বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের উপর কীটনাশকের ক্ষতিকর প্রভাব বিষয়ক সংবাদ সম্মেলন

নেত্রকোনা প্রতিনিধি : কীটনাশকের ব্যবহারে মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান মুলক সমীক্ষায় নেত্রকোনায় বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইনডিজেনাস নলেজ (বারসিক) এর আয়োজনে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিষয়ক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টায় মুক্তারপাড়া জেলা প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।   সংবাদ সম্মেলনে সমীক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেন বারসিক এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ওয়াহিদুর […]

নিউজ ডেস্ক

৩০ জুলাই ২০২৫, ২১:৪১

নেত্রকোনা প্রতিনিধি :

কীটনাশকের ব্যবহারে মাঠ পর্যায়ের অনুসন্ধান মুলক সমীক্ষায় নেত্রকোনায় বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইনডিজেনাস নলেজ (বারসিক) এর আয়োজনে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের উপর ক্ষতিকর প্রভাব বিষয়ক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১ টায় মুক্তারপাড়া জেলা প্রেসক্লাবের মিলনায়তনে এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।  

সংবাদ সম্মেলনে সমীক্ষার বিষয়টি তুলে ধরেন বারসিক এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী ওয়াহিদুর রহমান, অধিকমাত্রায় ও নিয়ম বর্হিভূতভাবে কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটি-পানি-বায়ু দূষণ ও মৌমাছি, ব্যাঙ, কেঁচো সহ মাটির অনুজীবের বিলুপ্ত হচ্ছে। পরিবেশগত বিপর্যয় তৈরী হচ্ছে।

পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের উপর ব্যাপক প্রভাব পড়ছে। বাংলাদেশে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইন্সটিটিউটের করা এক জরিপে ক্যান্সারে আক্রান্ত পুরুষ রোগীর মধ্যে ৬৪ ভাগ কৃষি কাজের সাথে জড়িত। প্রতি বছর কৃষকদের ক্যান্সারে আক্রান্তের সংখ্যা উর্ধ্বমুখী হতে দেখা যাচ্ছে।

কৃষকদের দেরিতে ক্যান্সার শনাক্ত হয়। আর তারা খালি পায়ে, খালি গায়ে, পিপিপি, মাস্ক, গ্লাভস ছাড়াই কীটনাশক জমিতে ব্যবহার করে। হাত লাগিয়ে মাটি ও পানির মধ্যে কাজ করে। জমিতে যে কীটনাশক তারা দেয় তা নিয়মিত কৃষকের সংস্পর্শে আসে। 

কৃষিশ্রমিকের খরচ কমাতে আগাছা নাশকের ব্যবহার বাংলাদেশে এখন অনেক বেশি হচ্ছে। যেমন ‘এলড্রিন, ডাইএলড্রিন, ‘ডিডিটি, ‘এনড্রিন, ইত্যাদি। বেসরকারী গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক’র উদ্যোগে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের উপর কীটনাশকের প্রভাব এ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ে অনুসন্ধ্যানমূলক সমীক্ষা করা হয়। গবেষণার জন্য নেত্রকোনা সদর ও আটপাড়া উপজেলার ৫ টি গ্রামের ২৩ জন কৃষকের সাথে সাক্ষাৎকার গ্রহণ করা হয় এবং বিশেষজ্ঞ পর্যায়ে মতামত গ্রহন করা হয়।

Endosulfan, heptachlor, Carbofuran, Aluminum phosphide, Glyphsate, pyrethroide, paraquat, Di-clofenac, DDT(Dichlorodiphenyltrichloroethane), Aldrin, Dieldrin, Endrin,Heptachlor, Chlordane, Methyl Parathion Ethyl Parathion, Monocrotophos Phosphamidon, Methyl, Bromide, Endosulfan, Hexachlorobenzene, Toxaphene, Mirex, Dicrotophos, Disulfoton, Mercury compounds.

এসব নিষিদ্ধ কীটনাশকের বিষয়ে তারা জানিয়েছেন, নিষিদ্ধ কীটনাশক এখন বিভিন্ন নামে বাজারজাত হচ্ছে। খুব সতর্ক ভাবে বেঁচাকেনা করে। কৃষকেরা কান্ডারী ৫ জি, গ্রীনফোম, ইউনিকোয়াট, রাজটক্স ব্যবহার করেন যা এগুলোর জেনেরিক নাম Carbofuran, Aluminum Phosphide, Paraquat কে নির্দেশ করছে। ভিরতাকো বুলেট, কান্ডারী ৫জি, গ্রিনফোম, ইরেজার, ইউনিকোয়াট, রাজটক্স, সোর্ড, বায়োগ্রীন, সুপার গোল্ড, নাইট্রো, সিলেক্ট গ্লাস, রাইস, রিফিট, বাসুডিন, কে-টু, রাজধান, কমরেড, নির্মূল, জায়ডিন নামের কীটনাশকগুলো বেশী ব্যবহার করে।

কৃষকেরা বলেছেন, মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, বমি, ডায়রিয়া, দুর্বলতা, বিভ্রান্তি, উচ্চরক্তচাপ, বিষন্নতা, উদ্বেগ, খাবারের অরুচি, শ্বাসকষ্ট, খিঁচুনি, অজ্ঞান হওয়া, স্নায়ু দুর্বলতা, ত্বকের রোগ, ঘুম কম হওয়া, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ এবং লিভারের রোগ, কিডনির সমস্যা, পুরুষের বন্ধ্যাত্ব ও নারীর বন্ধ্যাত্ব, প্যারালাইজড, ফুসফুসে ক্যান্সার, চোখের ছানি, পা ভারী হয়ে যায়, বুক ব্যাথা হার্টের সমস্যা। তবে এসব রোগ কীটনাশকের কারনেই যে হয়েছে তা গবেষণার প্রয়োজন আছে। ২৩ জন কৃষক গত এক বছরে চিকিৎসা বাবদ খরচ করেছেন: ১৭ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। তারা বলেছেন, নিজে শুধুই না পরিবারের অন্যরাও যেমন নারী, শিশুরা আক্রান্ত হয়।

সব কৃষকেরই কীটনাশক ক্রয়ের সময় কোন রশিদ নিতেন না। কীটনাশক ব্যবহারের সময় কোন পিপি, মাস্ক, গ্লাবস ব্যবহার করেন না। এ বিষয়ে সচেতনতার অভাব। সরকারীভাবে কোন প্রশিক্ষণ দেয়া হয়না। কীটনাশকের লেভেলে বিপদ ও সতর্কতামূলক কথা অনেকেই পড়েন না।

কীটনাশক মানব দেহ ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কীটনাশক ব্যবহারে বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি। কৃষি কাজে এর ব্যবহার অতিরিক্ত হওয়ায় দিন দিন আমরা এটিকে স্বাভাবিক ভাবেই দেখতে শুরু করেছি। কীটনাশকের নিয়ন্ত্রণহীন ব্যবহার জলাভূমির পানি নষ্ট হয়ে মাছের বংশবৃদিধ কমে যাচ্ছে। মাছ, ব্যাঙ, কেঁচো, শামুক, ঝিনুক, মাটির অনুজীব, পাখি, মৌমাছি কমে যাওয়ার কারণ হিসেবে কীটনাশকের অবাধ ব্যবহাকে কৃষকেরা দায়ী মনে করে।

যে সুপারিশ গুলো মাঠ ও বিশেষজ্ঞ পর্যায় থেকে ওঠে আসে তা হলো:

১। কৃষকদের সচেতনতার জন্য স্থানীয়ভাবে প্রশিক্ষণ ও আলোচনা অনুষ্ঠান করা দরকার। ২। নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার, বাজারজাতকরন, সংরক্ষণ, বিক্রি যাতে না করতে পারে তার জন্য মনিটরিং বাড়াতে হবে ৩। অনুমোদনহীন কীটনাশকের দোকান বন্ধ করা হবে ৪। অর্গানিক কৃষিচর্চা বাড়াতে সরকারী বেসরকারী সহযোগিতা বাড়াতে হবে ৫।

কীটনাশকের ক্ষতিকর ও নিষিদ্ধ কীটনাশক বিষয়ে কৃষকের কাছে তথ্য ঘাটতি আছে যা জানানো জরুরি ৬। কৃষককে কৃষিকর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ি কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে ৭। কীটনাশক ব্যবসায়ীদের নিয়ে প্রশিক্ষণ কর্মশালা করতে হবে ৮। আইনসঙ্গতভাবে অনুমোদিত সঠিক মাত্রার কীটনাশক ব্যবহার করা ৯। কীটনাশক ব্যবহারের সময় কৃষক কোন পিপি, মাস্ক, গ্লাবস ব্যবহার করেন না অবশ্যই ব্যবহর করতে হবে ১০।

মাঠ পর্যায়ে নিষিদ্ধ কীটনাশকের তালিকা ও অপকারীতা বিষয়ে বিলবোর্ড স্থাপন করতে হবে ১১। জেলায় কত কীটনাশক বিক্রি হয় তার কোন তথ্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কাছে হিসাব নেই ১২। ব্যক্তিগত সুরক্ষামূলক উপকরণ (পিপিপি), গ্লাভস, মাস্ক বিনামূল্যে কৃষক এবং কৃষি শ্রমিকদের মাঝে বিতরণ করা ১৩। নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার ও বিক্রয় তদারকী আরো জোরদার করা করতে হবে।

বারসিকের পক্ষথেকে নিষিদ্ধ কীটনাশক ব্যবহার, বাজারজাতকরন, সংরক্ষণ, বিক্রি যাতে না করতে পারে তার জন্য মনিটরিং বাড়ানো নিয়ন্ত্রণ, জৈবকীটনাশকের ব্যবহার বাড়ানো প্রাণ-প্রকৃতি-পরিবেশ- মাছ, ব্যাঙ, কেঁচো, শামুক, ঝিনুক, মাটির অনুজীব, পাখি, মৌমাছিসহ সকল প্রাণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবী জানাই। 

এ সময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রেসক্লাবে সাধারণ সম্পাদক ম কিবরিয়া চৌধুরী হেলিম, সাবেক সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা হায়দার জাহান চৌধুরী, বাসস এর নেত্রকোনা সাংবাদিক তানভীর হায়াত খান প্রমুখ।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।