আবু তাহের, জাককানইবি
জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপ ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের যৌথ উদ্যোগে দিনব্যাপী ‘ফ্রেন্ডশিপ রোভার স্কাউট ক্যাম্প’ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠে আয়োজিত এ ক্যাম্পে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৬০ জন রোভার ও গার্ল-ইন-রোভার অংশগ্রহণ করেন।
ক্যাম্পটির মূল উদ্দেশ্য ছিল দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বন্ধুত্ব, যোগাযোগ ও সহযোগিতার সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করা। একই সঙ্গে নেতৃত্বের গুণাবলি, দলগত কাজের মনোভাব, শৃঙ্খলা এবং স্কাউটিংয়ের আদর্শ চর্চার মাধ্যমে অংশগ্রহণকারীদের দক্ষতা বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি করা।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে বিভিন্ন স্কাউটিং কার্যক্রম, দলীয় চ্যালেঞ্জ, নেতৃত্ব উন্নয়নমূলক সেশন, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, প্রকৃতি পর্যবেক্ষণ, ট্রেজার হান্ট এবং অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। এসব কার্যক্রমে অংশগ্রহণের মাধ্যমে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের রোভারদের মধ্যে পরিচিতি, পারস্পরিক বোঝাপড়া ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও গভীর হয়।
ক্যাম্পে নেতৃত্ব দেন বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের গ্রুপ সম্পাদক ও ডেপুটি রেজিস্ট্রার (অ্যাডমিন) ড. মো. জহিরুল আলম এবং জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় রোভার স্কাউট গ্রুপের গ্রুপ সম্পাদক ও নাট্যকলা ও পরিবেশনা বিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মাজহারুল হোসেন তোকদার।
এ সময় ড. মো. জহিরুল আলম বলেন, “রোভারিং নেতৃত্ব, মানবিকতা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে এ ধরনের ফ্রেন্ডশিপ ক্যাম্প আয়োজন সম্ভবত প্রথমবারের মতো হলো।
আজকের এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা আশা করি ভবিষ্যতে আরও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়কে সম্পৃক্ত করে এ ধরনের ক্যাম্প আয়োজন করা সম্ভব হবে। এর ফলে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একে অপরের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার, অভিজ্ঞতা বিনিময়ের এবং পারস্পরিক বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তোলার সুযোগ পাবে।”
মাজহারুল হোসেন তোকদার বলেন, “স্কাউটিংয়ের মূল শক্তি হলো বন্ধুত্ব, শৃঙ্খলা ও সেবার মানসিকতা। দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে এমন একটি ফ্রেন্ডশিপ ক্যাম্প আয়োজনের উদ্যোগ নিতে পেরে এবং সেটি সফলভাবে সম্পন্ন করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত।
এই ক্যাম্পের মাধ্যমে দুই বিশ্ববিদ্যালয়ের রোভারদের মধ্যে যে আন্তরিক সম্পর্ক, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে আরও দৃঢ় হবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
পাশাপাশি এ ধরনের আয়োজন অংশগ্রহণকারীদের নেতৃত্ব বিকাশ, দলগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং একে অপরের কাছ থেকে শেখার সুযোগ তৈরি করে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের যৌথ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে আমরা আশা করি।”
দিনব্যাপী এ আয়োজন অংশগ্রহণকারী রোভারদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার এক অনন্য প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করেছে।