ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জানান, সাম্প্রতিক যুদ্ধ থেকে তাদের অভিজ্ঞতা অর্জন হয়েছে এবং তারা বাস্তব যুদ্ধেই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা করেছে, ফলে কোনো আগামি আক্রমণের মুখে ইরান শক্তিশালী প্রতিরোধ দেখাবে। আরাকচি বলছেন, যদি ইসরায়েল পুনরায় আক্রমণ করে, তাদের বিরুদ্ধে ভয়াবহ পরিণতি অমোঘ হবে।
আরাকচি এক সাক্ষাৎকারে জোর দিয়ে বলেছেন: “আমরা যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত এবং ইহুদিবাদী ইসরায়েলের কাছ থেকে ফের হামলার অপেক্ষায় আছি। আমরা সকল স্তরে প্রস্তুতির শীর্ষে রয়েছি এবং ভবিষ্যতের যেকোনো যুদ্ধে ইসরাইল আরেকটি পরাজয়ের সম্মুখীন হবে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, ইরান যুদ্ধ চলাকালে তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কার্যকারিতা যাচাই করতে পেরেছে; এসব পরীক্ষার ফল ইরানের সামরিক সক্ষমতার বাস্তব প্রমাণ। আরাকচি বলেন, ইসরায়েল তাদের তেল স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে অঞ্চলে যুদ্ধের পরিধি বাড়াতে চেয়েছে, তবে ইরান যুদ্ধকে সামগ্রিক অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়া থেকে রোধ করতে সক্ষম হয়েছে।
আরাকচি মার্কিন কূটনীতির ভূমিকা নিয়ে বলেন, আমেরিকার সবুজ সংকেত ছাড়া ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে বৃহত্তর আক্রমণ শুরু করতে পারত না; নেতানিয়াহুকে তিনি যুদ্ধাপরাধী আখ্যা দিয়েছেন এবং বলেন, তিনি প্রমাণ করেছেন যে এই অঞ্চলের প্রকৃত শত্রু ইসরায়েল।
পারমাণবিক বিষয়েও আরাকচি দাবি করেন, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, “আমাদের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উদ্বেগ দূর করার জন্য আমরা আলোচনা করতে প্রস্তুত এবং আমরা জোর দিয়ে বলছি যে আমাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ।” তবে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শর্তগুলিকে অসম্ভব ও অগ্রহণযোগ্য হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং সত্বরূপ ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা অগ্রাহ্য জানিয়েছেন।
আরাকচি আরও বলেন, যুদ্ধের কারণে যে ক্ষতি হয়েছিল, বিশেষত আমেরিকার বোমার আঘাতে পারমাণবিক স্থাপনার ধ্বংসস্তূপে পারমাণবিক উপকরণ অক্ষত রয়েছে; ভবন ও সরঞ্জাম ক্ষতিগ্রস্ত হলেও প্রযুক্তি অক্ষত আছে। তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন, যুদ্ধের মাধ্যমে যা অর্জিত হয়নি তা রাজনীতির মাধ্যমে অর্জন করা সম্ভব, কিন্তু সরাসরি ওয়াশিংটনের অসহনীয় শর্তগুলো সমস্যা।
ইরান পশ্চিমাদের সঙ্গে শর্ত ছাড়াই যোগাযোগের সম্ভাবনাও রাখে বলে আরাকচি জানান; এমনকি তিনি বলেন ইউরোপীয়দের নিষেধাজ্ঞা আরোপ সংক্রান্ত প্রক্রিয়াগুলোকে অবৈধ বলে গণ্য করেছেন। পাশাপাশি তিনি প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে সম্পর্ক জোরদার করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং সিরিয়ার সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং ইসরায়েলের আগ্রাসনের নিন্দা জানান।
সব মিলিয়ে আরাকচির বার্তা স্পষ্ট: সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান তার সামরিক ও কূটনৈতিক অবস্থান তীক্ষ্ণ করেছে, এবং কোনো নতুন আক্রমণের সম্মুখীন হলে তারা শক্তভাবে প্রতিরোধ ও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। জনগণ ও আন্তর্জাতিক মহলকে তিনি সতর্ক করেছেন যে, এ অঞ্চলে নতুন সংঘাত:start রাজনৈতিক ও সামরিক পরিণতি বয়ে আনতে পারে।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?