সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত রেকর্ড উচ্চতায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থী সংখ্যা

যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ১৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি রয়েছেন। ২০২৪ সালের ‘ওপেন ডোর্স রিপোর্ট অন ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনাল এক্সচেঞ্জ’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত শিক্ষাবর্ষের (২০২২-২০২৩) তুলনায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি বাংলাদেশকে এক বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পাঠানো দেশের তালিকায় ১৩তম স্থান […]

নিউজ ডেস্ক

১৮ নভেম্বর ২০২৪, ২২:৩৩

যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বর্তমানে বাংলাদেশের ১৭ হাজারের বেশি শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি রয়েছেন।

২০২৪ সালের ‘ওপেন ডোর্স রিপোর্ট অন ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশনাল এক্সচেঞ্জ’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত শিক্ষাবর্ষের (২০২২-২০২৩) তুলনায় বাংলাদেশের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই বৃদ্ধি বাংলাদেশকে এক বছরের মধ্যে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী পাঠানো দেশের তালিকায় ১৩তম স্থান থেকে ৮ম স্থানে নিয়ে এসেছে।

গত এক দশকে যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২৫০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে যেখানে এই সংখ্যা ছিল ৪,৮০২ জন, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৭,০৯৯ জনে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের ব্যুরো অব এডুকেশনাল অ্যান্ড কালচারাল অ্যাফেয়ার্স এবং ইন্সটিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল এডুকেশন প্রতি বছর এই ‘ওপেন ডোর্স রিপোর্ট’ প্রকাশ করে। এ প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রি-অ্যাকাডেমিক ইন্টেনসিভ ইংলিশ প্রোগ্রামে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের ভর্তির তথ্য তুলে ধরা হয়।

২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষে যুক্তরাষ্ট্রে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীর সংখ্যা রেকর্ড ১১,২৬,৬৯০-জনে পৌঁছেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ শতাংশ বেশি। স্নাতক পর্যায়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৮ শতাংশ বেড়ে ৫,০২,২৯১ জনে পৌঁছেছে, আর স্নাতকোত্তর পর্যায়ের ব্যবহারিক কাজের অভিজ্ঞতার প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ ২২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। কমিউনিটি কলেজগুলোতেও উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি দেখা গেছে, যেখানে ভর্তির সংখ্যা ১৩ শতাংশ বেড়ে ৫৯,৩১৫ জনে পৌঁছেছে—গত ২৫ বছরের মধ্যে যা সবচেয়ে দ্রুত বৃদ্ধির ঘটনা।

২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীরা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে ৫০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি এবং ৩,৬৮,০০০টিরও বেশি কর্মসংস্থান তৈরি করেছেন বলে জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্ট অবকমার্স।

আন্তর্জাতিক শিক্ষা ও শিক্ষার্থী বিনিময়ের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অঙ্গীকার দৃঢ়। কারণ তা উদ্ভাবন ত্বরান্বিত করা, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী করা, কূটনৈতিক সম্পর্ক উন্নত করা এবং জাতীয় নিরাপত্তা জোরদার করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

২০২৪ সালের আন্তর্জাতিক শিক্ষা সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে ঢাকার যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস একাধিক ভার্চুয়াল এবং সরাসরি সেশন আয়োজন করছে। এসব সেশনে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী ও গবেষকদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার আবেদন প্রক্রিয়া, বিভিন্ন ধরনের একাডেমিক প্রোগ্রাম, তহবিল/স্কলারশিপের সুযোগ এবং যুক্তরাষ্ট্র সরকারের স্পন্সর করা প্রাতিষ্ঠানিক ও পেশাগত বিনিময় প্রোগ্রাম সম্পর্কে তথ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: [https://www.facebook.com/EdUSABangladesh](https://www.facebook.com/EdUSABangladesh) বা ই-মেইল করুন: EducationUSA-Bangla@state.gov।

এডুকেশনইউএসএ হলো যুক্তরাষ্ট্র সরকারের একটি আনুষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক, যা ১৭৫টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলে ৪৩০টির বেশি পরামর্শ কেন্দ্রের মাধ্যমে বিনামূল্যে সঠিক, হালনাগাদ এবং বিস্তারিত তথ্য সরবরাহ করে। বাংলাদেশে এডুকেশনইউএসএ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনার বিষয়ে বিনামূল্যে তথ্য ও পরামর্শ প্রদান করে। এডুকেশনইউএসএ অ্যাডভাইজাররা ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন আমেরিকান স্পেস থেকে ভার্চুয়াল ও সরাসরি তথ্য সেশন পরিচালনা করেন এবং শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের একক বা দলগত পরামর্শ সেবা প্রদান করেন।

বাংলাদেশের এডুকেশনইউএসএ সেন্টারগুলো:

– আমেরিকান সেন্টার, যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস, বারিধারা, ঢাকা
– এডওয়ার্ড এম. কেনেডি (ইএমকে) সেন্টার, গুলশান, ঢাকা
– আমেরিকান কর্নার চট্টগ্রাম, ১/এ ও.আর. নিজাম রোড, প্রবর্তক, চট্টগ্রাম
– আমেরিকান কর্নার রাজশাহী, বরেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাইপাস রোড, চন্দ্রিমা, রাজশাহী
– আমেরিকান কর্নার সিলেট, বিমান ভবন, ৪র্থ তলা, এয়ারপোর্ট রোড, মজুমদারি, সিলেট
– আমেরিকান স্পেস বরিশাল, ৯৯৯ কলেজ রো, বরিশাল

‘ওপেন ডোর্স” প্রতিবেদন যুক্তরাষ্ট্রে অধ্যয়নরত বা শিক্ষা প্রদানকারী আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী ও গবেষকদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের শিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়াশোনার তথ্য প্রকাশ করে। ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনটি সোমবার, ১৮ নভেম্বর, ২০২৪-এ প্রকাশিত হয়েছে। এই প্রতিবেদন সম্পর্কে বিস্তারিত জানার জন্য ঘুরে দেখুন: [https://opendoorsdata.org/annual-release/](https://opendoorsdata.org/annual-release/)।

আন্তর্জাতিক শিক্ষা সপ্তাহ (আইইডব্লিউ) সম্পর্কিত আরও তথ্যের জন্য ভিজিট করুন: [https://iew.state.gov](https://iew.state.gov)।

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ […]

শিক্ষার্থীরা পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, আমরাই তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন, প্রয়োজনে ফের পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১৪ জুলাই ২০২৬, ১৮:০৬

বৈরী আবহাওয়ার কারণে কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে না পারলে প্রয়োজন হলে পুনরায় পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা ও প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

তিনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন না করে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সরকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পরীক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এসব কথা বলেন।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, সারা দেশের সার্বিক পরিস্থিতি, স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিবেদন এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস পর্যালোচনা করেই নির্ধারিত সময়ে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। তিনি বলেন, পরীক্ষার আগে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিক দফায় আলোচনা করা হয়েছিল।

তবে পরীক্ষার দিন সকালে কুমিল্লার একটি কেন্দ্রে আকস্মিক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হলে তাৎক্ষণিকভাবে কেন্দ্র পরিবর্তনের নির্দেশ দেওয়া হয় এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরীক্ষার্থীদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।

পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার প্রশ্নপত্রে ত্রুটির বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল থাকায় ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রশ্নপত্র প্রস্তুতের প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদি হওয়ায় সেগুলো বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের আগেই চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

সংসদে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি আরও বলেন, যেসব এলাকায় বন্যা বা প্রশাসনিক কারণে পরীক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারেননি, তাদের জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডে ইতোমধ্যে এমন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, সরকার তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। তাই আন্দোলনের পরিবর্তে সবাইকে পড়ার টেবিলে ফিরে গিয়ে পরীক্ষার প্রস্তুতি চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।

শিক্ষাঙ্গন

‘আম্মারের খরচের হিসাব আমাদের কাছে অবাস্তব’: শিবির সভাপতি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার দাপ্তরিক ব্যয় হিসেবে যে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার হিসাব দিয়েছেন, তা বাস্তব ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল। তার মতে, সামগ্রিক ব্যয়ের কথা বলে জিএস মূলত নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে […]

‘আম্মারের খরচের হিসাব আমাদের কাছে অবাস্তব’: শিবির সভাপতি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ আগস্ট ২০২৬, ১৮:৪৩

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার দাপ্তরিক ব্যয় হিসেবে যে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার হিসাব দিয়েছেন, তা বাস্তব ব্যয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দাবি করেছেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল। তার মতে, সামগ্রিক ব্যয়ের কথা বলে জিএস মূলত নিজের দায় এড়ানোর চেষ্টা করছেন।

মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। ছাত্রশিবিরের পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নোত্তরে শিবির সভাপতি বলেন, রাকসুর জিএস দাপ্তরিক ব্যয় হিসেবে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। এর ব্যাখ্যায় আপ্যায়ন ও যাতায়াত খাতে ব্যয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এত বড় অঙ্কের টাকা শুধু যাতায়াত ও আপ্যায়নে ব্যয় হয়েছে এমন দাবি সম্পূর্ণ অবাস্তব এবং শিক্ষার্থীরাও বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেবেন না।

তিনি আরও বলেন, শিবির সমর্থিত সম্মিলিত শিক্ষার্থী জোটের প্যানেল থেকে নির্বাচিত রাকসু প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে তারা ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব ও জবাবদিহি চেয়েছেন। তাদের পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, সংস্কৃতি, পরিবেশ ও সমাজকল্যাণ, মিডিয়া ও প্রকাশনা, তথ্য ও গবেষণা, মহিলা বিষয়ক এবং সাহিত্য ও বিতর্ক—এই ছয়টি দপ্তরে মোট প্রায় ৩৬ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।

শিবির সভাপতির দাবি, ক্রীড়া এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি দপ্তরের ব্যয়ও হিসাবের আওতায় আনলে সেখানেও সর্বোচ্চ ১০ থেকে ২০ হাজার টাকার বেশি খরচ হওয়ার কথা নয়। তাই জিএসের দেওয়া ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকার সামগ্রিক হিসাব নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

মুজাহিদ ফয়সাল বলেন, সালাহউদ্দিন আম্মার তাদের প্যানেল থেকে নির্বাচিত নন। ফলে তার কর্মকাণ্ডের কোনো দায়ভার ছাত্রশিবির নেবে না। তবে তাদের প্যানেল থেকে নির্বাচিত রাকসু প্রতিনিধিদের কার্যক্রমের দায় সংগঠন বহন করবে বলে জানান তিনি।

অন্যদিকে শিবির সভাপতির বক্তব্যের বিষয়ে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার বলেন, মুজাহিদ ফয়সাল রাকসুর সদস্য নন। তিনি কোথা থেকে এসব তথ্য পেয়েছেন, সেটি তাকেই জিজ্ঞাসা করা উচিত। তার দাবি, সব তথ্য-প্রমাণ, নথি ও ভাউচার পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।

আম্মার বলেন, রাকসুর বিধান অনুযায়ী সাধারণ সম্পাদক সংসদের হিসাব পরিচালনা করেন এবং কোষাধ্যক্ষের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেন। অর্থ উত্তোলনের সময় সেটি সংসদের দাপ্তরিক ব্যয় হিসেবে উল্লেখ করা থাকে। তাই পুরো হিসাব প্রকাশের আগে এ বিষয়ে মন্তব্য করা ঠিক নয়।

তিনি আরও বলেন, তার দায়িত্বের মেয়াদের আরও প্রায় আড়াই মাস বাকি রয়েছে। তাই এখনই সম্পূর্ণ ব্যয়ের হিসাব দেওয়ার সুযোগ নেই। নির্ধারিত সময় শেষে ভাউচারসহ সব হিসাব প্রকাশ করা হবে বলে জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে রাবি শাখা ছাত্রশিবির পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে শতভাগ আবাসন নিশ্চিত করতে সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ প্রণয়ন, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ভাতা চালু, আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল সেন্টার প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট কার্যকর করা এবং পরবর্তী রাকসু নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা।

এর আগে গত রোববার এক সংবাদ সম্মেলনে জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার তার দাপ্তরিক ব্যয় হিসেবে ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচের কথা জানিয়েছিলেন।