মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি
মুন্সিগঞ্জের সদরের চরাঞ্চলের কালিরচর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীর পাড় ঘেঁষে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগে ফসলি জমি ও বসত ভিটা রক্ষায় গ্রামবাসীর ধাওয়া ঘটনা ঘটেছে। বিক্ষুব্ধ জনতার আগুনে দুইিটি লোড ড্রেজারে আগুন।
বুধবার (৩০ জুন) সকাল ১০ টার দিকে জেলা সদরের আধারা ইউনিয়নের কালিরচর গ্রাম সংলগ্ন মেঘনা নদীতে গ্রামবাসী তাদের ধাওয়া দেয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় বিক্ষোব্ধ জনতা দুইটি লোড ড্রেজার আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে কেউ আহত হয়নি।
একাধিক স্থানীয়রা জানিয়েছেন- জেলা প্রশাসনের দেওয়া মেঘনা নদীর ভাষানচর বালু মহালের ইজারাদারের লোকজন কযেকদিন ধরেই গ্রাম ঘেঁষে বালু উত্তোলন করছিলেন। এতে গ্রামের নদীতীরবর্তি ফসলি জমি ও বসতভিটে ভাঙ্গনের আশংকা দেখা দেয়।
এ পরিস্থিতিতে গ্রামবাসীর মধ্যে ভাঙ্গন আতংক বিরাজ করে। এতে আজ বুধবার সকালে গ্রামের লোকজন ঐক্যবদ্ধ হয়ে গ্রাম ঘেঁষে বালু উত্তোলনে বাঁধা দিতে মহালে ছুটে যান, এতে লোড ড্রেজার ছুটাছুটি করে পালায়। এক পর্যায়ে উত্তেজিত গ্রামবাসী দুইটি থেমে থাকা লোড ড্রেজারে আগুন ধরিয়ে দেয়।
কালিরচর গ্রামের বাসিন্দা খলিল মিজি (৬৫) জানান, বালুর মহাল ইজারা হয়েছে ভাসানচর মৌজায়। আর ওরা আমাদের কালিরচর মৌজায় বালু কাটছে। এখানে সর্বশেষ জরিপে নদী ঘেঁষা রেকর্ডীয় জমি রয়েছে। এখানে তিন ফসিল জমি রয়েছে। আর গ্রামবাসী জমি রক্ষায় প্রতিহত করছেন। যাতে বাপদাদার সম্পদ রক্ষা হয়।
ভাষানচর বালু মহালের ইজারাদার জিএস মনিরুজ্জামান মনির বলেন, আমরা বৈধ মহাল ইজারা নিয়েছি। আমাদের প্রশাসনের বুঝিয়ে দেয়া স্হানে বালু উত্তোলন করছি। গ্রামবাসী অভিযোগের বিষয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা নদীর দুই ফুট গভীরে উত্তোলন করলে, তারা অবৈধ বালু উত্তোলন অপবাদ দিচ্ছে।
সদরের চরআব্দুল্লাহ নৌ-ফাঁড়ির ইনচার্জ মাহবুব আলম বলেন, আমরা আজ সকালে ওই এলাকায় অভিযান করেছি। তাদের দুই লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। অনিয়ম হলে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।