সোমবার, ২২ জুন ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

রিজেন্ট বোর্ডে নিয়োগ ও প্রমোশন স্থগিত, বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের বিজয় দিবস বর্জন

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) শিক্ষকদের নিয়োগ ও প্রমোশনকে কেন্দ্র করে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের মধ্যে দুটি অংশে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপনের সময় এই বিভক্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। অনুসন্ধানে জানা যায়, মূলত বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের কিছু দাবি-দাওয়া উপাচার্য কর্তৃক পূরণ না হওয়ায় এ পরিস্থিতির […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৭ ডিসেম্বর ২০২৫, ২১:১৮

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) শিক্ষকদের নিয়োগ ও প্রমোশনকে কেন্দ্র করে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের মধ্যে দুটি অংশে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। গত ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপনের সময় এই বিভক্তি চরম পর্যায়ে পৌঁছায়, যা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

অনুসন্ধানে জানা যায়, মূলত বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের কিছু দাবি-দাওয়া উপাচার্য কর্তৃক পূরণ না হওয়ায় এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে শিক্ষকরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন। গত ১১ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত রিজেন্ট বোর্ডের ৫৭তম সভায় কয়েকটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে এ মতবিরোধ দেখা দেয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনপিপন্থী শিক্ষক ও ইউট্যাবের সাংগঠনিক সম্পাদক এবিএম সাইফুল ইসলামের প্রমোশন নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে মতবিরোধ ও বিতর্ক বিদ্যমান ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিজেন্ট বোর্ডের এক সদস্য জানান, বিধি অনুযায়ী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কমপক্ষে চার বছরের বাস্তব শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা থাকতে হয়।

কিন্তু তার সে শর্ত পূরণ হয়নি। একই সঙ্গে স্বীকৃত জার্নালে মোট ১০টি গবেষণা প্রকাশনা থাকতে হয়, যার মধ্যে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে ন্যূনতম ছয়টি প্রকাশনা আবশ্যক। এ ক্ষেত্রেও তিনি প্রয়োজনীয় সংখ্যক গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করতে পারেননি। ফলে বিষয়টি অননুমোদিত উল্লেখ করে স্থগিত করা হয়।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক জামাল হোসেনের স্ত্রী জিনাত নাসরিন সুলতানার নিয়োগের বিষয়টিও রিজেন্ট বোর্ডে অনুমোদন পায়নি। নিয়োগের বিজ্ঞপ্তিতে উদ্ভিদ রোগতত্ত্ব বিভাগে একজন শিক্ষক নিয়োগের কথা থাকলেও অধ্যাপক জামাল হোসেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তার স্ত্রীকে নিয়োগ দেওয়ার জন্য নিয়োগ বোর্ডকে চাপ দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

পদের অনুমোদন না থাকায় নিয়োগ বোর্ড ভবিষ্যতে ইউজিসি কর্তৃক পদ অনুমোদনের শর্তসাপেক্ষে নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে মতামত দেয়। কিন্তু বিষয়টি রিজেন্ট বোর্ডে উত্থাপিত হলে এ প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ বিধিবহির্ভূত উল্লেখ করে বাতিল করা হয়। বরং বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পুনরায় নিয়োগের বিষয়ে বোর্ড সদস্যরা মতামত দেন।

এই সব সিদ্ধান্ত নিজেদের অনুকূলে না আসায় বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের একটি অংশ রিজেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান তথা উপাচার্যের ওপর দোষারোপ শুরু করেন বলে জানা যায়। এতে পবিপ্রবির শিক্ষকরা দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েন। রিজেন্ট বোর্ড-পরবর্তী সময়ে অভ্যন্তরীণ বিভক্তি থাকলেও তা প্রকাশ্যে আসেনি। তবে বিজয় দিবস উদযাপনের প্রাক্কালে উপ-উপাচার্যের গ্রুপটির সঙ্গে উপাচার্যের দূরত্ব স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

জানা যায়, শেষ মুহূর্তে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক এস এম হেমায়েত জাহানের নেতৃত্বাধীন অংশটি উপাচার্য অধ্যাপক কাজী রফিকুল ইসলামকে দুটি শর্ত দেয়। শর্ত পূরণ হলে তারা বিজয় দিবস উদযাপনে অংশ নেবে, অন্যথায় নয়—এমন সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

শর্ত দুটি হলো—প্রথমত, সম্প্রতি শাস্তির আওতায় আনা দুই কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ করে স্বপদে বহাল করা; দ্বিতীয়ত, বিশ্ববিদ্যালয়ের বেসিক সায়েন্সের শিক্ষক অধ্যাপক মামুন-উর-রশিদকে নতুন অনুষদের (ওশানোগ্রাফি) ডিন হিসেবে নিয়োগ দেওয়া। তবে উপাচার্য এসব শর্তে সম্মতি না দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

প্রসঙ্গত, বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে হেনস্তা ও চড়-থাপ্পর মেরে আহত করার ঘটনায় গত ৪ নভেম্বর খণ্ডকালীন কর্মকর্তা মো. লোকমান হোসেন (মিঠু) ও মো. মাহমুদ-আল-জামানকে সহকারী রেজিস্ট্রার পদ থেকে সেকশন অফিসার পদে পদাবনতি করা হয়।

১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবস উদযাপনের আগে উপাচার্য একসঙ্গে দিবসটি পালনের আহ্বান জানালেও উপ-উপাচার্য গ্রুপটি শর্ত না মানলে একসঙ্গে উদযাপনে অংশ নেবে না বলে জানায়—এমন তথ্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে। পরবর্তীতে উপাচার্য জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সঙ্গে নিয়ে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণসহ অন্যান্য কর্মসূচি সম্পন্ন করেন।

এ সময় উপ-উপাচার্যের গ্রুপটি উপাচার্যের বিরুদ্ধে স্বাধীনতাবিরোধী অভিযোগ তুলে স্লোগান দেয়। একই সঙ্গে তারা উপাচার্যকে জামায়াতপন্থী আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে বক্তব্য ও স্লোগান দিতে থাকে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের জাতীয় কর্মসূচি কেন বর্জন করা হয়েছে—এমন প্রশ্নের জবাবে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম হেমায়েত জাহান বলেন, “আমরা বিগত বছরগুলোতে জামায়াতপন্থী শিক্ষকদের সাথে একসঙ্গে কর্মসূচি করেছি। কিন্তু এবার ভিসি স্যারের কাছে আমাদের দাবি ছিল, আমরা তাদের সঙ্গে একসঙ্গে শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণে যাব না। ভিসি স্যার আমাদের কথা শোনেননি। তাই আমরা কর্মসূচিতে যাইনি।”

এ সময় দুই কর্মকর্তার শাস্তি মওকুফ ও অধ্যাপক মামুন-উর-রশিদকে নতুন অনুষদের ডিন নিয়োগের শর্ত দেওয়া হয়েছিল কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এগুলো ভুল তথ্য। এ ধরনের কোনো কথা আমাদের হয়নি।”

তবে উপ-উপাচার্য বিষয়টি অস্বীকার করলেও তার অনুগত শিক্ষক এবং আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদের ডিন অধ্যাপক জামাল হোসেন শাস্তি মওকুফের দাবির বিষয়টি অকপটে স্বীকার করে বলেন, “এই বিষয়গুলো তো আছেই।

ভিসি অনেক কিছু করেন, তার অনেক কাজ আমাদের কাছে অসংলগ্ন মনে হয়। রিজেন্ট বোর্ডে যেসব বিষয় চূড়ান্ত হয়েছিল, তিনি সেগুলো ফিরিয়ে এনেছেন। এ বিষয়ে খোঁজ নিলে আরও জানতে পারবেন আপনারা।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “জাতীয় দিবসের মতো গুরুত্বপূর্ণ দিনে উপ-উপাচার্যের এ ধরনের কর্মকাণ্ড ও উপাচার্যকে জিম্মি করে অনৈতিক দুটি দাবি তোলা—বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। উপ-উপাচার্যসহ অন্যরা বিজয় দিবসে যে বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড করেছেন, তা সংবিধানস্বীকৃত পদে থেকে করা সমীচীন নয়।

আমি বারবার একসঙ্গে বিজয় দিবস উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছি, কিন্তু তারা আমাকে জিম্মি করে অসাদু দাবি আদায়ের চেষ্টা করেছে। এসব করে কেবল পরিবেশ ঘোলাটে হয়, সফলতা আসে না।”

তিনি আরও বলেন, “আমি বাকৃবির বিএনপিপন্থী সোনালী দলের সাংগঠনিক সম্পাদক, জিয়া পরিষদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক এবং ভেটেরিনারি অনুষদের সভাপতিসহ বিভিন্ন দায়িত্বে ছিলাম। ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের রাজনীতি করেছি। কিন্তু উপাচার্যের দায়িত্ব পালনের সময় অবশ্যই বিধি ও নিয়ম মেনে কাজ করতে হয়।

আমাকে যেভাবে অযাচিতভাবে ট্যাগিংয়ের মধ্যে ফেলা হচ্ছে, তা হীন প্রচেষ্টা ছাড়া কিছু নয়। আমি বারবার একসঙ্গে বিজয় দিবস উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছি। তাদের নেতৃত্বে অধ্যাপক হেমায়েত স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন—দুটি শর্ত পূরণ হলেই তারা অনুষ্ঠানে অংশ নেবেন, নচেৎ নয়। শেষ পর্যন্ত তারা আসেননি। পরে যেসব শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন, তাদের নিয়েই সুশৃঙ্খলভাবে বিজয় দিবস উদযাপন করা হয়েছে।”

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।