মোঃ কাজী ওমর শরীফ, চবি প্রতিনিধি:
“সকল মানুষ অভাব থেকে মুক্তি চায়, কিন্তু উপযুক্ত শিক্ষা ছাড়া তা সম্ভব নয়”—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) পঞ্চম সমাবর্তনে প্রধান বক্তা ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “শিক্ষা শুধু চাকরির জন্য নয়, এটি স্বাধীন চিন্তা ও নতুন ধারণা সৃষ্টির মাধ্যম।”
চবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে আয়োজিত এই মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার। বিশেষ অতিথি ছিলেন সরকারের মাননীয় শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার এবং বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস. এম. এ. ফায়েজ।
ড. ইউনূস বলেন, “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার সময় ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষে মানুষের দুঃখ দেখে আমি জোবরা গ্রামের মানুষের পাশে দাঁড়াই। তাদের কাছ থেকে শেখা থেকেই গ্রামীণ ব্যাংকের জন্ম। পাঁচ-দশ টাকার ঋণ কিভাবে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে, তা আমি তখনই বুঝি।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা বলেছিলাম, ঋণ মানবিক অধিকার। আমাদের লক্ষ্য, দারিদ্র্যকে জাদুঘরে পাঠানো। এ ভাবনার প্রেরণায় গড়ে উঠেছে জোবরা অর্থনীতি, যা মানুষের অর্থনীতি, ব্যবসার নয়।”
চবি তাঁর অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তাঁকে সম্মানসূচক ডি. লিট. ডিগ্রি প্রদান করে। অনুষ্ঠানে ডি. লিট. ডিগ্রির উত্তরীয় পরিয়ে দেন চবির প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মো. শামীম উদ্দিন খান এবং ক্রেস্ট প্রদান করেন প্রো-ভাইস চ্যান্সেলর (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মো. কামাল উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্যে ড. ইউনূস বলেন, “চবি গর্ব করতে পারে যে, গ্রামীণ ব্যাংকের জন্ম এই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে। এ প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আমি নোবেল পুরস্কার পেয়েছি, কিন্তু এর পেছনে আছে জোবরা গ্রামের সাধারণ নারীদের অবদান। আমি তাদের ছাত্র।”
শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার বলেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রাজনীতির জায়গা নয়। শিক্ষকতার দায়িত্ব নিতে হলে ছাত্রদের ভবিষ্যতের কথা ভাবতে হবে।”
ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এস. এম. এ. ফায়েজ বলেন, “বিশ্বমানের নাগরিক গড়তে উপযুক্ত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় সমাজ গঠনে শিক্ষকদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে।”
চবি ভাইস চ্যান্সেলর অধ্যাপক ড. ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, “আমরা গর্বিত যে ড. ইউনূস আমাদের সাবেক শিক্ষক। শিক্ষার গুণগত মানোন্নয়ন এবং শিক্ষক নিয়োগে স্বচ্ছতা আনতে আমরা কাজ করছি। রাজনীতির প্রভাবে শিক্ষার ক্ষতি হওয়া চলবে না।”
এবারের সমাবর্তনে ২০১১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত মোট ২২,৫৮৬ জন গ্র্যাজুয়েট ডিগ্রি লাভ করেন। এর মধ্যে ৪২ জন পিএইচডি, ৩৩ জন এমফিল এবং ২২,৫২২ জন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। পিএইচডি ডিগ্রিপ্রাপ্তদের হাতে সনদ তুলে দেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. ইউনূস।
অনুষ্ঠান শেষে তিনি অর্থনীতি বিভাগ পরিদর্শন করেন এবং পুরোনো সহকর্মীদের সঙ্গে সময় কাটান।