ইরানের ‘অপারেশন ট্রু প্রমিজ ৩’ এখন আর কোনো হুঁশিয়ারি নয়, এটি সরাসরি বাস্তবতা। আজ ছিল এই ধারাবাহিক অভিযানের ২০তম ধাক্কা—এবং এইবার ইসরাইলের বুকে সরাসরি আগুন নামিয়ে আনল তেহরান।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ—ইরানের ফোর্দো, নাতানজ ও এসফাহানে তারা হামলা চালিয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টা পরই ইরান জানিয়ে দিল—‘প্রত্যুত্তর কেমন হয়, তা এবার বিশ্ব দেখবে।’
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে জানায়, আজকের পাল্টা অভিযানে ব্যবহার করা হয়েছে নতুন প্রজন্মের ‘খাইবার শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্র—যা নিখুঁতভাবে আঘাত হেনেছে নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে। এই অস্ত্র ব্যবহারের মাধ্যমেই ইরান স্পষ্ট বার্তা দিল—তাদের প্রতিরোধ এখন কেবল প্রতিক্রিয়া নয়, বরং পূর্ণ আক্রমণাত্মক ক্ষমতা প্রদর্শনের সূচনা।
রোববার সকালে ইসরাইলি গণমাধ্যম জানায়, তেল আবিব ও হাইফাসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। পার্সটুডের রিপোর্ট বলছে, এসব হামলায় বেশ কিছু স্থাপনায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে—প্রচণ্ড ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়ে সামরিক ও বেসামরিক অবকাঠামো।
তেল আবিবের স্পর্শকাতর জায়গাগুলোকেই লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে ইরান। আগেই হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল—ইসরাইলের দখলদার অঞ্চলে কোনও স্থান আর নিরাপদ থাকবে না, সেই কথারই বাস্তব প্রতিফলন আজকের হামলা।
হামলার পর ইসরাইলজুড়ে বেজে ওঠে বিপদ সংকেতের সাইরেন। অন্তত ৪০টি ভারী ক্ষেপণাস্ত্র ইসরাইলের বিভিন্ন অঞ্চলে আঘাত হানে বলে দাবি করেছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম। অনেকেই বলছে—ড্রোন হামলারও আলামত রয়েছে।
ইসরাইলি রেডিও নিজেই স্বীকার করেছে—এই নতুন ধরনের হামলায় হাইফা ও তেল আবিবে যে ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি হয়েছে, তা গত কয়েক বছরের মধ্যে নজিরবিহীন।
তবে যতই ক্ষয়ক্ষতি হোক না কেন—ইসরাইলের সেন্সরশিপ মেশিনে চলছে চরম নিয়ন্ত্রণ। গণমাধ্যমে ছবি বা ভিডিও প্রকাশ নিষিদ্ধ। বাস্তবতা ঢাকা দেওয়া যাচ্ছে না—কিন্তু প্রচারের দায় এড়াতে মরিয়া ইহুদিবাদী প্রশাসন।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?