শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর বঙ্গভবনে নয়, জেলে থাকা উচিত: বদিউল আলম মজুমদার

দেশের রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন ‍চুপ্পুর এখন বঙ্গভবনে থাকার পরিবর্তে জেলখানায় থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগারিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, আমরা চোরদের ধরার ব্যাপারে কথা বলতে চাই। এস আলমের ব্যাংক লুটের সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদেরও ধরতে হবে। এস আলম ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক দখলের সময় জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে […]

রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর বঙ্গভবনে নয়, জেলে থাকা উচিত: বদিউল আলম মজুমদার

রাষ্ট্রপতি চুপ্পুর বঙ্গভবনে নয়, জেলে থাকা উচিত: বদিউল আলম মজুমদার

নিউজ ডেস্ক

২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১০:৪২

দেশের রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন ‍চুপ্পুর এখন বঙ্গভবনে থাকার পরিবর্তে জেলখানায় থাকা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগারিক (সুজন)-এর সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।

তিনি বলেন, আমরা চোরদের ধরার ব্যাপারে কথা বলতে চাই। এস আলমের ব্যাংক লুটের সঙ্গে যারা যুক্ত, তাদেরও ধরতে হবে। এস আলম ২০১৭ সালে ইসলামী ব্যাংক দখলের সময় জেএমসি বিল্ডার্সের প্রতিনিধি পরিচালক হিসেবে লুটের সহযোগী ছিলেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তৎকালীন কমিশনার মো. শাহাবুদ্দিন ‍চুপ্পু। তিনি এখন আমাদের মহামান্য, আছেন বঙ্গভবনে। তার বঙ্গভবনে থাকার পরিবর্তে এখন জেলখানায় থাকা উচিত। এরকম একজন লুটেরার সহযোগী আমাদের রাষ্ট্রপতি। আমরা জাতি হিসেবে আত্মমর্যাদা বোধসম্পন্ন হতে পারি কি না, মাথা উঁচু করে কথা বলতে পারি কি না- সে প্রশ্ন রেখে গেলাম।

শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে ভয়েস ফর রিফর্ম আয়োজিত ‘সংশোধিত ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬ : আবারো ঝুঁকির মুখে ব্যাংকিং খাতের শৃঙ্খলা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে একটি গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, ব্যাংকিং খাতকে যদি শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হয়, তাহলে মোটাদাগে তিনটি জিনিস দরকার। তা হলো- চোরদের ধরে দৃষ্টান্তমূলক কঠোর শাস্তি দেওয়া, এগুলোর পুনরাবৃত্তি যাতে না করতে পারে সেজন্য পদ্ধতিগত সংস্কার দরকার এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানকে শক্ত ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে হবে।

প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ব্যাপারে বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ব্যাংকিং খাতের পুরো প্রক্রিয়া ক্যাশলেস এবং হুন্ডির মাধ্যমে টাকা পাঠানো বন্ধ না হলে কোনো সংস্কার কাজে আসবে না। আর বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বাধীন ও শক্তিশালী করা দরকার। স্বাধীন না থাকায় ফ্যাসিবাদের প্রধানমন্ত্রী তার আত্মীয়স্বজনদের বসিয়ে চুরি ও লুটপাট করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংককে স্বাধীন করার জন্য আমরা ঐকমত্য কমিশন থেকে সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছিলাম। কিন্তু এটা গ্রহণযোগ্য হয়নি। আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে চেয়েছিলাম, যাতে তার রক্ষাকবচ তৈরি হয় এবং লুটেরা বসতে না পারে।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের সাবেক মহাপরিচালক তৌফিক আহমদ চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশে অনেক আইন আছে কিন্তু বাস্তবায়ন নেই। আর আমাদের দেশে যত আইন করা হয়, সেগুলো আগের আইন থেকে অপরাধীদের বাঁচাতেই করা হয়, তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের জন্য নয়। ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬-এর ক্ষেত্রেও একই কাজ হয়েছে। সরকার আমানতকারীদের কথা না ভেবে অপরাধীদের বেইল আউট করার সুযোগ দিচ্ছে। কিন্তু প্রতিটি ব্যাংক ও বাংলাদেশ ব্যাংক আমানতকারীদের সব টাকা ফেরত দিতে বাধ্য। শুধু আমানত বীমার দুই লাখ টাকা নয়; সম্পূর্ণ টাকা ফেরত দিতে হবে। এটা বাংলাদেশ ব্যাংকের নৈতিক নয়, আইনি দায়িত্ব। কারণ, প্রতিটি ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকই লাইসেন্স দিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকের লাইসেন্স দেওয়া হলেও কার্যকর ‘এক্সিট পলিসি’ গড়ে ওঠেনি। উন্নত দেশগুলোয় লোকসানে পড়া ব্যাংক কীভাবে বাজার থেকে বের হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট নীতিমালা রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যাংক টিকিয়ে রাখতে রাষ্ট্রীয় অর্থ সহায়তার প্রবণতা দেখা যায়, যার দায় শেষ পর্যন্ত জনগণের ওপর পড়ে।

ব্যাংক খাতে বেড়ে ওঠা খেলাপি ঋণ প্রসঙ্গে তৌফিক আহমদ বলেন, ইচ্ছাকৃত ও অনিচ্ছাকৃত খেলাপিদের আলাদা করে দেখতে হবে। ইচ্ছাকৃত খেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পরিবর্তে বারবার ঋণ পুনঃতফসিলের সুযোগ দেওয়ায় এ খাতে নতুন করে শৃঙ্খলাহীনতা তৈরি হচ্ছে। অপরাধের শাস্তি নিশ্চিত না হলে কোনো আইন কার্যকর হবে না।

ইউনিভার্সিটি অব লন্ডনের (সোয়াস) অধ্যাপক ড. মুশতাক খান বলেন, ব্যাংক খাতে আস্থা ফিরিয়ে আনতে কোনো ব্যাংক হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ, ব্যাংকগুলো পারস্পরিকভাবে সংযুক্ত। একটি ব্যাংক বন্ধ হলে এর প্রভাব অন্য সুস্থ ব্যাংকেও ছড়িয়ে পড়তে পারে, যেটাকে বলা হয় ‘ব্যাংক রান’। তিনি সতর্ক করে বলেন, ব্যাংক লুটেরাদের শাস্তি না হলে দ্বিতীয় দফা ‘ব্যাংক রান’-এর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে, যা পুরো খাতকে অস্থির করে তুলবে।

ভয়েস ফর রিফর্মের উদ্যেক্তা ও সংগঠক ফাহিম মাসরুরের সঞ্চালনায় এতে আরো উপস্থিত ছিলেন- নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস অ্যান্ড ইকোনমিকসের ডিন অধ্যাপক একেএম ওয়ারেসুল করিম, প্রথম আলোর হেড অব অনলাইন শওকত হোসেন, জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, সিএফএ সোসাইটির সভাপতি আসিফ খান, বাংলাদেশ থাই চেম্বারের সভাপতি ও গার্মেন্টস উদ্যোক্তা শামস মাহমুদ।

বক্তারা বলেন, সংসদে পাস হওয়া সংশোধিত ‘ব্যাংক রেজুলেশন আইন, ২০২৬’ দেশের ব্যাংকিং খাতকে আবারও ঝুঁকির মুখে ফেলতে যাচ্ছে। এ আইনের ১৮(ক) ধারার সুযোগ নিয়ে অতীতে যারা দেশের ব্যাংকিং খাতকে পরিকল্পিতভাবে লুট করেছে, তাদের আবার মালিকানায় আসার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ব্যাংক খাত পুনর্গঠনের সফল উদাহরণ রয়েছে। কোথাও দুর্বল ব্যাংক বন্ধ করা হয়েছে, কোথাও একীভূত করা হয়েছে। একাধিক দুর্বল ব্যাংক একত্র করে টেকসই সমাধান পাওয়া কঠিন, বিশেষ করে যখন ঋণ পাচারের মতো জটিল সমস্যা বিদ্যমান।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।