সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

শিক্ষাঙ্গন

ভিপি প্রার্থী নিয়ে বিরোধ, আইন বিভাগে বৈঠক পণ্ড

সানজিদা খানম ঊর্মি, গবি সংবাদদাতা: সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় (গবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) নির্বাচনে আইন বিভাগ থেকে ভিপি পদে নিয়ম বহির্ভূতভাবে একক প্রার্থী নির্ধারণকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনায় বৈঠকটি পণ্ড হয়ে যায়। মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে শিক্ষার্থীদের এক বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে। গকসুর […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

২১ আগস্ট ২০২৫, ১৬:৫৯

সানজিদা খানম ঊর্মি, গবি সংবাদদাতা:

সাভারের গণ বিশ্ববিদ্যালয় (গবি) কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (গকসু) নির্বাচনে আইন বিভাগ থেকে ভিপি পদে নিয়ম বহির্ভূতভাবে একক প্রার্থী নির্ধারণকে কেন্দ্র করে আয়োজিত বৈঠকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনায় বৈঠকটি পণ্ড হয়ে যায়।

মঙ্গলবার (১৯ আগস্ট) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে শিক্ষার্থীদের এক বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।

গকসুর গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, চার বছর মেয়াদি স্নাতক কোর্সের ২য় থেকে ৭ম সেমিস্টার, পাঁচ বছর মেয়াদি স্নাতক কোর্সের ২য় থেকে ৯ম সেমিস্টার এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ের শুধুমাত্র প্রথম সেমিস্টারের শিক্ষার্থীরাই নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার যোগ্য।

তবে গঠনতন্ত্রে কোনো বিভাগ থেকে একক প্রার্থী ঘোষণা বা প্রার্থিতায় বাধা দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ নেই। এ কারণে আইন বিভাগের বৈঠকটিকে অনেকেই নিয়মবহির্ভূত বলে মন্তব্য করেছেন।

পণ্ড হওয়া বৈঠকে উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গকসুর বিভিন্ন পদে আইন বিভাগ থেকে একাধিক প্রার্থী দাঁড়ানোর সম্ভাবনা থাকায় সম্ভাব্য ভিপি প্রার্থী খোদার নূর রনি ও রাকিব মুসল্লি সব সেমিস্টারের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৈঠকের আয়োজন করেন।

সেখানে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস), সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস), দপ্তর সম্পাদক এবং প্রচার-প্রকাশনা সম্পাদক পদে আগ্রহী শিক্ষার্থীরা নিজেদের প্রার্থিতা ঘোষণা করেন। ভিপি পদে তিনজন শিক্ষার্থী প্রার্থিতা জানানোর পর কয়েকজন বৈঠকে ভোটের মাধ্যমে একক প্রার্থী নির্ধারণের প্রস্তাব দেন।

এ সময় চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীরা আলোচনার জন্য আরও দুই দিনের সময় চেয়ে বসেন। বিষয়টি কেন্দ্র করে খোদার নূর রনি ও রাকিব মুসল্লির সমর্থকদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয় এবং একপর্যায়ে বেশিরভাগ শিক্ষার্থী বৈঠক থেকে বের হয়ে যান।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বৈঠকে উপস্থিত এক শিক্ষার্থী জানান, “দুপুরে ক্লাস স্থগিত করে হঠাৎ ওই বৈঠকে ডাকা হয়। সেখানে শোনা যায়, একক প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। আলোচনার একপর্যায়ে ৩০ ব্যাচের শিক্ষার্থী মো. জুবায়েদ ও ২৮ ব্যাচের রাকিবুল জয়ের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়, যা থেকে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।”

এদিকে ঘটনার একটি ভিডিও এই প্রতিবেদকের কাছে রয়েছে।

ভিপি প্রার্থী খোদার নূর রনি এ বিষয়ে বলেন, “বৈঠকটি ছিল বিভাগীয়, যেখানে বিভিন্ন প্রার্থীর সমর্থকরা উপস্থিত ছিলেন। আসলে হাতাহাতি হয়নি, তবে সিনিয়র-জুনিয়রের মধ্যে কিছু অসৌজন্যমূলক আচরণ হয়েছিল, যা উপস্থিত সিনিয়ররা সেখানেই মীমাংসা করে দেন। তাই বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে নেয়ার প্রয়োজন নেই বলে মনে করি।”

তিনি আরও বলেন, “আমি একক প্রার্থী ঘোষণার বিপক্ষে ছিলাম। আমার বক্তব্য ছিল শিক্ষার্থীদের মতামত নেয়া জরুরি। তারা চাইলে একক প্রার্থী দেবে, নইলে একাধিক প্রার্থীকে সমর্থন করবে। তবে ভোট প্রক্রিয়া জোরপূর্বক চাপিয়ে দেয়া বা চাপ সৃষ্টির চেষ্টা সঠিক নয়। যোগ্যরা কাজের মাধ্যমে নিজেদের প্রমাণ করবে।”

অন্যদিকে ভিপি প্রার্থী রাকিব মুসল্লি জানান, “সব ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বৈঠক হয়েছে, যদিও এর আগে আরও দু’বার এমন বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছিল। একাধিক প্রার্থী থাকায় শিক্ষার্থীদের মতামতের ভিত্তিতে কয়েকজনকে চূড়ান্ত করার পরিকল্পনা করা হয়। গঠনতন্ত্রের বাইরে হলেও বিভাগের স্বার্থে আমি এতে সম্মতি দিই। তবে আমার অবস্থান ছিল— নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণের অধিকার রয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “সিদ্ধান্ত হয়েছিল শিক্ষার্থীরা যাকে চাইবেন তাকেই ভিপি প্রার্থী করা হবে। বৈঠকের সময় শিক্ষার্থীরা আমাকে সমর্থন জানিয়ে স্লোগান দিতে থাকে। কিন্তু স্নাতকোত্তর ২য় ব্যাচের শিক্ষার্থী শেখ খোদানূর রনি ঘোষণা দেন যে ভিপি প্রার্থী নির্ধারণ দুই দিন পর হবে।

তখন আমার কাছে মনে হয়েছে এটি লেজুড়ভিত্তিক রাজনীতির প্রকাশ এবং বিশেষ একটি এজেন্ডা বাস্তবায়নের চেষ্টা। এর মধ্যেই রাকিবুল জয় ও একজন সিনিয়রের মধ্যে বাকবিতণ্ডা হয়, তবে সবার হস্তক্ষেপে হাতাহাতি এড়ানো সম্ভব হয়।”

আইন বিভাগ ছাড়াও ইংরেজি, ফার্মেসি, রসায়ন ও সিএসইসহ বিভিন্ন বিভাগ ও অনুষদেও নির্বাচনের প্রস্তুতিকে কেন্দ্র করে বৈঠক হয়েছে বলে সূত্র জানায়।

গকসুকে ঘিরে এ ধরনের বৈঠককে গুরুতর নিয়ম লঙ্ঘন বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার অধ্যাপক রফিকুল আলম। তিনি বলেন, “এটি সম্পূর্ণ বেআইনি। এখনো কেউ কোনো নির্বাচনী কার্যক্রম করতে পারবে না। আমরা শুধু খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছি। ২৫ আগস্ট চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করা হবে।”

তিনি আরও জানান, “এ ধরনের বৈঠক বন্ধে শিগগিরই নোটিশ দেয়া হবে। দুই-এক দিনের মধ্যে আচরণবিধি প্রকাশ করা হবে, যা প্রার্থী ও ভোটার— সবার মানতে হবে। এর বাইরে কোনো বৈঠক, পোস্টার বা প্রচারণা চলবে না। দ্রুত রিটার্নিং অফিসারও নিয়োগ দেয়া হবে।”

নির্বাচন কমিশনার আরও বলেন, অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঠেকাতে দ্রুত নিকটস্থ দুই থানার সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা নেয়া হবে।

শিক্ষাঙ্গন

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)। রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮। জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট […]

সার্বিক নিরাপত্তা ও আইনি প্রতিকার চেয়ে শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডি করেন ঢাবি শিক্ষিকা মোনামি

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

৩১ আগস্ট ২০২৬, ০০:৩৯

ব্যক্তিগত সংবেদনশীল তথ্য অনলাইনে ছড়িয়ে দেওয়া ও হুমকির মুখে থানায় জিডি করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে তিনি এই জিডি করেন। তার দায়ের করা এই জিডির নম্বর ২০৩৮।

জিডি সূত্রে জানা যায়, অনুমতি ছাড়া ফেসবুকে তার মোবাইল নম্বর, ইমেইল ঠিকানা ও বাসার ঠিকানা পোস্ট করা হয়। এর পর থেকেই বিভিন্ন অচেনা নম্বর থেকে কল করে তাকে নানাভাবে বাজে কথা বলা ও হুমকি প্রদান করা হচ্ছে। বাসা সংক্রান্ত তথ্য প্রকাশ্যে আসায় তিনি নিজের বাসভবনে অবস্থান করাকে অনিরাপদ মনে করছেন। সার্বিক নিরাপত্তা ও বিষয়টির আইনি প্রতিকার চেয়ে তিনি শাহবাগ থানায় উপস্থিত হয়ে জিডিটি দায়ের করেন।

এ ঘটনায় শাহবাগ থানা পুলিশ জানায়, ঘটনাটির তদন্ত শুরু হয়েছে এবং বিষয়টির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার প্রক্রিয়া চলছে।

শিক্ষাঙ্গন

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী। মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত […]

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী মেসে অস্ত্র নিয়ে অজ্ঞাত যুবকের প্রবেশ ও শ্লীলতাহানির চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৮:৩৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর (সিরাজগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থী নিজ মেসে হামলার শিকার হয়েছেন।

রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোররাত আনুমানিক ৪টার দিকে শাহজাদপুর পৌর এলাকার একটি ছাত্রী মেসে এ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে।

ভুক্তভোগী অনিকা তাবাসসুম বিশ্ববিদ্যালয়ের ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অষ্টম ব্যাচের শিক্ষার্থী।

মেসের অন্যান্য শিক্ষার্থী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভোররাতে অজ্ঞাত এক যুবক ধারালো অস্ত্র হাতে অনিকার কক্ষে প্রবেশ করে। অনৈতিক উদ্দেশ্যে যুবকটি এগোলে অনিকা সাহসিকতার সাথে বাধা দেন।

এ সময় উভয়ের মধ্যে হাতাহাতি ও ধস্তাধস্তি হয়। অনিকার আত্মরক্ষা ও চিৎকারের মুখে পরিস্থিতি প্রতিকূলে দেখে হামলাকারী যুবক দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। ধস্তাধস্তির ফলে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর মুখ, গলা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে মারাত্মক আঘাত ও ক্ষতের দাগ পড়েছে। তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাহজাদপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে একজনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে। তবে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী অনিকার দেওয়া বিবরণ ও জবানবন্দির সাথে আটক ব্যক্তির চেহারার কোনো মিল না থাকায় যাচাই-বাছাই শেষে তাকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।

এ বিষয়ে স্থানীয় থানা পুলিশ জানায়, “ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর বর্ণনা অনুযায়ী মূল অপরাধীকে শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। দ্রুতই তাকে আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।”

ঘটনাকে কেন্দ্র করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও নিরাপত্তার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীরা অতি দ্রুত মূল অপরাধীকে গ্রেফতার এবং মেস এলাকায় স্থায়ী নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন নিশ্চিত করেছে যে, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর পাশে তারা রয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ বজায় রাখছে।

শিক্ষাঙ্গন

ঢাবি শিক্ষক তাসনিম সিরাজকে এবার লাল কার্ড দেখালেন শিক্ষার্থীরা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক, অপমানজনক ও দ্বিচারিতাপূর্ণ আচরণের অভিযোগ তুলে লাল কার্ড দেখিয়েছেন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) তারা এ প্রতিবাদ জানান। শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, নিকাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া এবং একই শ্রেণিকক্ষে ছয়জন ছাত্রকে এক বেঞ্চে বসতে দেখে তাঁদের ‘গে’ ও […]

ঢাবি শিক্ষক তাসনিম সিরাজকে এবার লাল কার্ড দেখালেন শিক্ষার্থীরা

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৫:৪১

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে বৈষম্যমূলক, অপমানজনক ও দ্বিচারিতাপূর্ণ আচরণের অভিযোগ তুলে লাল কার্ড দেখিয়েছেন বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১২ অক্টোবর) তারা এ প্রতিবাদ জানান।

শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, নিকাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়া এবং একই শ্রেণিকক্ষে ছয়জন ছাত্রকে এক বেঞ্চে বসতে দেখে তাঁদের ‘গে’ ও ‘গরিব’ বলে মন্তব্য করার অভিযোগের প্রতিবাদে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। একই সঙ্গে এসব আচরণের সমর্থকদের বিরুদ্ধেও প্রতীকী প্রতিবাদ জানান তাঁরা।

কর্মসূচির মূল প্রতিপাদ্য ছিল ‘Red Card to Racist, Classist and Hypocrite’ এবং ‘Red Card to Those Who Support Discrimination, Humiliation and Bullying’। শিক্ষার্থীরা জানান, বৈষম্য, অপমান ও হয়রানির বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি এসব আচরণকে সমর্থনকারীদেরও তাঁরা প্রত্যাখ্যান করছেন।

এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ নায়েম বলেন, তাসনিম সিরাজ মাহবুব ম্যাম ইংরেজি বিভাগের একজন শিক্ষার্থী নেকাব করায় তাকে Fundamentalist এবং সন্ত্রাসী বলে অবিহিত করেন। এছাড়াও, তিনি একই ক্লাসে ছেলেদের ৬ জন এক বেঞ্চে বসায় ‘গে’ এবং ‘গরিব’ বলে অবিহিত করেন। পরবর্তীতে তিনি তার ফেইসবুক লাইভে এগুলোর কোন কিছু এড্রেস না করে এক পাক্ষিক এআই নির্ভর বিবৃতি দেন৷

তিনি আরও বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি সামিনা লুৎফা, শিক্ষক নেটওয়ার্ক এবং তার অন্যান্য অনুসারী তাকে নির্লজ্জভাবে ডিফেন্ড করেছেন এবং শিক্ষার্থীদের মূল অপরাধী হিসেবে প্রোট্রে করার চেষ্টা করছেন। আজকের প্রতিকী প্রতিবাদ তাদের সকলের বিরুদ্ধে।

এ বিষয়ে ইংরেজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. তাজিন আজিজ চৌধুরী বলেন, বিষয়টি এই মুহূর্তে নিশ্চিত করে বলা সম্ভব হচ্ছে না,আমি এই মূহুর্তে অফিসে নাই। তবে শিক্ষার্থীরা যদি এ বিষয়ে কোনো লিখিত অভিযোগ দিয়ে থাকে, তবে তা দেখে বিষয়টি সম্পর্কে জানা সম্ভব হবে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে নির্দিষ্ট করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

উল্লেখ্য, গত ৭ অক্টোবর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের একটি শ্রেণিকক্ষে নিকাব পরিহিত এক শিক্ষার্থীকে ‘ফান্ডামেন্টালিস্ট’ ও ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে সহকারী অধ্যাপক তাসনিম সিরাজ মাহবুবের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়। পরে ৮ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তাঁকে সাময়িকভাবে সব ধরনের ক্লাস কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেয়।