গাজীপুরের শ্রীপুরে প্রতিবন্ধী ও সাধারণ গ্রাহকদের জমানো টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মাওনা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে মিয়ার উদ্দিনের বিরুদ্ধে। ইসলামিক মাল্টিপারপাস কো-অপারেটিভ সোসাইটি লিমিটেড নামে তার মালিকানাধীন এনজিও থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক গ্রাহকের কয়েক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
ভুক্তভোগীদের মধ্যে রয়েছেন আড়াই ফুট লম্বা শারীরিক প্রতিবন্ধী নছু মিয়া। ষাটোর্ধ্ব এই ব্যক্তি ভিক্ষাবৃত্তি করে সঞ্চিত দেড় লাখ টাকা ভবিষ্যতের জন্য ওই এনজিওতে জমা রাখেন। প্রতিশ্রুতি ছিল, প্রতি লাখে মাসে দুই হাজার টাকা লভ্যাংশ দেওয়া হবে।
প্রথম পাঁচ মাস কিছু টাকা দিলেও পরে অফিস বন্ধ করে দেন সংশ্লিষ্টরা। একপর্যায়ে বিএনপি নেতা সাইফুল বিদেশে পালিয়ে যান। দীর্ঘ ১২ বছর পর দেশে ফিরলেও এখন পর্যন্ত টাকা ফেরত দেননি তিনি।
নছু মিয়ার অভিযোগ, দেশে ফিরে সাইফুল বারবার আশ্বাস দিলেও এখনো টাকাগুলো ফেরত দেননি। অসুস্থ নছু মিয়া ও তার স্ত্রী চিকিৎসার অভাবে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একইভাবে ভুক্তভোগী গ্রাহক সয়েব আলী জানান, তার দুই লাখ টাকা জমা রেখেছিলেন
কিন্তু এনজিও বন্ধ হওয়ার পর সব হারান। স্ত্রী অসুস্থ হলেও চিকিৎসার খরচ জোগাড় করতে পারছেন না। অপর এক গ্রাহক মোনায়েম বলেন, শাকসবজি বিক্রির টাকা দিয়ে দেড় লাখ জমা রেখেছিলেন, কিন্তু প্রতিশ্রুত লভ্যাংশ তো দূরের কথা, মূল টাকাই ফেরত পাননি।
অভিযুক্ত সাইফুল ইসলাম দাবি করেছেন, সরকারের সিদ্ধান্তে ২০১৩ সালে মাল্টিপারপাস অফিসগুলো বন্ধ হওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তিনি জানান, মালিকানাধীন জমি বিক্রি করে পর্যায়ক্রমে গ্রাহকের টাকা পরিশোধ করবেন। তবে এখনো বাস্তবে কোনো অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল বারিক বলেন, এ ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগে এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।