সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষার্থীকে মেসে ডেকে রাতভর র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ, বিচারের দাবিতে উত্তাল গণ বিশ্ববিদ্যালয়

গবি প্রতিনিধি: সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) শের আলী (২০) নামে এক শিক্ষার্থীকে মেসে ডেকে নিয়ে রাতভর মারধরের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিচারের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে তার সহপাঠীরা। মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাতে উপজেলার পাথালিয়া ইউনিয়নের নলাম এলাকায় একটি ভাড়া মেস বাসায় এ ঘটনা ঘটে। রাতেই তাকে আশুলিয়ার গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে […]

শিক্ষার্থীকে মেসে ডেকে রাতভর র‍্যাগিংয়ের অভিযোগ, বিচারের দাবিতে উত্তাল গণ বিশ্ববিদ্যালয়

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৬ নভেম্বর ২০২৫, ০২:১১

গবি প্রতিনিধি:

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে (গবি) শের আলী (২০) নামে এক শিক্ষার্থীকে মেসে ডেকে নিয়ে রাতভর মারধরের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বিচারের দাবিতে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করেছে তার সহপাঠীরা।

মঙ্গলবার (২৫ নভেম্বর) রাতে উপজেলার পাথালিয়া ইউনিয়নের নলাম এলাকায় একটি ভাড়া মেস বাসায় এ ঘটনা ঘটে। রাতেই তাকে আশুলিয়ার গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

অভিযুক্তরা হলেন- অন্তু দেওয়ান (২২), মেহেদী হাসান (২১), আশরাফুল (২২), আসিফ লাবিব (২৩)। তারা গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী শের আলী একই বিভাগের প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। তিনি রংপুরের পীরগঞ্জের মাহমুদপুর এলাকার বাসিন্দা। আশুলিয়ায় একটি ভাড়া মেস বাসায় থেকে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জানান, গতকাল বিকেলের দিকে প্রথমে আশরাফুলের বাসায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী ও তার বন্ধুদের ডেকে নেন অভিযুক্তরা। সেখানেই কথাবার্তার একপর্যায়ে প্রথমে তাকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হলে তিনি বাসায় ফিরে যান।

পরে রাতে আবার তাকে খিচুড়ি খেতে বাসায় ডেকে আনেন অভিযুক্তরা। খাওয়ার পর অন্যদের বিদায় দিলেও ভুক্তভোগীকে আটকে রাখেন তারা। এরপর রাত ৯টা থেকে ভোর রাত পর্যন্ত টানা তাকে চর-থাপ্পড়, লাথিসহ বিভিন্নভাবে শারীরিক নির্যাতন করেন তারা।

এছাড়া তাকে উলঙ্গ করে মানসিক নির্যাতনও করা হয়। ভোরের দিকে সবার পায়ে ধরে ক্ষমা চাওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। পরে ভুক্তভোগী বাসায় ফিরলে বন্ধুরা তাকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে ভর্তি করে।

সরেজমিনে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে গিয়ে তাকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন দেখা যায়। মাথা, মুখমণ্ডলসহ সারা গায়ে আঘাতের নিলাফুলা জখমের চিহ্ন দেখা যায়। চিকিৎসক জানান, শারিরীক নির্যাতন ও মারধরের কারণে তার গায়ে জখমের চিহ্ন দেখা যায়। পুরোপুরি সেরে উঠতে কয়েক দিন সময় লেগে যাবে।

ভুক্তভোগী শের আলী বলেন, আমরা যারা মেসে থাকি সবাইকে দাওয়াতের কথা বলে ডাকা হয়। প্রথমে আমরা মাজারে আসি, এরপর আমরা আসাদ ভাইয়ের বাসায় যাই। সেখানে যাওয়ার পর আমাকে আর আমার সহপাঠী মাহিমকে পেঁয়াজ ছিলতে বলে, আমি বলি আমি পেঁয়াজ ছিলতে পারি না, আমি রসুন ছিলব।

রসুন ছিলছিলাম, তখন আশরাফুল ভাই আমাকে ডেকে বলে, এত মুখে মুখে তর্ক করিস কেনো। আমি বলি, বড় ভাইদের অসম্মান হয় এমন কিছু তো আমি বলিনি। তারপরে আশরাফুল ভাই বললো, তোকে মারতে কি লাগবে? তোকে মারলে কি হবে? আমি তখন বলি, আমাকে মারলে কিছুই হবে না।

বলে আমি সেখান থেকে আমার বাসায় চলে আসি। রাত ৯টার দিকে আমার সহপাঠীদের দিয়ে আমাকে আবার ওই বাসায় ডাকিয়ে নেয়, আমি যাই। আর আমার ভুল হয়েছে বলে আমি সবার কাছে ক্ষমা চাই। এরপর সেখানে রান্না করা খিচুড়ি খাই।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, খাওয়ার পর সবাইকে যেতে বলে। কিন্তু আমাকে একা আটকায়, এরপর এক পায়ে দাঁড়াতে বলে। আমি দাঁড়াই। এরপর অন্তু ভাই ডেকে বলে কখনও হস্তমৈথুন করছিস? আমি বললাম, যৌবনে সবাই করে থাকে।

তখন অন্তু ভাই আমাকে টানা ৫-৬টা চড় থাপ্পড় মারে। এরপর বলে প্যান্ট খোল, যখন অস্বীকৃতি জানাই, তখন তরিকুল ভাই আবার আমাকে মারে। এরপর আমাকে প্যান্ট খুলে অন্তু ভাই পেটে লাথি মারে। ৩২ ব্যাচের মেহেদি ভাই, আশরাফুল ভাই দুইজন আমাকে চড় মারতে থাকে।

এরপর আমি তাদের পায়ে ধরি, মাফ চাই। সেখানে ১৫-২০ জন ছিল ৩২ ব্যাচের, তাদের পায়ে ধরি, আমার ভুল হয়ে গেছে। এরপর আমাকে ছাড়ে। এরপর সেখান থেকে বের হতে দেয়। আমি একটা মসজিদে যাই, তারপর বাইরে এলে আমার বন্ধু মাহিম দেখে আমাকে নিয়ে যায়।

পরে তারাই গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র হাসপাতালে নিয়ে আসে। সকালে ৩২ ব্যাচের লাবিব ভাই হাসপাতালে এসে এটা আর বাড়াতে চাও? নাকি শেষ করবা বলে হুমকি দেয়। আমি এই ঘটনার যথাযথ বিচার চাই। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ করবেন বলে জানান তিনি।

আহত শের আলীকে হাসপাতালে নেওয়া মাহিম খান বলেন, সিনিয়রদের রুমে ডাকা হয়, আমরা সবাই যাই, শের আলীও যায়। তখন পেঁয়াজ ছিলি, ওরে বললে ও বলে ও পারে না ওর চোখে সমস্যা। ও রসুন ছিলে। তখন আশরাফুল ভাই ডেকে নেয়, দেখি চেতাচেতির আওয়াজ। পরে ও বাসায় চলে যায়।

পরে আবার আমাকে আর এক বন্ধুকে দিয়ে শের আলীকে রাত ৯টার দিকে ডাকিয়ে আনায়। ও এসে বড় ভাইদের কাছে মাফ চায়৷ রাতে খাওয়ার পর সবাই চলে যায়, কিন্তু শের আলীকে তারা রেখে দেয়। বড় ভাইদের রুমে নেয়।

বেশ কিছুক্ষণ পর ও দেখি কাঁদতে কাঁদতে বের হয়েছে। তখন বন্ধুদের ডেকে আনি, জানতে পারি মারধর হয়েছে। এরপর তাকে প্রথমে রুমে নেই, পরে হাসপাতালে নিয়ে যাই।

অভিযুক্ত অন্তু দেওয়ান (২৭ ব্যাচ) বলেন, শের আলী আমাদের জুনিয়র তাকে শাসন করতেই পারি গায়ে হাত তোলার কিছু হয়নাই। এধরণের কথা ভিত্তিহীন। এখানে আমার নাম জড়ানো হচ্ছে আমি নিজেও বিব্রতবোধ করছি।

তিনি আরো বলেন, খিচুড়ির দাওয়াতে আমি গেছিলাম। সে বেয়াদবি করায় তাকে শাসানো, বকাবকি করা হয় কিন্তু ফিজিক্যালি এসল্ট করা হয়নাই বা এধরণের কিছুই হয়নাই। আর এটা বাইরের ঘটনা। আমরা যারা সিনিয়র আছি আমরা সমাধানের চেষ্টা করবো। জুনিয়ররা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানিয়েছে, প্রশাসন সমাধান করবে এখন।

অন্তু দেওয়ান সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গণ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক (জিএস) প্রার্থী হয়ে পরাজিত হন।

অন্য এক অভিযুক্ত কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের অনুষদ প্রতিনিধি মেহেদী হাসান (২৮ ব্যাচ) বলেন, কাল আমাদের একটা খিচুড়ির দাওয়াত ছিলো। সেখানে যাওয়ার পর সিনিয়র জুনিয়র-ঝামেলা বাধে সেটা মিউচুয়াল করার চেষ্টা করি, সরি বলতে বলি।

কিন্তু কথা না শোনায় আমি বাইরে চলে আসি। পরে ঘোড়া পীর মাজার থেকে জানতে পারি ওরে (শের আলী) গণস্বাস্থ্যে নেওয়া হয়েছে। ফজর পর্যন্ত আমি গণস্বাস্থ্যেই ছিলাম, পরে সেখানের ডাক্তাররাও বলে যে সমস্যা নাই চাইলে বাসায় নিতে পারেন। এরপরে আমি বাসায় চলে যাই। আর পরবর্তী ঘটনা জানিনা।

অভিযুক্ত লাবিব আসিফ লাবিব (২৮ ব্যাচ) বলেন, এঘটনার সাথে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। আমি ওই দাওয়াতে উপস্থিত ছিলাম, রুমের বাইরে ছিলাম যে ভিক্টিম।তার বন্ধুর সাথেই। ভেতরে কি ঘটেছে না ঘটেছে এসব বিষয়ে কোনো কিছুই জানিনা।

গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক ডা. নকিব জাহাঙ্গীর বলেন, রাতে ওই শিক্ষার্থীকে হাসপাতালে আনা হয়। তার শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, ভর্তি করা হয়েছে। শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী পরবর্তী চিকিৎসা দেওয়া হবে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সভাপতি এবং আইন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক রফিকুল আলম বলেন, বিভাগীয় তদন্ত কমিটি করা হচ্ছে, তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ইতিমধ্যে আইন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ফারাহ্ ইকবালকে সভাপতি এবং প্রভাষক কাউছারকে সদস্য সচিব করে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এই তদন্ত কমিটিকে।

আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, বিষয়টি জানা নেই। তবে ওই শিক্ষার্থী লিখিত অভিযোগ করলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে গতকাল সোমবার রাতে নিপীড়নের ঘটনায় বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার সকালে ক্যাম্পাসে অবস্থান নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন তার সহপাঠীরা।

শিক্ষাঙ্গন

গলা কেটে শিক্ষিকাকে হত্যার পর নিজেই আত্মহননের চেষ্টা সহকর্মীর

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৪ মার্চ ২০২৬, ২০:২৪

ইরফান উল্লাহ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনাকে নিজ কক্ষে ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই কক্ষেই রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের কর্মচারী ফজলুর রহমানকেও আত্মহননের চেষ্টা অবস্থায় দেখেছেন ওই ভবনের কর্তব্যরত আনসার সদস্য ও বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থী। বুধবার (০৪ মার্চ) বিকেল আনুমানিক ৪টার দিকে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনের সমাজকল্যাণ বিভাগে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উভয়ের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন।

জানা যায়, আজ বিভাগটির আয়োজনে ইফতার মাহফিল থাকায় সাড়ে ৩টায় অফিস শেষেও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বিভাগে অবস্থান করছিলেন। বিকাল আনুমানিক ৪ টার দিকে সভাপতির নিজ কক্ষে চিৎকারের আওয়াজ শুনে ভবনের নিচে থাকা আনসার সদস্য ও কয়েকজন শিক্ষার্থী এসে দরজা ধাক্কাধাক্কি করে। দরজা ভেতর থেকে আটকানো থাকায় তারা দরজা ভেঙ্গে ওই শিক্ষিকার রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন এবং পাশেই ফজলুরকে নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাতে দেখেন। পরে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডি ও ইবি থানা পুলিশকে জানালে তারা এসে দুজনের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে পৌঁছলে কর্তব্যরত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন শিক্ষিকাকে মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া ওই কর্মচারীও আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছেন বলে জানান তিনি।

বিভাগ সূত্র জানা যায়, ফজলুর রহমান দীর্ঘদিন যাবত সমাজকল্যাণ বিভাগে কর্মরত ছিল। পরে তার বেতন বৃদ্ধি নিয়ে মাসখানেক আগে বিভাগের সভাপতির সঙ্গে বাকবিতন্ডা হয়। পরে তাকে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে বদলি করা হয়। শিক্ষার্থীদের ধারণা, এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে আজকের ঘটনা ঘটতে পারে।

ভবনের নিচে থাকা এক আনসার সদস্য বলেন, ঘটনার সময় আমরা এখানে চারজন গল্প করছিলাম। সিভিল লোকও ছিলেন ৩-৪ জন। হঠাৎ আমরা বাঁচাও বাঁচাও শব্দ শুনি। তারপর একসঙ্গে ওপরে উঠে চেয়ারম্যানের রুমের বাইরে ডাকাডাকি করি। পরে দরজা না খুললে ভেঙে ফেলি। তারপর দেখি যে ম্যাডাম উপুড় হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় শুয়ে আছেন। আর কর্মচারী নিজেই নিজের গলায় ছুরি চালাচ্ছিলেন। পরে আমরা প্রশাসনের কাছে ফোন দেই।

সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মাহমুদ জানান, ফজলুকে বদলি করা হয় প্রায় ২ মাস আগে। তবে উনি এটা মেনে নিতে পারছিলেন না। এটা নিয়ে অনেক রেষারেষিও হচ্ছিল। বিষয়টি এ রকম পর্যায়ে যাবে এটা আমরা ভাবতেও পারিনি। আমরা ওদিকে ব্যস্ত ছিলাম। আমাদের ৫টায় প্রোগ্রাম শুরু হওয়ার কথা ছিল। এর মাঝে ডিপার্টমেন্টে কোনো কর্মচারী, কর্মকর্তা কেউ ছিলেন না। আমরা ছিলাম ওই রুমে। এই সুযোগে উনি এই আত্মঘাতী ঘটনাটি ঘটালেন। ম্যামের রুম আগে থেকে লক করা ছিল না। ওই কর্মচারী রুমে ঢুকে লক করে দেন।

প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, ঘটনা শুনেই আমরা পুলিশ প্রশাসনকে নিয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। এসময় একজনের নিথর দেহ ও একজনকে নড়াচড়া অবস্থায় উদ্ধার করি। পরে দ্রুত কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। পরে জানতে পারি কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করেন।

ইবি থানার অফিসার ইনচার্জ মাসুদ রানা বলেন, আমরা বিষয়টি জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপস্থিত হই। পরে ওই কক্ষ থেকে দুই জনকে উদ্ধার করে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠাই। সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিক্ষককে মৃত ঘোষণা করে। এছাড়া আরেকজন চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।

কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইমাম হোসাইন বলেন, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে হাসপাতালে আনার আগেই তার (শিক্ষিকা) অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। আমরা এখানে আসার পর তাকে প্রাথমিকভাবে মৃত হিসেবে পাই। প্রাথমিক অবজারভেশনে শিক্ষিকার গলা কাটা হয়েছে। এছাড়া তারা হাতে ও পায়ে কিছু ইনজুরি রয়েছে।

শিক্ষাঙ্গন

অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে বড় পরিবর্তন, এইচএসসি পরীক্ষাও হবে ডিসেম্বরে

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করে দ্রুত ফল প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে কারিকুলামও। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনজানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সাল থেকেই এই নতুন পদ্ধতি চালু করা হতে পারে। বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে শুরু হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে […]

নিউজ ডেস্ক

০২ মে ২০২৬, ১৬:০০

এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যেই শেষ করে দ্রুত ফল প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার। পাশাপাশি নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে কারিকুলামও। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনজানিয়েছেন, সবকিছু ঠিক থাকলে ২০২৭ সাল থেকেই এই নতুন পদ্ধতি চালু করা হতে পারে।

বর্তমানে এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে শুরু হলেও প্রতিকূল আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায়ই সময়সূচি পিছিয়ে যায়। এতে উচ্চ মাধ্যমিক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির আগে দীর্ঘ বিরতি তৈরি হয়, যা অনেক শিক্ষার্থীর পড়াশোনার ধারাবাহিকতায় প্রভাব ফেলে। এসব সমস্যা মাথায় রেখেই নতুন পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ডিসেম্বরের মধ্যেই যদি সব পরীক্ষা সম্পন্ন করা যায়, তাহলে সিলেবাস, ক্লাস টেস্ট ও বোর্ড পরীক্ষা নির্ধারিত সময়েই শেষ করা সম্ভব হবে। ফলে শিক্ষার্থীরা জানুয়ারিতেই পরবর্তী শ্রেণিতে ভর্তি হতে পারবে এবং দুই বছরের মধ্যেই নির্ধারিত পাঠক্রম শেষ করতে পারবে।

নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসকে পুরোপুরি পরীক্ষার জন্য নির্ধারণ করা হবে। এ সময়ের মধ্যে বোর্ডগুলোকে পরীক্ষা গ্রহণ ও দ্রুত ফল প্রকাশ করতে হবে। ফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।

তিনি আরও জানান, লক্ষ্য হচ্ছে—শিক্ষার্থীরা ১৬ বছর বয়সে এসএসসি এবং ১৮ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করে কোনো সেশনজট ছাড়াই উচ্চশিক্ষায় যেতে পারবে। কারিকুলাম সংস্কারের কাজ চলছে এবং সবকিছু প্রস্তুত থাকলে ২০২৭ সাল থেকেই এটি কার্যকর করা হতে পারে।

তবে নতুন সময়সূচি বাস্তবায়ন নির্ভর করবে নির্ধারিত সময়ে সিলেবাস সম্পন্ন করার ওপর। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আগে পরিকল্পনা ঠিক করা জরুরি—অ্যাকাডেমিক বছর ডিসেম্বরেই শেষ করতে হবে এবং সে অনুযায়ী পুরো শিক্ষা কার্যক্রম সাজাতে হবে।

এদিকে শিক্ষাবিদদের মতে, দেশের আবহাওয়া ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পাবলিক পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করে একটি বাস্তবসম্মত নতুন অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা প্রয়োজন।

শিক্ষাঙ্গন

জন্মদিনে কুরআন শরীফ বিতরণ , জাবি ছাত্রদল কর্মী অক্ষরের ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

রিফাত বিন নুর, জাবি প্রতিনিধি:  জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কামাল উদ্দিন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী অক্ষর (পরিসংখ্যান ৫০) নিজের জন্মদিন উপলক্ষে ভিন্নধর্মী কর্মসূচি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত আয়োজন পরিহার করে তিনি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল মসজিদসহ জাহাঙ্গীরনগর কেন্দ্রীয় মসজিদে পবিত্র কুরআন শরীফ বিতরণ করেন। তার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।ইফরাত আমিন অক্ষর বলেন “আজ […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ০১:৫২

রিফাত বিন নুর, জাবি প্রতিনিধি: 

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কামাল উদ্দিন হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও ছাত্রদল কর্মী অক্ষর (পরিসংখ্যান ৫০) নিজের জন্মদিন উপলক্ষে ভিন্নধর্মী কর্মসূচি গ্রহণ করেন। ব্যক্তিগত আয়োজন পরিহার করে তিনি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন হল মসজিদসহ জাহাঙ্গীরনগর কেন্দ্রীয় মসজিদে পবিত্র কুরআন শরীফ বিতরণ করেন।

তার এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের মাঝে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।ইফরাত আমিন অক্ষর বলেন “আজ আমার জন্মদিন উপলক্ষে পবিত্র মাহে রমজান মাসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হল মসজিদসহ কেন্দ্রীয় মসজিদে পবিত্র কুরআন শরীফ বিতরণ করার সৌভাগ্য হয়েছে। প্রতিটি মসজিদে আমি আমার জন্য, আমার প্রিয় মাতৃভূমির জন্য এবং দেশের মানুষের কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধির উদ্দেশ্যে দোয়া চেয়েছি।

এছাড়াও দেশনেত্রী ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-এর রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া প্রার্থনা করেছি।

আমার এই ক্ষুদ্র উদ্যোগের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক, নৈতিক ও আদর্শিক পরিবর্তনের ধারায় সামান্য হলেও ভূমিকা রাখতে চাই। সকলের আন্তরিক দোয়া ও সহযোগিতা কামনা করছি।”