বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

ওসমান হাদির উপর হামলার প্রতিবাদে কুবিতে  বিক্ষোভ মিছিল

রাফি হোসেন কুবি প্রতিনিধি : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ পদপ্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ( কুবি) শিক্ষার্থীরা।  শুক্রবার ( ১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুল ফটক এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।  এসময় শিক্ষার্থীরা, ’হাদি ভাই গুলিববদ্ধ,  ইন্টেরিম জবাব দে ’, ‘ লড়াই […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৩:৫৩

রাফি হোসেন কুবি প্রতিনিধি :

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সাংসদ পদপ্রার্থী শরীফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ( কুবি) শিক্ষার্থীরা। 

শুক্রবার ( ১২ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মুল ফটক এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। 

এসময় শিক্ষার্থীরা, ’হাদি ভাই গুলিববদ্ধ,  ইন্টেরিম জবাব দে ’, ‘ লড়াই লড়াই লড়াই চাই, লড়াই করে বাঁচতে চাই ‘, ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’, দালালী না রাজপথ, রাজপথ রাজপথ’, ‘রক্তের বন্যায়, ভেসে যাবে অন্যায়’, ‘দিল্লী না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা ’, ‘ তুমি কে আমি কে, হাদী হাদী ‘ ‘ ভারতীয় আদিপত্য , ভেঙ্গে দাও গুড়িয়ে দাও’  ইত্যাদি স্লোগান দেন।

পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরাফ ভুঁইয়া বলেন,‘জুলাই পরবর্তী সময়ে আমরা বারবার একটি কথা বলে আসছিলাম আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন ঠেকাতে হবে, আওয়ামী লীগকে ঠেকাতে হবে, লীগের সন্ত্রাসীদের ঠেকাতে হবে।

গত ১৭ বছর তারা শুধু ক্ষমতা বিস্তার করেনি, তারা তাদের অস্ত্রভান্ডারও সমৃদ্ধ করেছে। অস্ত্রের জোরে টিকে থাকার চেষ্টা করেছে। কিন্তু আপনারা দেখবেন এই সরকার সেই অস্ত্র উদ্ধারে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি কিংবা এসব সন্ত্রাসীকে ঠেকাতেও ব্যবস্থা নেয়নি।

আমরা জানি তারা কী চায়, তারা চায় জুলাই যোদ্ধাদের শেষ করে দিতে, তারা চায় বাংলাদেশ থেকে জুলাইকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে। আমরা দেখছি বাংলাদেশে হাদী ভাইয়েরা অনিরাপদ; সে বাংলাদেশে আমি আপনিও নিরাপদ নই। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই হাদী ভাইয়ের ওপর হামলাকারীদের অতি দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।’

ইনকিলাব মঞ্চ কুবি শাখার আহ্বায়ক হান্নান রহিম বলেন, ‘হাদী ভাই জুলাইয়ের অন্যতম যোদ্ধা। তিনি সবসময় ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলেছেন। আমরা দেখেছি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কথা বলায় আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করা হয়েছে।

ভারত কখনো বাংলাদেশের বন্ধু হতে পারে না। একটা কথা আছে ভারত যাদের বন্ধু, তাদের শত্রুর প্রয়োজন হয় না। ৫ আগস্টের পর থেকেই ভারত আওয়ামী লীগকে পুনরায় ক্ষমতায় আনার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছে। যখন তারা দেখলো আওয়ামী লীগ ছাড়াই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হয়েছে, তখনই তারা জুলাই যোদ্ধাদের টার্গেট করেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘হাদী ভাইয়ের ওপর হামলাকারীকে আগামী ১২ ঘণ্টার মধ্যে বিচারের আওতায় আনতে হবে। আমাদের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তরকারিতে আলু চেক করেন এমন অচল মাল দিয়ে দেশ চলতে পারে না। সামনে বাংলাদেশ অনেক সংকটের মধ্য দিয়ে যাবে। তাই আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে বহিষ্কার করতে হবে। সর্বোপরি নির্বাচনের আগে সব প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।’

কুবি ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মোজাম্মেল হক আবির বলেন, ‘২৪ জুলাইয়ের রক্তঝরা আন্দোলনে আমরা যে স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার করেছিলাম, স্বাধীনতার পর আবার রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ করতে হবে এটা কখনো কল্পনাও করিনি।

আমরা ভেবেছিলাম স্বাধীনতার পর নাগরিকের নিরাপত্তা ও অধিকার রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে। কিন্তু নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুর সাথে লড়ছেন এটাই প্রমাণ করে আমরা এখনও নিরাপদ নই। দীর্ঘ ১৭ বছর ভারতীয় আধিপত্য আমাদের গ্রাস করে রেখেছে; ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে যে কণ্ঠই উঠেছে, তাকে নির্মমভাবে থামিয়ে দেওয়া হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, ‘বুয়েটের আবরার ফাহাদ যখন সত্য উচ্চারণ করেছিলেন, তাকে হত্যা করা হয়। ইনকিলাব মঞ্চের হাদি ভাই যখন জুলাইয়ের চেতনাকে ধরে রেখে দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ ও ভারতীয় আধিপত্যের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছেন, তাকেও একই কায়দায় সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

আমরা বলতে চাই জুলাইয়ে রক্ত দিয়ে যে আওয়ামী মসনদ ভেঙে দিয়েছি, কিছু নতুন শকুন আবার সেই কায়দায় আমাদের স্বাধীনতা ছিনিয়ে নিতে চাইছে। এখনই যদি সতর্ক না হই, তবে খুব শিগগিরই আবার বদ্ধ শিকলে ফিরতে হবে আমাদের।’

প্রসঙ্গত, শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) জুমার নামাজের পর রাজধানীর বিজয়নগরে বক্স কালভার্ট রোডে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র সংসদ পদপ্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান বিন হাদি গুলিবিদ্ধ হন। তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয় এবং বর্তমানে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসারত আছেন।

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

মুখে কালো কাপড় বেঁধে ক্লাস নিলেন ঢাবি অধ্যাপক সামিনা লুৎফা

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা এবং কথা বলা ও ভিন্নমত প্রকাশের কারণে শিক্ষকদের হেনস্তার প্রতিবাদে মুখে কালো কাপড় বেঁধে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা। রোববার (১১ অক্টোবর) শ্রেণিকক্ষে পাঁচ মিনিট মুখে কালো কাপড় বেঁধে নীরব অবস্থানে থেকে তিনি এ প্রতিবাদ জানান। এ সময় তিনি শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবসহ […]

মুখে কালো কাপড় বেঁধে ক্লাস নিলেন ঢাবি অধ্যাপক সামিনা লুৎফা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ২০:৫৫

শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করা এবং কথা বলা ও ভিন্নমত প্রকাশের কারণে শিক্ষকদের হেনস্তার প্রতিবাদে মুখে কালো কাপড় বেঁধে অভিনব প্রতিবাদ জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সামিনা লুৎফা।

রোববার (১১ অক্টোবর) শ্রেণিকক্ষে পাঁচ মিনিট মুখে কালো কাপড় বেঁধে নীরব অবস্থানে থেকে তিনি এ প্রতিবাদ জানান। এ সময় তিনি শিক্ষক তাসনিম সিরাজ মাহবুবসহ একাডেমিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার শিকার শিক্ষকদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন।

নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক সামিনা লুৎফা তার প্রতিবাদের কথা জানান। তিনি লেখেন, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের স্বাধীনতা নস্যাতের পরিকল্পিত চক্রান্ত শিক্ষার্থী-শিক্ষকের সম্পর্কের আস্থা নষ্ট করছে। কথা বলা বা ভিন্নমত প্রকাশের কারণে যেসব শিক্ষক হেনস্তার শিকার হয়েছেন, তাঁদের প্রতি সংহতি জানাতে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এ প্রতিবাদ করেছেন।

পোস্টে তিনি আরও জানান, সেদিন ক্লাসে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে শ্রেণিকক্ষের আচরণবিধি বা ‘কোড অব কন্ডাক্ট’ নির্ধারণ করেছেন। অনুমতি ছাড়া শ্রেণিকক্ষে কী করা যাবে বা যাবে না এবং মতবিরোধ তৈরি হলে তা কীভাবে নিরসন করা হবে, তা নিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি। এরপর পাঁচ মিনিট মুখে কালো কাপড় বেঁধে বসে থাকেন।

শিক্ষকদের অধিকার ও একাডেমিক স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান জানিয়ে সামিনা লুৎফা ইংরেজিতে দেওয়া পোস্টে লেখেন, ‘শিক্ষকদেরও অধিকার আছে।’ একাডেমিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়া, যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করা এবং প্রশ্ন, ভিন্নমত বা রাজনৈতিক মতামত প্রকাশের কারণে শিক্ষকদের হয়রানি করে তাদের কণ্ঠরোধের চেষ্টার বিরুদ্ধে সংহতি জানান তিনি।

নিজের বক্তব্য ভুলভাবে উপস্থাপন, অসৎ উদ্দেশ্যে ভুল সংবাদ প্রকাশ এবং অনুমতি ছাড়া শ্রেণিকক্ষে ধারণ করা নিয়েও আপত্তি জানান এ অধ্যাপক। তার ভাষ্য, শ্রেণিকক্ষের ভেতরে কোনো আচরণ বা আলোচনা নিয়ে একাডেমিক পরিসরে সমাধানের সুযোগ রয়েছে। সেখানে মতের অমিল থাকলেও পরস্পরের সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করে সহাবস্থান করা গ্রহণযোগ্য আচরণ।

পোশাকের ক্ষেত্রেও কোনো নির্দিষ্ট বিধিনিষেধ মেনে চলতে বাধ্য হতে চান না বলে পোস্টে উল্লেখ করেন সামিনা লুৎফা। একই স্বাধীনতা শিক্ষার্থী ও সহকর্মীদের ক্ষেত্রেও প্রত্যাশা করেন তিনি। নিজের অবস্থানে অটল থাকার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, একাডেমিক স্বাধীনতার ওপর আক্রমণের ধরন যতই নিন্দনীয় হোক, তিনি ভয় পান না।

পোস্টে তাসনিম সিরাজ মাহবুবের পাশাপাশি লায়েকা বশীরসহ একাডেমিক স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার শিকার শিক্ষকদের প্রতি সংহতি জানান তিনি। একই সঙ্গে শ্রেণিকক্ষে সুস্থ আলোচনা, মতবিনিময় ও নিজ নিজ বিষয়ে গভীরতর জ্ঞান অর্জনের পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ‘রিক্লেইম ক্লাসরুম’ বা শ্রেণিকক্ষের অধিকার পুনরুদ্ধারের আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত, গত ৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরা এক ছাত্রীকে কেন্দ্র করে সহযোগী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের সঙ্গে আলোচনাকে ঘিরে বিতর্কের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় শিক্ষার্থীদের লিখিত অভিযোগের পর ৮ অক্টোবর জরুরি সভা ডেকে তাসনিম সিরাজকে বিভাগের সব ধরনের পাঠদান কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।