শুক্রবার, ২১ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

জাতীয়

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ২০ অধ্যাদেশের বৈধতা হারাচ্ছে শনিবার

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, গণভোট, গুম প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমনসহ গুরুত্বপূর্ণ ২০টি অধ্যাদেশ সাংবিধানিকভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের অনুমোদন না পাওয়ায় শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে তাদের বৈধতা হারাচ্ছে। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পর্যন্ত জাতীয় সংসদ মোট ৯১টি বিল পাস করেছে। এর মধ্যে ৮৭টি বিলের মাধ্যমে ১১৩টি অধ্যাদেশের (কিছু আধ্যাদেশের সংশোধনীসহ) বৈধতা […]

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ২০ অধ্যাদেশের বৈধতা হারাচ্ছে শনিবার

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ এপ্রিল ২০২৬, ০১:১০

অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার, গণভোট, গুম প্রতিরোধ এবং দুর্নীতি দমনসহ গুরুত্বপূর্ণ ২০টি অধ্যাদেশ সাংবিধানিকভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জাতীয় সংসদের অনুমোদন না পাওয়ায় শনিবার (১১ এপ্রিল) থেকে তাদের বৈধতা হারাচ্ছে।

শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পর্যন্ত জাতীয় সংসদ মোট ৯১টি বিল পাস করেছে। এর মধ্যে ৮৭টি বিলের মাধ্যমে ১১৩টি অধ্যাদেশের (কিছু আধ্যাদেশের সংশোধনীসহ) বৈধতা দেওয়া হয়েছে। আরও চারটি বিল পাস করে সাতটি অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে।

তবে সরকার নির্ধারিত ৩০ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বিল সংসদে উত্থাপন না করায় ১৩টি অধ্যাদেশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয় গত ১২ মার্চ। সাংবিধানিক নিয়মে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় জারি করা অধ্যাদেশ অনুমোদনের সময়সীমা ৩০ দিন হিসেবে শুক্রবার (১০ এপ্রিল)।

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, অধ্যাদেশ পর্যালোচনার জন্য গঠিত সংসদীয় বিশেষ কমিটির বৈঠকে যে রাজনৈতিক ঐকমত্য হয়েছিল, সরকার তা ভঙ্গ করেছে।

তিনি বলেন, “কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মারক জাদুঘর বিলটি কোনও পরিবর্তন ছাড়াই পাস করা হবে; কিন্তু তা সংশোধনীসহ গৃহীত হয়েছে।”

শফিকুর আরও বলেন, “সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটিও সিদ্ধান্ত নিয়েছিল যে সব অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হবে। কিন্তু ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হয়নি। ফলে অধ্যাদেশ গুলো শনিবার (১১ এপ্রিল) বাতিল হয়ে যাবে।”

জবাবে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেন, “দুর্নীতি দমন কমিশন ও মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করতে পর্যালোচনার মধ্যে রয়েছে। বিরোধী দলের সঙ্গে পরামর্শ শেষে এগুলো পরে আনা হবে।”

চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি ১৬টি অধ্যাদেশ পরবর্তীকালে সংসদে উপস্থাপনের কথা সংসদকে জানান।

সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল হওয়া সাতটি অধ্যাদেশ হচ্ছে— ‘সুপ্রিম কোর্ট বিচারপতি নিয়োগ অধ্যাদেশ, ২০২৫’, ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’, ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’, ‘জাতীয় সংসদ সচিবালয় (অন্তর্বর্তী বিশেষ বিধান) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ এবং ২০২৪–২০২৫ সময়ে জারি করা জাতীয় মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত তিনটি অধ্যাদেশ।

বাতিল হওয়া ১৩টি অধ্যাদেশ হচ্ছে— ‘গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫’, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং এর সংশোধনী, ‘দুর্নীতি দমন কমিশন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’, ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা অধ্যাদেশ, ২০২৫’ এবং এর সংশোধনী, ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (দ্বিতীয় সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’, ‘কাস্টমস (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’, ‘আয়কর (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’, ‘বেসামরিক বিমান চলাচল (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল এজেন্সি (নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’, ‘মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক অধ্যাদেশ, ২০২৬’ এবং ‘তথ্য অধিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’।

অধ্যাদেশ অনুমোদনের শেষ দিনে জাতীয় সংসদ ২৪টি বিল পাস করে, যার বেশিরভাগ সর্বসম্মতভাবে পাস হয় এবং কয়েকটি বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে গৃহীত হয়।

সর্বসম্মতভাবে পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে— ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবারের ও আহত ছাত্র-নাগরিকদের কল্যাণ ও পুনর্বাসন বিল, ২০২৬’, ‘নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’, ‘বরিশাল উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’, ‘ময়মনসিংহ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’, ‘কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’ ও ‘রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’, ‘আমানত সুরক্ষা বিল, ২০২৬’, ‘আবগারি ও লবণ (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘মূল্য সংযোজন কর ও সম্পূরক শুল্ক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন বিল, ২০২৬’, ‘বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও সুরক্ষা) বিল, ২০২৬’, ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি বিল, ২০২৬’, ‘বিশ্ববিদ্যালয় আইন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘সাইবার নিরাপত্তা বিল, ২০২৬’, ‘গ্রামীণ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘বাংলাদেশ ব্যাংক (সংশোধন) বিল, ২০২৬’, ‘অর্থ বিল (অর্থবছর ২০২৫–২৬), ২০২৬’, ‘মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বিল, ২০২৬’ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) বিল, ২০২৬’।

এদিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মারক জাদুঘর বিল, ২০২৬’ এবং ‘ব্যাংক রেজোলিউশন বিল, ২০২৬’ বিরোধী দলের আপত্তির মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে পাস হয়। অপরদিকে বিরোধী সদস্যদের অনুপস্থিতিতে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) বিল ২০২৬ সংশোধনীসহ পাস করা হয়।

স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ প্রথম অধিবেশন ১৫ এপ্রিল সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেন।

ওয়াকআউটের পর বিরোধী দলের সদস্যরা, শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে, সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে বিরোধীদলীয় প্রধান হুইপ নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে জননিরাপত্তা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো বাতিল হতে দেওয়া হয়েছে, ফলে সংসদ তার প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।

শফিকুর রহমান বলেন, “অধ্যাদেশ বিষয়ক বিশেষ কমিটির প্রতিবেদন বিরোধী দলের মতামত যথাযথভাবে বিবেচনা না করেই চূড়ান্ত করা হয়েছে, যা তিনি আস্থাভঙ্গ হিসেবে উল্লেখ করেন।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, আপত্তি থাকা সত্ত্বেও কয়েকটি বিল অনুপযুক্তভাবে পাস করা হয়েছে।

তিনি বলেন, “কার্য উপদেষ্টা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনে শেষ দিন মধ্যরাত পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু পুলিশ কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন এবং গুম-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করা হয়নি।”

নাহিদ অভিযোগ করেন, ‘ফ্যাসিবাদ টিকিয়ে রাখবে’—এমন পদক্ষেপগুলোই কেবল পাস করা হয়েছে। তিনি আরও দাবি করেন, শেষ মুহূর্তে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মারক জাদুঘর বিলে সংশোধনী এনে প্রতিষ্ঠানটিকে রাজনৈতিক করার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, মন্ত্রীদের তুলনায় বিরোধী সদস্যদের বক্তব্য দেওয়ার সময় সীমিত রাখা হয়েছে, যা প্রক্রিয়াগত ভারসাম্য নষ্ট করেছে এবং স্পিকারের কাছে করা আবেদনগুলোও বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। তিনি বলেন, “এভাবে একটি গণতান্ত্রিক সংসদ চলতে পারে না।”

বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমানের অভিযোগ, নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ থাকা সত্ত্বেও বিরোধী দল বর্তমান সংসদ মেনে নিয়েছিল। এর প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগও তোলেন তিনি।

জাতীয়

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ অংশ নিতে পারবে : প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

নিউজ ডেস্ক

০৯ জুন ২০২৬, ১২:৩৬

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আওয়ামী লীগসহ যেকেউ নির্ধারিত মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে অংশ নিতে পারবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

মঙ্গলবার (০৯ জুন) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

জাতীয়

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় […]

নতুন দায়িত্ব পেলেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বিডা ও এনবিআর চেয়ারম্যান

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০২ জুলাই ২০২৬, ১১:৪২

জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন এবং দেশের ঔষধ খাতের নীতিগত কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে ২৪ সদস্যের জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন করেছে সরকার। নতুন পরিষদে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী এবং সদস্য সচিব থাকবেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব।

একই সঙ্গে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী, বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা)-এর নির্বাহী চেয়ারম্যান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)-এর চেয়ারম্যানকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

নতুন প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২১ জুন ২০২৬ তারিখে জারি করা আগের ২২ সদস্যের পরিষদ বাতিল করা হয়েছে। নতুন আদেশ অনুযায়ী, পরিষদ বছরে অন্তত দুইবার সভা করবে। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সভা আয়োজন এবং বিশেষজ্ঞ সদস্য কো-অপ্ট করার সুযোগও থাকবে।

পরিষদে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি, ফার্মেসি কাউন্সিল, এফবিসিসিআই, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বিএপিআই) এবং বাংলাদেশ ফার্মাসিউটিক্যাল সোসাইটির প্রতিনিধিরাও সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

জাতীয় ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ সরকারের কাছে জাতীয় ঔষধনীতি বাস্তবায়ন, দেশীয় ঔষধ শিল্পের উন্নয়ন, অত্যাবশ্যকীয় ঔষধের তালিকা হালনাগাদ, ঔষধ উৎপাদন, আমদানি ও রপ্তানি-সংক্রান্ত নীতিগত বিষয়ে পরামর্শ দেবে।

পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সমন্বয় জোরদার এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদানেও পরিষদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

জাতীয়

মায়ের গলিত লাশ উদ্ধার, মুখ খুললেন বুয়েট অধ্যাপক ছেলে: আমার মা সিজোফ্রেনিয়ার রোগে আক্রান্ত

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই […]

নিউজ ডেস্ক

০৪ জুন ২০২৬, ১১:১৯

গত ৩১ মে রাজধানীর মিরপুরে নিজ বাসা থেকে উদ্ধার হওয়া ৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ। তার মৃত্যুকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে আলোচনার মধ্যে মুখ খুললেন নিহতের ছোট ছেলে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান। তিনি পরিবারের বিরুদ্ধে ছড়ানো বিভিন্ন তথ্যকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন।

বুধবার (৩ জুন) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এই দাবি করেন।

৭৫ বছর বয়সী নূর জাহান বেগমের মরদেহ গত ৩১ মে রাতে উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি মেয়ে ফাতিমা নাসরীন সুলতানার সঙ্গে বসবাস করতেন। মরদেহ উদ্ধারের পর বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ এবং বৃদ্ধার শারীরিক অবস্থার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বৃদ্ধার এক ছেলে মোংলা স্থলবন্দরের যুগ্ম সচিব। আরেক ছেলে বুয়েটের শিক্ষক। তারা মায়ের কাছে থাকতেন না।

নিহতের ছেলে বুয়েটের অধ্যাপক একেএম আশিকুর রহমান বলেন, মায়ের মৃত্যুতে পরিবার এমনিতেই মানসিক আঘাতের মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার তাদের আরও বিপর্যস্ত করে তুলেছে। মায়ের অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ২০০৯ সাল থেকে দীর্ঘ সময় মা তার সঙ্গেই ছিলেন। করোনাকালেও তিনি মায়ের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ২০২৪ সাল থেকে মা তার মেয়ের সঙ্গে থাকছিলেন।

তিনি জানান, তাদের বাবা মো. আবুল কাশেম ২০০৮ সালে মারা যান। ২০১৭ সালে ফাতিমা নাসরীনের স্বামীর মৃত্যুর পর তিনি একাই মায়ের দেখাশোনা করছিলেন। ফাতিমা নাসরীনের কোনো সন্তান নেই। তার মায়ের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে সন্দেহপ্রবণতা ছিল, যা সিজোফ্রেনিয়ার উপসর্গের সঙ্গে কিছুটা মিল রয়েছে।

একইভাবে স্বামী হারানোর পর তার বোনও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন বলে তিনি মনে করেন। তবে তাদের কাউকেই কখনো আনুষ্ঠানিকভাবে মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের কাছে নেওয়া হয়নি।

বাসার অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সম্পর্কে আশিকুর রহমান বলেন, তার বোন বাইরের গৃহকর্মী রাখতে চাইতেন না। তিনি নিজে কয়েকবার সহায়তার চেষ্টা করলেও তা স্থায়ী হয়নি। এছাড়া মাও অন্যের হস্তক্ষেপ পছন্দ করতেন না। ঘটনার দিন, ৩১ মে বিকেলে ফাতিমা নাসরীন ফোন করে জানান, মায়ের কোনো সাড়া পাওয়া যাচ্ছে না। এরপর নার্স ডাকা, পুলিশকে অবহিত করা এবং পরবর্তী আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয় বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে নূর জাহান বেগমের মরদেহ উদ্ধার প্রক্রিয়ার সময় উপস্থিত থাকা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামছুর রহমান জানান, জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে গিয়ে তিনি বাসাটিকে বসবাসের অনুপযোগী অবস্থায় দেখতে পান। তার দাবি, মরদেহের ডান চোখ ও পিঠে পোকা ছিল। তবে আশিকুর রহমান এ দাবি অস্বীকার করেছেন।

এদিকে পচনধরা মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় মায়ের প্রতি অবহেলার দায়ে ছেলে যুগ্ম সচিব এ কে এম আনিসুর রহমানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার। মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের সদস্য (প্রকৌশল ও উন্নয়ন) পদ থেকে তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (৩ জুন) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে, আনিসুর রহমানকে পদ থেকে সরিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান বশির জানান, বৃদ্ধা তার মেয়ের বাড়িতে থাকতেন। একটি কক্ষে মা ও আরেকটি কক্ষে মেয়ে। রোববার বৃদ্ধার মেয়ে তাকে ডাকতে যান। সাড়া না পেয়ে তিনি একজন নার্সকে ডেকে আনেন।

তিনি ভেবেছিলেন, মা হয়তো অসুস্থ। পরে ওই নার্স রুমে ঢুকে দেখতে পান, বৃদ্ধা মারা গেছেন এবং শরীরে পচন ধরে মাংস খুলে বিছানায় পড়ে আছে। নার্স তাৎক্ষণিক বাইরে এসে লোকজনকে জানান। স্থানীয়রা ৯৯৯-এ কল দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।

তিনি আরও জানান, বৃদ্ধার মেয়েকে দেখে কিছুটা অস্বাভাবিক মনে হয়েছে। মা ঘরে মরে পচে আছে, অথচ নাকে কোনো গন্ধ পাননি তিনি। বিষয়টি পুলিশকে ভাবিয়ে তুলছে। ময়নাতদন্তের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।