সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

চরবাংলায় কৃষি খাস জমি দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন

পটুয়াখালীর গলাচিপায় চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরবাংলা এলাকায় সরকারি কৃষি খাস জমি জোরপূর্বক দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকাল ১০টায় চরবাংলার পোটকারচর এলাকায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিলও করেন। মানববন্ধনে বক্তব্য দেন চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ফোরকান হাওলাদার, চরবাংলা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনোয়ার […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৫ নভেম্বর ২০২৫, ২০:৫২

পটুয়াখালীর গলাচিপায় চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চরবাংলা এলাকায় সরকারি কৃষি খাস জমি জোরপূর্বক দখলের প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। শনিবার (১৫ নভেম্বর) সকাল ১০টায় চরবাংলার পোটকারচর এলাকায় দুই শতাধিক নারী-পুরুষের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়। পরে স্থানীয়রা বিক্ষোভ মিছিলও করেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি ফোরকান হাওলাদার, চরবাংলা ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আনোয়ার হাওলাদার, স্থানীয় বাসিন্দা মনির হাওলাদার, মো. জাহাঙ্গীর হাওলাদার, মোক্তার হোসেন হাওলাদার, মো. আরিফ, আজিজুল শিকদার, মোসা. রেপতি বেগম ও পিয়ারা বেগম প্রমুখ।

বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, ভূমি অফিস থেকে প্রত্যায়ন পাওয়া ভূমিহীন কৃষকরা চাষাবাদে নামলে একটি ভূমিদস্যু চক্র জোরপূর্বক কৃষি খাস জমি দখলের চেষ্টা করছে। গত বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিএনপি নেতা আলী আশরাফ মোল্লার নির্দেশে ভূমিদস্যু গ্রুপ কৃষকদের তরমুজ ক্ষেতের ঘর ভেঙে হামলা চালায়।

বাধা দিতে গেলে কৃষকদের মারধর করা হয়। এতে একাধিক কৃষক গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। আহতদের বিরুদ্ধে আবার মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন কৃষক সমিতির সভাপতি সিরাজ খা।

তারা আরও বলেন, সিরাজ খা ভূয়া ‘বিত্তবান কৃষক সমবায় সমিতি’র সভাপতি পরিচয়ে খাস জমি ইজারা নিয়ে তার সহযোগী শাহাবুদ্দিন তালুকদার, জালাল তালুকদার, ফারুক মীরসহ কয়েকজনের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে জমি ভোগদখল ও চাঁদাবাজি করছে।

প্রকৃত ভূমিহীনদের নামে ডিসিআর না দিয়ে চরবাংলার বাইরের লোকজনের নামে টাকা নিয়ে ডিসিআর আনা হচ্ছে। দীর্ঘ ১৭ বছর রাজনৈতিক কারণে ভূমিহীনরা জমি ভোগদখল করতে পারেনি। এখন আনোয়ার হাওলাদারের নেতৃত্বে যখন প্রকৃত ভূমিহীনরা জমিতে ভোগদখল ও চাষাবাদ শুরু করতে চাইছে তখনই ভূমিদস্যু চক্র বাধা দিচ্ছে।

মানববন্ধন থেকে বক্তারা দ্রুত ভূমিদস্যুদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, প্রকৃত ভূমিহীন কৃষকদের মাঝে খাস জমি বণ্টনের নিশ্চয়তা এবং মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও হামলার ঘটনায় দায়ীদের শাস্তির দাবি জানান।

এ বিষয়ে চরবিশ্বাস ইউনিয়ন বিএনপির সহসভাপতি ফোরকান হাওলাদার বলেন, “চরবাংলার সংঘর্ষে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বাকের বিশ্বাস ও সাংগঠনিক সম্পাদককে উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে জড়ানো হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এটি ভূমিহীন জনগণ ও সমবায় সমিতির দ্বন্দ্ব। বিএনপি নেতাদের নামে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। আমরা তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।

অভিযোগের বিষয়ে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আশরাফ মোল্লা বলেন, আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ টাকা দিয়ে মানববন্ধন করাচ্ছে। চরবাংলার খাস জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিত্তহীন কৃষক সমবায় সমিতি ভোগদখলে আছে সরকারও তাদের ডিসিয়ার দিয়েছে।

কিন্তু ভূমিদস্যুরা কৃষকদের চাষাবাদে বাঁধা দিয়েছে। আমি রাজনীতি করি ভুক্তভোগীরা আমরা কাছে আসলে আমি শুধু তাদের আইনি সহায়তা নিতে পরামর্শ দিয়েছি। এর বাইরে কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। তিনি নিজের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন।

গলাচিপা থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মো. জিলোন শিকদার জানান, চরবাংলার ঘটনায় উভয় পক্ষই পৃথক এজাহার দিয়েছে। এতে প্রায় ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।

উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার (১৩ নবেম্বর) পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের চরবাংলায় খাস জমির দখলকে কেন্দ্র করে সম্প্রতি ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে ৬০ জন কৃষক ও দুই নারী আহত হন। আহতদের মধ্যে ২৫ জনকে উদ্ধার করে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়, বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেন।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।