শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নেমেছে, লোডশেডিং আরও বাড়বে

ভারতের আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট গতকাল ভোরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায়—আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, যা কয়লার ঘাটতি ও সীমিত গ্যাস সরবরাহের সংকট জর্জরিত দেশের ভঙ্গুর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ […]

আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নেমেছে, লোডশেডিং আরও বাড়বে

আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ অর্ধেকে নেমেছে, লোডশেডিং আরও বাড়বে

নিউজ ডেস্ক

২৩ এপ্রিল ২০২৬, ১০:২৬

ভারতের আদানি পাওয়ারের একটি ইউনিট গতকাল ভোরে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ায়—আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশে লোডশেডিং পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এর ফলে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, যা কয়লার ঘাটতি ও সীমিত গ্যাস সরবরাহের সংকট জর্জরিত দেশের ভঙ্গুর বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নতুন করে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি করেছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) জানিয়েছে, গতকাল রাত ১টায় কারিগরি ত্রুটির কারণে আদানির বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ১ নম্বর ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। এতে সেখান থেকে বিদ্যুৎ আমদানি প্রায় ১,৫০০ মেগাওয়াট থেকে কমে ৭৬৪ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।

বাংলাদেশের জাতীয় গ্রিড বর্তমানে চরম চাপের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, কারণ বিদ্যুৎ উৎপাদন ১৫,০০০ মেগাওয়াটের ‘পিক ডিমান্ড’ বা সর্বোচ্চ চাহিদার তুলনায় অনেক নিচে অবস্থান করছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল রাত ১টায় ১৫,২০০ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে উৎপাদন ছিল মাত্র ১৩,১৯৮ মেগাওয়াট।

গ্রীষ্মের ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রার কারণে বিদ্যুৎ সংকটের এই প্রায় ২,০০০ মেগাওয়াট ঘাটতি—যা গত সোমবারের পরিস্থিতিরই পুনরাবৃত্তি—সরবরাহ স্থিতিশীল রাখতে বিদ্যুৎ খাতের ক্রমাগত লড়াইকে স্পষ্ট করে তুলেছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে শিল্পোৎপাদন ও জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে, যার মধ্যে গ্রামীণ জনপদগুলো সবচেয়ে দীর্ঘস্থায়ী ব্ল্যাকআউটের শিকার হচ্ছে।

অঞ্চলভেদে লোডশেডিংয়ের মাত্রায় বড় ধরনের ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। গাজীপুরে লোডশেডিংয়ের হার ২৮ শতাংশের কাছাকাছি থাকলেও, সাভারে তা ৪৫ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। সিলেটে প্রায় ৪০ শতাংশ লোডশেডিং হচ্ছে। অনেক এলাকায় দিনে কয়েকবার ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না, আর গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিংয়ের স্থায়িত্ব দাঁড়াচ্ছে সাত থেকে দশ ঘণ্টা পর্যন্ত।

বিপিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে জানিয়েছেন, আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের বয়লারের ‘এয়ার প্রি-হিটার’ সংশ্লিষ্ট বিয়ারিংয়ের সমস্যার কারণে ইউনিট-১ বন্ধ হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “এয়ার প্রি-হিটার বিয়ারিংয়ে কম্পন (ভাইব্রেশন) বেড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের ক্ষতি এড়াতে উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”

বিপিডিবির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, “আদানি আমাদের অবহিত করেছে যে ১ নম্বর ইউনিটটি পুনরায় চালু করতে অন্তত তিন থেকে চার দিন সময় লাগতে পারে।”

পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্য বলছে, পুরোপুরি বন্ধ হওয়ার আগেই আদানির সরবরাহ ১,১০৯ মেগাওয়াটে নেমে এসেছিল এবং রাত ২টার দিকে তা আরও কমে ৭৬৪ মেগাওয়াটে দাঁড়ায়, কারণ বর্তমানে সেখানে মাত্র একটি ইউনিট সচল রয়েছে।

গতকাল দিনের বেলা সর্বোচ্চ চাহিদা ১৫,৪৫০ মেগাওয়াট প্রাক্কলন করা হলেও— উৎপাদন ছিল মাত্র ১৩,১১২ মেগাওয়াট। ফলে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২,৩৩৮ মেগাওয়াটেরও বেশি। বিপিডিবি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন যে, আদানির সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় আগামী দিনগুলোতে চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান আরও বাড়তে পারে।

চাপে এপ্রিল-মে মাসের উৎপাদন পরিকল্পনা

গ্রীষ্মের সর্বোচ্চ চাহিদা মেটাতে, বিপিডিবি এর আগে এপ্রিল ও মে মাসে ১৭,৫০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরিকল্পনা করেছিল। ওই পরিকল্পনা অনুযায়ী—৫,৬০০ মেগাওয়াট গ্যাস থেকে, ৬,০০০ মেগাওয়াট কয়লা থেকে, ১,৪৩৫ মেগাওয়াট আদানি পাওয়ার থেকে, ৩,৫০০ মেগাওয়াট তরল জ্বালানি এবং প্রায় ১,০০০ মেগাওয়াট এইচভিডিসি আমদানির মাধ্যমে আসার কথা ছিল।

বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মেরুদণ্ড হিসেবে পরিচিত গ্যাসচালিত কেন্দ্রগুলো বর্তমানে গ্যাস সংকটের কারণে সক্ষমতার অনেক নিচে কাজ করছে। বিপিডিবির তথ্যানুসারে, ২১ এপ্রিল বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে গ্যাস সরবরাহ ছিল দৈনিক প্রায় ৮৯১.৬ মিলিয়ন ঘনফুট (এমএমসিএফডি), যা দিয়ে ৪,৬০০ থেকে ৫,০০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

যদিও গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের স্থাপিত সক্ষমতা প্রায় ১১,০০০ মেগাওয়াট, বর্তমান সরবরাহ পরিস্থিতিতে প্রকৃত উৎপাদন কদাচিৎ ৫,০০০-৫,১০০ মেগাওয়াট ছাড়ানো সম্ভব হয়। কর্মকর্তারা বলছেন, অতিরিক্ত ১০০-১৫০ এমএমসিএফডি গ্যাস পাওয়া গেলে উৎপাদন ৬,০০০ মেগাওয়াটের কাছাকাছি নেওয়া সম্ভব, তবে বর্তমান সংকটের মধ্যে গ্যাসের এই সরবরাহ পাওয়ার বিষয়টিও অনিশ্চিত।

কয়লা সংকটে জর্জরিত কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো

কয়লা সংকটের কারণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনও চাপের মুখে রয়েছে। আগের পরিকল্পনায় কয়লা থেকে ৬,০০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য থাকলেও—প্রকৃত উৎপাদন ৪,৫০০ থেকে ৪,৬০০ মেগাওয়াটের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে। গতকাল বিকেল ৪টায় কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে উৎপাদন ছিল ৪,৬০৫ মেগাওয়াট।

চলতি এপ্রিল মাসের ভ্যাপসা গরমে ১,৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এসএস পাওয়ার প্ল্যান্টের উৎপাদন কমে যাওয়া— লোডশেডিং সামাল দেওয়ার চেষ্টাকে আরও জটিল করে তুলেছে। কয়লা সংকটে কেন্দ্রটির একটি ইউনিট বন্ধ এবং অন্যটি মাত্র ৩০০ মেগাওয়াট উৎপাদন করায়—এটি এখন সক্ষমতার অনেক নিচে চলছে।

বিপিডিবির সূত্রমতে, গ্রীষ্মের চাহিদা মেটাতে এসএস পাওয়ার একটি নির্ভরযোগ্য কেন্দ্র হলেও কয়লা সংকটে এটি এখন সক্ষমতার চেয়ে কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। কর্মকর্তারা জানান, আগামী রোববারের মধ্যে কয়লার নতুন চালান আসার কথা রয়েছে, ফলে আগামী সপ্তাহ থেকে এর সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

এ ছাড়া ১,৩২০ মেগাওয়াট পটুয়াখালী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট সক্ষমতার নিচে চলছে, যা উৎপাদন করছে মাত্র ৩০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিট এখনো চালু হয়নি। অন্যদিকে, ১,২০০ মেগাওয়াট মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্র থেকে প্রায় ৯০০-৯৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে।

তরল জ্বালানিভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে ৩,৫০০ মেগাওয়াট উৎপাদনের পরিকল্পনা থাকলেও, বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহের অনিশ্চয়তার কারণে ফার্নেস অয়েল ব্যবহারের ক্ষেত্রে বিপিডিবি বর্তমানে সতর্ক অবস্থান নিয়েছে। পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশের তথ্যমতে, গত ১৩ এপ্রিল সন্ধ্যায় ফার্নেস অয়েল বা এইচএফও-ভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে ২,৯৪৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছিল।

অন্যান্য উৎস ও আমদানি

গতকালকের বিদ্যুৎ উৎপাদনের মিশ্রণে ছিল গ্যাস থেকে ৫,০৯৬ মেগাওয়াট, কয়লা থেকে ৪,৫৫৯ মেগাওয়াট এবং ফার্নেস অয়েল থেকে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট। বাকিটা জলবিদ্যুৎ, সৌর ও বায়ুশক্তি থেকে যোগান দেওয়া হয়েছে।

আদানির বিঘ্নিত সরবরাহ (৭৫১ মেগাওয়াট) ছাড়া গতকাল বিদ্যুৎ আমদানির তালিকায় ছিল এইচভিডিসি লিংকের মাধ্যমে ৯২২ মেগাওয়াট এবং ত্রিপুরা থেকে ১৮৮ মেগাওয়াট।

গ্যাস ও কয়লা সংকট এবং ফার্নেস অয়েল-ভিত্তিক কেন্দ্রগুলোকে সক্ষমতার তুলনায় কম ব্যবহারের ফলে, বিদ্যুৎ ঘাটতি আরও প্রকট হওয়ার বিষয়ে বিপিডিবি কর্মকর্তারা সতর্ক করেছেন। তারা জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহগুলোতে চাহিদা আরও বাড়বে; তাই সারা দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্থিতিশীল না হলে এবং আদানির ইউনিটটি দ্রুত চালু না হলে— দেশজুড়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও তীব্র হতে পারে।

জাতীয়

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে। বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই […]

মোটরসাইকেলসহ সব গাড়ির মালিক-চালকদের জন্য বড় সুখবর

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৭

মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের মোটরযানের কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স জরিমানা ছাড়াই হালনাগাদের সময়সীমা আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়িয়েছে সরকার। এ সময়ের মধ্যে শুধু মূল কর ও ফি পরিশোধ করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

বিআরটিএ জানায়, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো জরিমানা ছাড়াই মোটরযানের ফিটনেস, ট্যাক্স-টোকেন ও রুট পারমিটসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হালনাগাদ করা যাবে। একই সুবিধা পাওয়া যাবে ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রেও।

গ্রাহকদের জন্য এটিকে শেষ সুযোগ উল্লেখ করে আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ড্রাইভিং লাইসেন্স হালনাগাদ করে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে সংস্থাটি।

এদিকে, গাড়ি বিক্রির পর দ্রুত মালিকানা পরিবর্তনের বিষয়েও সতর্ক করেছে বিআরটিএ। সড়ক পরিবহন আইন, ২০১৮ অনুযায়ী মোটরযান বিক্রির পর মালিকানা পরিবর্তন বাধ্যতামূলক। কিন্তু অনেক ক্রেতা মালিকানা পরিবর্তন না করেই গাড়ি ব্যবহার করছেন। এতে পুরনো মালিককে বিভিন্ন আইনি ও আর্থিক জটিলতায় পড়তে হচ্ছে।

বিআরটিএ জানিয়েছে, মালিকানা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া এখন আরও সহজ করা হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করার পর বিক্রেতার বায়োমেট্রিক বা আঙুলের ছাপ যাচাই করে একই দিনেই মালিকানা পরিবর্তনের কার্যক্রম সম্পন্ন করা হচ্ছে। নতুন মালিকও ডিজিটাল রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের জন্য বায়োমেট্রিক দিতে পারছেন।

নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী দ্রুত মালিকানা পরিবর্তন না করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে বিআরটিএ।

অন্যদিকে, সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে কার্যকরের অংশ হিসেবে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পয়েন্ট কর্তনের কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। প্রতিটি ড্রাইভিং লাইসেন্সে ১২টি পয়েন্ট থাকে। আইন লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে জরিমানা বা কারাদণ্ডের পাশাপাশি চালকের লাইসেন্স থেকে দোষসূচক পয়েন্টও কেটে নেওয়া হচ্ছে।

জাতীয়

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস। বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার […]

বারিধারায় পাকিস্তানি হাইকমিশনারের বাসভবনে আগুন, আইসিইউতে হাইকমিশনার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৬ আগস্ট ২০২৬, ২২:২৬

রাজধানীর বারিধারায় পাকিস্তান হাইকমিশনারের সরকারি বাসভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাইকমিশনার ইমরান হায়দার ও তার স্ত্রী নাইমা ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাদের চিকিৎসার জন্য গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) ভোরে ৪টা ৫৬ মিনিটে আগুনের সংবাদ পায় ফায়ার সার্ভিস।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফায়ার সার্ভিসের সদরদপ্তরের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম দোলন বলেন, আজ বৃহস্পতিবার ভোর চারটা ৫৬ মিনিটে গুলশান ডিপ্লোমাটিক এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে বারিধারা ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে যায়।

ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট সেখানে গিয়ে দেখতে পায়, রুমে তেমন আগুন নেই তবে ধোয়া ছিল। পরে বালতি ও মগে করে পানি দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলা হয়।

তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিস পূর্ণাঙ্গ চেক করে মেশিন দ্বারা ধোঁয়া বের করে ফেলে। প্রাথমিকভাবে আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায় বাসায় টিভিতে বৈদ্যুতিক গোলযোগের কারণে আগুনের সৃষ্টি হয়।

জানা যায়, আগুন নিয়ন্ত্রণের সময় এবং পর পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী মোটামুটি সুস্থ ছিলেন। তবে প্রচণ্ড ধোয়া সৃষ্টি হওয়ার কারণে তারা অসুস্থ হয়ে পড়লে সকাল ৯টার দিকে তাদের গুলশানের কন্টিনেন্টাল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

সন্ধ্যার পর কন্টিনেন্টাল হাসপাতালের অ্যাডমিশন বিভাগে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, আজ সকালে পাকিস্তানি হাই কমিশনার ও তার স্ত্রী হাসপাতালটিতে ভর্তি হয়েছেন। হাইকমিশনের স্ত্রী বর্তমানে ক্যাবিনে এবং হাইকমিশনার নিজে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

জাতীয়

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও […]

মন্ত্রিসভা থেকে বাদ পড়তে পারেন অনেকেই, নতুন করে আলোচনায় যেসব নাম

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৪ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯

বিএনপি সরকারের প্রথম ছয় মাস পূর্ণ হতে যাচ্ছে আগামী ১৬ আগস্ট। এ সময়কে সামনে রেখে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের বিষয়ে সরকারের ভেতরে জোর আলোচনা চলছে। সরকার ও দলীয় সূত্রের দাবি, কর্মদক্ষতা, প্রশাসনিক সক্ষমতা, জনসম্পৃক্ততা এবং ভাবমূর্তির মূল্যায়নের ভিত্তিতে মন্ত্রিসভায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। এতে কয়েকজন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী বাদ পড়ার পাশাপাশি নতুন মুখ যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গত ছয় মাসে মন্ত্রীদের কার্যক্রম নিয়ে সরকার অভ্যন্তরীণ মূল্যায়ন করছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি, প্রশাসনিক দক্ষতা, জনসেবামূলক কার্যক্রম এবং সরকারের ভাবমূর্তি রক্ষায় ভূমিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব মন্ত্রী বিতর্কে জড়িয়েছেন বা প্রত্যাশিত কর্মদক্ষতা দেখাতে পারেননি, তাদের বিষয়ে আলাদা করে আলোচনা চলছে।

সূত্রগুলো জানায়, বর্তমানে ২৪ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রীর পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হচ্ছে। সেই মূল্যায়নের ফলাফলের ভিত্তিতেই মন্ত্রিসভায় রদবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন এবং প্রয়োজনে মন্ত্রিসভার আকারও বাড়ানো হতে পারে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ে টেকনোক্র্যাট, অতিরিক্ত উপদেষ্টা এবং অভিজ্ঞ রাজনৈতিক ব্যক্তিদের অন্তর্ভুক্তির বিষয়েও আলোচনা রয়েছে। একই সঙ্গে দলের ত্যাগী ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের পাশাপাশি তরুণ সংসদ সদস্যদেরও মন্ত্রিসভায় দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে।

রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি বা স্পিকার পদে নতুন নিয়োগ না হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ড. আব্দুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমানের নাম সম্ভাব্য মন্ত্রী হিসেবে আলোচনায় রয়েছে।

এ ছাড়া নতুন মুখ হিসেবে বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, জাতীয় সংসদের হুইপ এ বি এম আশরাফ উদ্দিন নিজান এবং রকিবুল ইসলাম বকুলের নামও বিভিন্ন মহলে আলোচিত হচ্ছে।

সরকারের শরিক ও সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর কয়েকজন নেতাকেও মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার আলোচনা রয়েছে। এ তালিকায় নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না, সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ, শাহাদাত হোসেন সেলিম এবং বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হকের নাম বিভিন্ন সূত্রে উঠে এসেছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে অন্তত ১২ জন মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করছেন। অতিরিক্ত দায়িত্বের কারণে কিছু মন্ত্রণালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছে সরকার। সে কারণেই দায়িত্ব পুনর্বণ্টনের বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।

সরকারি সূত্রগুলোর ভাষ্য, মন্ত্রীদের মূল্যায়নে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের অগ্রগতি, প্রশাসনিক জটিলতা নিরসন, জনদুর্ভোগ কমাতে নেওয়া উদ্যোগ, মাঠ প্রশাসনের ওপর নিয়ন্ত্রণ, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা এবং জাতীয় সংসদে সক্রিয় অংশগ্রহণের মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রিসভায় থাকা বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, কয়েকজন মন্ত্রী একাধিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অন্যদিকে, কিছু প্রতিমন্ত্রী তুলনামূলক ভালো পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পুনর্গঠনের ক্ষেত্রে তাদের পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। পাশাপাশি সংসদ সদস্য, বিএনপি এবং সমমনা রাজনৈতিক দলের কয়েকজন নেতাও টেকনোক্র্যাট কোটায় মন্ত্রিসভায় যুক্ত হতে পারেন। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী।