হিসেবে কাজ করেছে।

শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে বর্তমান সরকার নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলেও জানান মাহদী আমিন। তিনি বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করাই জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের মূল লক্ষ্য। তারই ফলে মাত্র দুই মাসে দেশের মানুষকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ও দক্ষতাভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় বহুবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সুনাগরিকের গুণাবলী সম্বলিত শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ আমরা গড়ে তুলবো একটি মেধাভিত্তিক ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।