রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

অর্থনীতি

চীনের সঙ্গে বাণিজ্য সহজ করতে, বাংলাদেশকে করাচি বন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব পাকিস্তানের

চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ সহজ করতে বাংলাদেশকে করাচি সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ মনে করছে, করাচি পোর্ট ট্রাস্ট (কেপিটি) পরিচালিত এই বন্দর ব্যবহার করলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সমুদ্রপথ উন্মুক্ত হবে এবং আঞ্চলিক সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে।

নিউজ ডেস্ক

১৭ অক্টোবর ২০২৫, ১৯:২৮

চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক যোগাযোগ সহজ করতে বাংলাদেশকে করাচি সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের প্রস্তাব দিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ মনে করছে, করাচি পোর্ট ট্রাস্ট (কেপিটি) পরিচালিত এই বন্দর ব্যবহার করলে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন সমুদ্রপথ উন্মুক্ত হবে এবং আঞ্চলিক সংযোগ আরও শক্তিশালী হবে।

আগামী ২৭ অক্টোবর ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য বাংলাদেশ-পাকিস্তান যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের (জেইসি) নবম বৈঠকে এই প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনায় আসবে। প্রায় ২০ বছর পর এই কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল ২০০৫ সালে

অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) সূত্রে জানা গেছে, সরাসরি সমুদ্রপথে বাণিজ্য বাড়ানোর লক্ষ্যে বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) ও পাকিস্তান ন্যাশনাল শিপিং কর্পোরেশনের (পিএনএসসি) মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে। এই চুক্তি কার্যকর হলে চট্টগ্রাম ও করাচির মধ্যে নিয়মিত পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল সম্ভব হবে, ফলে তৃতীয় দেশের বন্দর নির্ভরতা অনেকটাই কমে আসবে।

উল্লেখযোগ্য যে, ২০২৩ সালের নভেম্বরে করাচি বন্দর থেকে পাঁচ দশক পর প্রথমবারের মতো একটি সরাসরি কার্গো জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। সেই ঘটনার পর থেকেই পাকিস্তান সামুদ্রিক সহযোগিতা বাড়াতে আগ্রহ প্রকাশ করে এবং একটি যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠনের প্রস্তাব দেয়।

ইআরডি জানিয়েছে, এবারের বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্প্রসারণ, হালাল পণ্য মান নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকিং প্রশিক্ষণ, চিনি শিল্পে কারিগরি সহায়তা, গবাদিপশুর জাত উন্নয়ন, টিকা উৎপাদন, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষা খাতে সহযোগিতাসহ একাধিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে। একইসঙ্গে পাকিস্তান হালাল কর্তৃপক্ষ (পিএইচএ) ও বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)-এর মধ্যে একটি নতুন এমওইউ সইয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এছাড়া পাকিস্তান বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০টি নতুন বৃত্তি, একটি পাকিস্তানি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ক্যাম্পাস স্থাপন এবং নিরাপত্তা সামগ্রী মুদ্রণের জন্য কাগজ ও কালি সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে।

২০২৩-২৪ অর্থবছরে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৮০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এর মধ্যে পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে রপ্তানি হয়েছে ৬৬১ মিলিয়ন ডলার, আর বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৫৭ মিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশ থেকে মূলত পাটজাত পণ্য, তৈরি পোশাক, সিরামিক ও ওষুধ রপ্তানি হয়; অন্যদিকে পাকিস্তান থেকে আসে তুলা, সুতা, রাসায়নিক দ্রব্য, ওষুধ ও লোহা-ইস্পাতজাত সামগ্রী।

পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ড. এম মাসরুর রিয়াজ বলেন, “করাচি বন্দর ব্যবহার করে সরাসরি রপ্তানি চালু হলে বাংলাদেশের জন্য নতুন বাজার উন্মুক্ত হবে। তৈরি পোশাক, চামড়া, কৃষিপণ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বড় সম্ভাবনা তৈরি হবে।”

তিনি আরও বলেন, “দুই দেশের মধ্যে ভিসা ও বিমান সংযোগ পুনরায় চালু হওয়ায় পর্যটন ও ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও জোরদার হচ্ছে। এতে দক্ষিণ এশিয়ায় একটি নতুন অর্থনৈতিক ধারা সৃষ্টি হতে পারে।”

অর্থনীতি

যে কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

সাধারণত বৈশ্বিক সংকটের সময় বিনিয়োগকারীরা মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়েন, ফলে স্বর্ণের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ চললেও এবার এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে না। এর বদলে স্বর্ণের দাম কমছে। জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ৩০৩ ডলার। গত শুক্রবার […]

যে কারণে বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুন ২০২৬, ১০:৩৫

সাধারণত বৈশ্বিক সংকটের সময় বিনিয়োগকারীরা মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকে পড়েন, ফলে স্বর্ণের দাম দ্রুত বেড়ে যায়। কিন্তু এবারের চিত্র ভিন্ন। মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইল ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ চললেও এবার এমন চিত্র দেখা যাচ্ছে না। এর বদলে স্বর্ণের দাম কমছে।

জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ছিল ৫ হাজার ৩০৩ ডলার। গত শুক্রবার (১২ জুন) এটি নেমে আসে ৪ হাজার ২৩৫ ডলারে।

সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা বলেছে, বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে মুদ্রাস্ফীতির কারণে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো হয়ত সুদের হার কমাবে না। উলটো দাম নিয়ন্ত্রণ রাখতে তারা সুদের হার আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। এতে করে স্বর্ণের প্রতি বিনিয়োগকারীরা খুব বেশি আগ্রহী হচ্ছেন না।

বর্তমান এই মুদ্রাস্ফীতির বড় একটি কারণ হলো হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের হামলার প্রতিবাদে যুদ্ধের শুরু থেকেই হরমুজ অবরোধ করে রেখেছে ইরান। এতে করে গ্যাস ও তেলের সরবরাহ ব্যাপকভাবে বিঘ্নিত হয়েছে। যার প্রভাবে বেড়েছে মুদ্রাস্ফীতি।

যুক্তরাষ্ট্রে গত তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতি দেখা যাচ্ছে। এছাড়া দেশটির চাকরির বাজারও থমকে আছে। ফলে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদহার কমাবে এমন কোনো সম্ভাবনা খুবই কম।বিনিয়োগকারীদের কাছে স্বর্ণ মুদ্রাস্ফীতি মোকাবেলার একটি হাতিয়ার (হেজ) হিসেবে কাজ করলেও, উচ্চ সুদের হার সাধারণত এই মূল্যবান ধাতুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। স্বর্ণকে মূলত একটি ‘মুনাফাহীন’ সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, কারণ নিজস্ব মূল্য বৃদ্ধি ছাড়া এটি থেকে বাড়তি কোনো আয় বা লভ্যাংশ আসে না। অন্য কথায়, স্বর্ণ থেকে মুনাফা করতে হলে কেবল এর বাজারমূল্য বৃদ্ধি পাওয়ার ওপরই নির্ভর করতে হয়।

আলজাজিরাকে আর্থিক খাতের ওয়েবসাইট ‘অপশনস্প্রেডার্স ডটকমের’ প্রধান অপশন অ্যানালিস্ট জাস্টিন কার্ডওয়েল বলেন, ‘যেকোনো সম্পদের তুলনায় স্বর্ণ প্রকৃত অর্থের (টাকার) সবচেয়ে কাছাকাছি একটি রূপ। এখান থেকে কোনো লভ্যাংশ পাওয়া যায় না, আবার দাম না বাড়া পর্যন্ত এর বাড়তি কোনো মূল্যও তৈরি হয় না। মানুষ মূলত মূল্যবৃদ্ধির ওপর ভরসা করেই স্বর্ণ কেনে।’জাস্টিন কার্ডওয়েল বলেছেন, যা সুদহার বৃদ্ধি ও স্বর্ণকে সরাসরি প্রতিযোগিতার মধ্যে ফেলে। সুদহার বেশি থাকলে স্বর্ণ বিনিয়োগ হিসেবে তার ক্ষমতা হারায় এবং মানুষ তখন বিনিয়োগ হিসেবে ডলারের দিকে ঝুঁকে।

নোবেল গোল্ড ইনভেস্টমেন্টের প্রধান নির্বাহী কলিন প্লাম আলজাজিরাকে বলেন, যখন ডলার শক্তিশালী হয় তখন স্বর্ণ চাপটি টের পায়। যখন ডলার দুর্বল থাকে তখন স্বর্ণের দাম বাড়ে। বর্তমানে ডলার শক্তিশালী। যার চাপটি টের পাচ্ছে স্বর্ণ। তবে সামনে কি হবে সেটি নিশ্চিত নয়।

অর্থনীতি

আরও একটি জাহাজে করে ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল এলো বাংলাদেশে

দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা চাপে থাকলেও এর মধ্যেই আরও একটি জাহাজে করে ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল দেশে এসেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের একটি জাহাজ ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে দেশে পৌঁছায়। চুক্তি অনুযায়ী এই জ্বালানি সরবরাহ করেছে চীনা প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন […]

আরও একটি জাহাজে করে ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল এলো বাংলাদেশে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৭ মার্চ ২০২৬, ০২:১৩

দেশের জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতি কিছুটা চাপে থাকলেও এর মধ্যেই আরও একটি জাহাজে করে ৩০ হাজার টন জ্বালানি তেল দেশে এসেছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) সকালে ‘এমটি গ্রান কুভা’ নামের একটি জাহাজ ১০ হাজার টন ডিজেল ও ২০ হাজার টন জেট ফুয়েল নিয়ে দেশে পৌঁছায়। চুক্তি অনুযায়ী এই জ্বালানি সরবরাহ করেছে চীনা প্রতিষ্ঠান ইউনিপেক।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্র জানায়, জাহাজে আনা ডিজেল পরিবহণ ও শিল্প খাতে ব্যবহার করা হবে। অন্যদিকে জেট ফুয়েল সরবরাহ করা হবে দেশের বিমানবন্দরগুলোতে। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক বাজারে মূল্যবৃদ্ধি ও সরবরাহে বিলম্বের কারণে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি হয়েছে। চলতি মাসে তেল নিয়ে ১৭টি জাহাজ দেশে আসার কথা ছিল। এর আগে এসেছে আটটি। আর আজ এলো একটি জাহাজ।

জাহাজ আসার বিষয়টি নিশ্চিত করে বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান বলেন, পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী ডিজেল ও জেট ফুয়েল নিয়ে জাহাজটি আজ সকালে দেশে এসেছে। এখন জ্বালানিসংকট নেই। বিকল্প উৎস থেকেও তেল সংগ্রহের চেষ্টা চলছে।

বিপিসি সাধারণত সরকার থেকে সরকার (জিটুজি) চুক্তি ও আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানি করে থাকে। বছরে ৬৫ থেকে ৬৮ লাখ টন জ্বালানি তেল আমদানি করা হয়। এর মধ্যে প্রায় ১৫ লাখ টন অপরিশোধিত তেল, যা মূলত সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে আসে।

মোট চাহিদার ২০ শতাংশ অপরিশোধিত আকারে এনে দেশে পরিশোধন করা হয়, বাকি ৮০ শতাংশ পরিশোধিত অবস্থায় আমদানি করা হয়। ভারত, চীন, ইন্দোনেশিয়াসহ আটটি দেশ থেকে।

এদিকে জানা গেছে, আগামী এপ্রিলে সমুদ্রপথে ১৪টি জাহাজ এবং পাইপলাইনে ৩টি পার্সেলের মাধ্যমে মোট ৩ লাখ টন ডিজেল, ৫০ হাজার টন জেট ফুয়েল, ২৫ হাজার টন অকটেন এবং ৫০ হাজার টন ফার্নেস তেল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে।

তবে, এখন পর্যন্ত মাত্র ১ লাখ ১০ হাজার টন ডিজেল এবং পাইপলাইনে ২০ হাজার টন সরবরাহের নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে। এছাড়া, আগামী মে মাসে ১৭টি জাহাজে সাড়ে তিন লাখ টন ডিজেলসহ অন্যান্য জ্বালানি আসার সূচি ঠিক করা হয়েছে।

অর্থনীতি

মার্চে এসেছে পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, ইতিহাসে সর্বোচ্চ

এ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন বা ৩৭৫ কোটি ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ ৪৬ হাজার ৯২ কোটি টাকা (ডলারপ্রতি ১২২.৭৫ হিসাবে)। ইতিহাসে এই প্রথম পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। এর আগে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২৫ সালের মার্চে। সে মাসে প্রবাসীরা মোট ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন বা ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স […]

মার্চে এসেছে পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, ইতিহাসে সর্বোচ্চ

মার্চে এসেছে পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স, ইতিহাসে সর্বোচ্চ

নিউজ ডেস্ক

০২ এপ্রিল ২০২৬, ১০:১৯

এ মাসে রেমিট্যান্স এসেছে ৩ দশমিক ৭৫ বিলিয়ন বা ৩৭৫ কোটি ডলার। বাংলাদেশী মুদ্রায় এর পরিমাণ ৪৬ হাজার ৯২ কোটি টাকা (ডলারপ্রতি ১২২.৭৫ হিসাবে)। ইতিহাসে এই প্রথম পৌনে ৪ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।

এর আগে সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল ২০২৫ সালের মার্চে। সে মাসে প্রবাসীরা মোট ৩ দশমিক ২৯ বিলিয়ন বা ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স দেশে পাঠান। মূলত রোজা ও ঈদের মতো উৎসবকে কেন্দ্র করে দেশে রেমিট্যান্সের প্রবাহ বৃদ্ধি পায়। গত বছর ২ মার্চ পবিত্র রমজান শুরু হয়ে ৩১ মার্চ ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হয়। আর চলতি বছর রমজান শুরু হয়েছিল ১৯ ফেব্রুয়ারি। এরপর ২১ মার্চ ঈদুল ফিতর অনুষ্ঠিত হয়ে গেলেও এখনো রেমিট্যান্সের উচ্চপ্রবাহ অব্যাহত আছে। ঈদুল ফিতরের পর ব্যাংক খোলে ২৪ মার্চ। পরবর্তী আটদিনেই দেশে রেমিট্যান্স এসেছে প্রায় ৯৩ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে চলতি মার্চে রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১৪ শতাংশ।

এ নিয়ে টানা চার মাস ৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে প্রবাসী আয়। গত বছরের ডিসেম্বরে দেশে বৈধপথে রেমিট্যান্স আসে ৩২২ কোটি ডলার। এরপর চলতি ২০২৬ সালের প্রথম মাস তথা জানুয়ারিতে প্রবাসীরা দেশে ৩১৭ কোটি ডলার রেমিট্যান্স পাঠান। এরপর ফেব্রুয়ারিতে প্রবাসী আয় আসে ৩০২ কোটি ডলার। সব মিলিয়ে দেশের ইতিহাসে একক মাস হিসেবে এখন পর্যন্ত পাঁচবার ৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে প্রবাসী আয়। আর প্রথমবারের মতো এবার সাড়ে ৩ বিলিয়ন ডলারের ঘর অতিক্রম করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এখন পর্যন্ত ২৬ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার প্রবাসী আয় এসেছে দেশে। যেখানে গত অর্থবছরের একই সময়ে প্রবাসী আয় এসেছিল ২১ দশমিক ৭৮ বিলিয়ন ডলার। এক বছরের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২০ দশমিক ৩ শতাংশ।

অর্থ পাচার কমে আসায় ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত আছে বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, ‘৫ আগস্ট-পরবর্তী সময় থেকেই বৈধপথে প্রবাসী আয়ের প্রবৃদ্ধি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় এখন প্রবাসীরা বেশি অর্থ দেশে পাঠাচ্ছেন এবং এক্ষেত্রে তারা ব্যাংকিং ব্যবস্থার ওপরই বেশি আস্থা রাখছেন। আশা করি, সামনের দিনগুলোতেও প্রবৃদ্ধির এ ধারা অব্যাহত থাকবে।’

রেমিট্যান্সের এ প্রবাহের ওপর ভিত্তি করে দেশের রিজার্ভের ভিতও মজবুত হচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, দেশের বর্তমান গ্রস রিজার্ভ (১ এপ্রিল পর্যন্ত) ৩৪ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার। আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি (বিপিএম৬) অনুযায়ী এটি ২৯ দশমিক ৬১ বিলিয়ন ডলার।