স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন তিনি। বুধবার (৮ জুলাই) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ন্যাটো মিত্রদের প্রতিরক্ষা ব্যয় জিডিপির পাঁচ শতাংশে উন্নীত করার পরামর্শ দিয়েছিলেন ট্রাম্প। তবে স্পেন তার এই পরামর্শ আমলে না নেয়ায় বাণিজ্য স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিলেন তিনি। এর আগে গত মার্চেও স্পেনের বিরুদ্ধে একইরকম পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। কিন্তু এরপরও দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক স্বাভাবিক ছিল।
সাম্প্রতিক সম্পর্কে প্রতিরক্ষা ব্যয় ছাড়া ইরান ইস্যুতেও দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে। স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শুরু থেকেই ট্রাম্পের এই যুদ্ধের বিরোধিতা করে এসেছেন। এমনকি মিত্রদেশ হওয়া সত্ত্বেও মার্কিন বাহিনীকে ইরানে হামলার জন্য স্প্যানিশ ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন সানচেজ।
এসব ইস্যুতে ক্ষুব্ধ হয়ে ন্যাটো সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানান, অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্টকে স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। ন্যাটোতে স্পেনকে ‘ভয়ানক অংশীদার’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
শীর্ষ সম্মেলনে ইরানের সঙ্গে করা সমঝোতা চুক্তি নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমার ধারণা, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকটি শেষ হয়ে গেছে।’
এর আগে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সবশেষ দফার হামলায় ইরানের সুনির্দিষ্টভাবে ৮০টি স্থাপনায় আঘাত হানা হয়েছে। এতে ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড অ্যান্ড কন্ট্রোল নেটওয়ার্ক, উপকূলীয় রাডার স্থাপনা এবং জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাকে নিশানা করা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য করিডোরে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা হ্রাসের লক্ষ্যে প্রণালির ভেতরে ও আশপাশে অবস্থানরত ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) ৬০টিরও বেশি ছোট নৌকায়ও হামলা চালানো হয়েছে।
জবাবে অন্তত ৮৫টি মার্কিন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)।
তুরস্ক, সৌদি ও পাকিস্তানসহ অন্যান্য দেশ নিয়ে ইসলামি সেনাবাহিনী গড়ার উদ্যোগ নিয়েছে ইরান। আপনি কি এই আর্মি গঠনের পক্ষে?