‘মিঞাঁ মুসলমানদের’ উচিত আসামে নয়, বাংলাদেশে গিয়ে ভোট দেওয়া—এমন মন্তব্য করে আবারও চরম বিতর্ক উসকে দিয়েছেন ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা। শুধু বক্তব্যেই থেমে না থেকে তিনি প্রকাশ্যেই বলেন,
যেকোনোভাবে যেন মিঞাঁ মুসলমানদের উত্যক্ত করা হয়, যাতে তারা আসাম ছেড়ে চলে যায়। প্রয়োজনে পেটানোর কথাও বলেন তিনি।
মিঞাঁ মুসলমানদের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে তাদের কোনো লুকোচুরি নেই বলেও সাফ জানিয়ে দেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী। গত ২৭ জানুয়ারি তিনসুকিয়া জেলার ডিব্রুগড়ে একটি অনুষ্ঠানে এসব মন্তব্য করেন তিনি।
হিমন্ত বিশ্বশর্মা বলেন,
যদি ‘মিঁয়া মুসলমানদের’ বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের না করা হয়, তাহলে ধরে নিতে হবে আসামে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীর কোনো অস্তিত্ব নেই। তার দাবি, এই জনগোষ্ঠীকে চাপে না রাখলে তারা জমি, সম্পত্তি এবং রাজনৈতিক অধিকার দখল করে নেবে। তিনি এই পরিস্থিতিকে ‘অস্তিত্বের লড়াই’ হিসেবে বর্ণনা করেন এবং জানান, এই লড়াইয়ে ‘প্রতিরোধ’ দেখানোই সরকারের মূল লক্ষ্য।
কীভাবে এই চাপ সৃষ্টি করা হবে, তা নিয়েও প্রকাশ্যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। তিনি বলেন,
‘গুয়াহাটিতে আমি দেখেছি অনেক মুসলমান অটোচালক রয়েছে। তাদের অটোতে উঠবেন এবং নামার পর যদি পাঁচ টাকা ভাড়া চায়, চার টাকা দেবেন। তারা উৎপাত করলে প্রয়োজনে পেটাতে হবে। যেসব জায়গায় তারা কাজের সুযোগ ছিনিয়ে নিয়েছে, সেখানেও আক্রমণ করতে হবে। আমি বিভিন্ন সরকারি বা বেসরকারি প্রকল্পের দায়িত্ব পাওয়া কন্টাক্টারদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের জানিয়েছি, মিঁয়া মুসলমানদের হটিয়ে স্থানীয় অসমীয়াদের সুযোগ দেওয়া হোক। ভোটার তালিকা থেকে শুরু করে কাজের সুযোগ— সব জায়গায় সম্মিলিত আক্রমণ করতে হবে। অসমীয়া হিসেবে এটা আমাদের দায়িত্ব।’
এই বক্তব্যকে ঘিরে দেশজুড়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিবিসি বাংলার খবরে বলা হয়েছে, ভারতে ‘মিঞাঁ’ শব্দটি আসামের বাংলাভাষী মুসলমানদের উদ্দেশে ব্যবহৃত একটি কটূক্তি, যার মাধ্যমে তাদের বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। সাম্প্রতিক কয়েক দিন ধরে হিমন্ত বিশ্বশর্মা ধারাবাহিকভাবে এই জনগোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে উসকানিমূলক মন্তব্য করে চলেছেন।
উল্লেখ্য, আসামে কয়েক মাসের মধ্যেই বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরই মধ্যে সেখানে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন কার্যক্রম শুরু হয়েছে, যা পশ্চিমবঙ্গসহ অন্যান্য রাজ্যে চলমান ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন থেকে আলাদা। আসামের ক্ষেত্রে এটি নির্বাচনের আগে নিয়মিত প্রক্রিয়া হলেও, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ও নির্দেশনার কারণে বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে।
হিমন্ত বিশ্বশর্মা জানান, ভোটার তালিকা সংশোধনের সময় বিজেপি কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে তারা সন্দেহভাজন বিদেশিদের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশনে গুচ্ছ গুচ্ছ ‘সাত নম্বর ফর্ম’ জমা দেয়। তার দাবি, ইতোমধ্যেই পাঁচ লাখের বেশি ফর্ম জমা দেওয়া হয়েছে। আইন অনুযায়ী, ভোটার তালিকায় কারও নাম নিয়ে যে কেউ ‘সাত নম্বর ফর্ম’ জমা দিয়ে আপত্তি তুলতে পারেন।
তবে গুচ্ছ গুচ্ছ ‘সাত নম্বর ফর্ম’ জমা দেওয়ার এই নির্দেশনার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আসামের কংগ্রেস নেতৃত্ব। তারা এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির কাছে চিঠি পাঠিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছে।
এর আগেও মিঞাঁ মুসলমানদের নিয়ে বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন হিমন্ত বিশ্বশর্মা। সাম্প্রতিক বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাছে ভোট চুরি মানে আমরা কিছু মিঞাঁ ভোট চুরি করতে চাইছি। আদর্শ ব্যবস্থা সেটাই হত যদি তাদের আসামে ভোট দেওয়ার অনুমতি না দিয়ে বাংলাদেশে দেওয়া হত।’ একইসঙ্গে তিনি যোগ করেন, ‘আমরা নিশ্চিত করছি যাতে তারা আসামে ভোট না দিতে পারে।’ মুখ্যমন্ত্রীর এই বক্তব্য আসামে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে গভীর প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?