সোমবার, ২৫ মে ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

মুন্সিগঞ্জে ২০ কোটি টাকায় নির্মাণের পরেও চালু হয়নি ২টি সেতু

আক্কাছ আলী মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি  সংযোগ সড়কের অভাবে মুন্সিগঞ্জে ২০ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত ২টি সেতু অচল পড়ে আছে। সদর উপজেলার চরাঞ্চলের পাঁচ ইউনিয়নের প্রবেশদ্বার মুন্সিরহাট ও হামিদপুরে খালের ওপর পুরানো দুইটি বেইলী সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০২৩ সালে নতুন আরসিসি সেতু নির্মানের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুন মাসের আগেই সেতুর নির্মান কাজ […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৮ জুন ২০২৫, ২০:৩০

আক্কাছ আলী মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি 

সংযোগ সড়কের অভাবে মুন্সিগঞ্জে ২০ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত ২টি সেতু অচল পড়ে আছে। সদর উপজেলার চরাঞ্চলের পাঁচ ইউনিয়নের প্রবেশদ্বার মুন্সিরহাট ও হামিদপুরে খালের ওপর পুরানো দুইটি বেইলী সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০২৩ সালে নতুন আরসিসি সেতু নির্মানের কাজ শুরু হয়।

প্রকল্পের মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুন মাসের আগেই সেতুর নির্মান কাজ শেষ করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। তবে পুরানো সেতুর পাশে নতুন সেতুর নির্মান কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় চালু হয়নি সেতু দুইটি। সংযোগ সড়কের জন্য সেতু নির্মানের পূর্বে ভূমি অধিগ্রহন না করায় এই জটিলতা।

সেতুতে উঠতে নামতে সংযোগ সড়কের স্থানে বাড়িঘর ও দোকানপাট। এসব ভূমি মালিকররা ন্যায্য মূল্যের দাবীতে ছাড়ছে না তাদের অধিকার। ফলে এখনো পুরানো জরাজীর্ণ বেইলী সেতু দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত করছে পাঁচ ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। 

সরকারী হরগঙ্গা কলেজের একাদশ শেণির ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার জানান, ’এই প্রথম দেখলাম সেতুতে ওঠার দুই পাশে রাস্তা না  

বানিয়ে সেতু বানিয়ে ফেলতে। ভাঙ্গা সেতু দিয়ে যাওয়া-আসা করতে আমাদের অনেক ভয় করে।সঠিক পরিকল্পনার অভাবে সরকারের এতা অর্থ ব্যয় করে সেতু দুইটি চালু করা যাচ্ছে না। এর জন্য কর্তৃপক্ষের যথেষ্ট গাফিলতি রয়েছে।’ 

ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা চালক ইউসুফ বেপারী আক্ষেপের সুরে বলেন,’এত টাকা খরচ করে ঘরবাড়ি দোকানপাটের উপর দিয়ে ব্রিজ বানিয়ে লাভ কি? রাস্তা বানাইলো না। আমরা যেতে পারিনা। এখন পর্যন্ত আমরা ভাঙ্গা ব্রিজ দিয়ে চলতাছি। 

মুন্সিরহাট বাজারে স্যানেটারী ব্যবসায়ী হাসান বাবুল জানান,’ আগের জরাজীর্ণ সেতু ভেঙে সেই স্থানে নতুন সেতু নির্মান করলে ভালো হতো। সরকারী খাস জমিতে সেতু নির্মান করলে এতদিনে সেতু দুইটি চালু হয়ে যেত। আর সরকারের ভূমি অধিগ্রহন ব্যয় বেচে যেত।

যদি নকশা জটিলতার কারণে পুরানো সেতুর পাশে নতুন সেতু নির্মাণের্ এতোই প্রয়োজন পড়তো তাহলে এতদিনে কেন ভুমি অধিগ্রহন পত্রিয়া শেষ হলো না? আমরা সরকারের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি যত দ্রুত সম্ভব এই পাঁচটা ইউনিয়নের গাড়ি যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সেতু দুইটি চালু করার ব্যবস্থা করা হোক।’

 ভূমি মালিকদের অভিযোগ তাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তিগুলো অধিগ্রহনের পক্রিয়া সেতু নির্মানের পূর্বে শুরু না করে প্রতারণা করেছেন কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবী সরকারী পক্রিয়া মেনে তাদের উচ্ছেদ করা হোক। 

স্থানীয় বাস্দিা ভূমি মালিক ইমন আহম্মেদ জানান,’ আমরা কি সরকারি জায়গায় থাকছি। আমরা জায়গা কিনে নিয়েছি। ব্রিজের পাশে সরকারি খাস জায়গা থাকা সত্ত্বেও ব্রিজ মালিকানা জায়গায় উপর দিয়ে কেন উঠালো এটা আমরা সাধারণ মানুষ এবং মালিকরা বুঝতেছিনা। কারণ সরকারি খাস জমির উপর দিয়ে যদি ব্রিজগুলো উঠাতো তাহলে সরকারের কোটি কোটি টাকা বেঁচে যেত। আর আমদেরও বাপ-দাদার ভিটা মাটি ছাড়তে হতো না।’ 

আরেক ভূমি মালিক নাজমুল কবির সুরুজ বলেন, ’সরকার যদি দ্রুত আমাদের মালিকদের টাকা পয়সা বুঝিয়ে দেয় তাহলে তো আমরা জায়গা ছেড়ে দেই।এখন মালিকরা টাকা না পেলে তো জায়গা ছাড়বে না।’

ভূমি মালিক কৃষক কাশেম আলী মোল্লা জানান, ’আমার দুই ভাই নিবন্ধন করে আসছে। আমি নিবন্ধন করি নাই। নিবন্ধন করি নাই কারণ আমি ন্যায্য মূল্য পাই নাই৷ আমার ৩টা ঘরের দাম ঠিক মেতা ধরে নাই।’ আমাগো নোটিশ দিচ্ছে মাত্র চার-পাঁচ দিন হয়। নোটিশে লেখা আছে মাত্র ৬ লক্ষ টাকা। আমাগো ঘরবাড়ি তুলতে খরচ হইছে চৌদ্দ লক্ষ টাকা। ৬ লক্ষ টাকা আমাদের ন্যায্য মূল্য হয় নাই। 

ভূমি মালিক কৃষক কাশেম আলীর স্ত্রী বলেন, ’ব্রিজ হওয়ার ফলে এলাকাবাসী সবার উপকারী হয়েছে কিন্তু আমাদের উপকার হয় নাই। রাস্তাটা কিন্তু পাশের ব্রিজ দিয়ে নিতে পারতো। আমাদের বাড়ির উপর দিয়ে নিয়া আমাদের সহায় সম্বল সব শেষ করে দিল। আমরা এখন পর্যন্ত ন্যায্য কোন মূল্য পাই নাই। ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে আমরা বাড়ি ঘর ভাঙতে পারতাছিনা৷ আমরা খুব ভোগান্তির মধ্যে আছি।’ 

এ প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজমুস হোসেন সানি জানিয়েছেন, আমাদের একটি প্রকল্প মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জের প্রায় ৪৮টি ব্রিজ নির্মাণ চলছে। তার মধ্যে দুইটি ব্রিজ হচ্ছে বাইদ্দা বাড়ি এক ও বাইদ্দা বাড়ি দুই সেতু। সেতু ২ টির মূল স্ট্রাকচার কমপ্লিট হয়েছে।

শুধুমাত্র দুই সাইডের এপ্রোচ অংশের কাজ বাকি রয়েছে। প্রকল্পটির ভূমি গ্রহণের জন্য আমরা ওয়েট করছি। যদিও অমরা ভুমি অধিগ্রহন পক্রিয়াটি শুরু করেছি ২০২২ সালে। প্রকল্পটির ভূমি গ্রহণের জন্য আমরা ওয়েট করছি। আট ধারায় নোটিশ জারি হয়ে গিয়েছে।

সামনে দখল হস্তান্তর কাজ শেষে আমরা মূল কাজ শুরু করতে পারব। প্রকল্পরে মেয়াদ জুন পর্যন্ত রয়েছে তবে সেতুর কাজ শেষ হলেও জমি বুঝে না পাওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ বর্ধনের জন্য যথাযথ পক্রিয়া অনুমোদনের জন্য অপক্ষেমান রয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্র জানায়, ’জরাজীর্ণ ও অপ্রশস্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিদ্যমান বেইলী সেতু আরসিসি সেতু প্রতিস্থাপন প্রকল্প’ (ঢাকা জোন) এর আওতায় প্রকল্পটির কার্যাদেশ হয় ২০২৩ সালের পহেলা জানুয়ারী। ২৮.২৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৮.২৫ মিটার প্রস্থের বাইদ্দাবাড়ি সেতু এক ও ৫০.১২ মিটার দৈর্ঘ্য ১০.২৫ মিটার প্রস্থ বাইদ্দা বাড়ির সেতু দুই এর নির্মান ব্যয় ধরা হয়েছিলো ১৯ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা। এখন পর্যন্ত প্রকল্পটির ৯৫% কাজ শেষ করতে ব্যয় হয়েছে ১৮ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা।

সারাদেশ

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে। শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে […]

‘দুই মাসের মধ্যে ঢাকা ছাড়তে হতে পারে বিপুলসংখ্যক মানুষকে’

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

০৩ এপ্রিল ২০২৬, ২২:০৪

বর্তমান বৈশ্বিক যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান (এমপি)। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, চলমান বৈশ্বিক সংঘাত যদি দ্রুত বন্ধ না হয়, তবে আগামী দুই মাসের মধ্যে ঢাকা শহরের বিপুলসংখ্যক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে স্থানান্তরে বাধ্য হতে পারে।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) ঢাকা থেকে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলায় একটি প্রোগ্রামে যাওয়ার পথে কুমিল্লার লাকসাম দক্ষিণ বাইপাস এলাকায় অবস্থিত ধামৈচা জামে মসজিদে জুমার নামাজের পূর্বে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

হুইপ আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেন, বিশ্বজুড়ে চলমান এ অস্থিরতা ও যুদ্ধ পরিস্থিতি কেবল আন্তর্জাতিক নয়, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার ওপরও চরম প্রভাব ফেলতে পারে।

তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, বিশ্বব্যাপী এই সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ের চেয়েও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। আমাদের এখনই সচেতন হতে হবে।

বক্তব্যে তিনি দেশের জনগণকে উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানসিকভাবে প্রস্তুত এবং আগাম সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে সবাইকে ধৈর্য ও সচেতনতার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করার পরামর্শ দেন হুইপ।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ। ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার […]

শাহজাদপুরে ২ সন্তানসহ গৃহবধূর বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

০৮ এপ্রিল ২০২৬, ২৩:৪৫

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর প্রতিনিধিঃ

স্বামীর উপরে অভিমান করে নিজে কীটনাশক পান করার পর ২ শিশু সন্তানকেও সেই কীটনাশক পান করিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে পাখি খাতুন (১৮) নামের এক গৃহবধূ।

ঘটনাটি ঘটেছে সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর পৌর শহরের পারকোলা উত্তরপাড়া গ্রামে। পাখি খাতুন ওই গ্রামের আলম প্রামাণিকের মেয়ে, শিশু সন্তানরা হলো মুস্তাকিম (৮) ও মাহিম (৪)। ঘটনার পরপর স্বজনেরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সেখানে তাদের অবস্থার অবনতি হলে দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়, বর্তমানে ২টি শিশু ও তাদের মা সেখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১০ বছর পূর্বে উল্লাপাড়া উপজেলার বালসাবাড়ি ইউনিয়নের মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা মানিক চাঁদের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী তাকে নির্যাতন করতো। এই বিষয়ে একাধিকবার শালিস বৈঠকের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা হয়। এর মধ্যেই তাদের ঘর আলো করে মুস্তাকিম ও মাহিম নামের দুই ছেলে সন্তান। পারিবারিক কলহের জের ধরেই স্বামীর সাথে ঝগড়ার পর আজ সকালে বাবার বাড়িতে অবস্থানকালে পাখি খাতুন প্রথমে নিজে কীটনাশক পান করে এবং পরে ২ ছেলেকে কীটনাশক পান করায়। পরে তারা যন্ত্রাণায় চিৎকার করলে স্বজনেরা দ্রুত তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার জানান, দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে ৪ বছর ও ৮ বছর বয়সী ২টি শিশু ও তাদের মা’কে আশঙ্কাজনক অবস্থায় জরুরি বিভাগে নিয়ে আসে। পরে ৮ বছর বয়সী মুস্তাকিমকে ওয়াশ করা হয়, কীটনাশক পানের সময় বেশি হ‌ওয়ায় দ্রুত সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

এই বিষয়ে শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ সাইফুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কীটনাশক পান করা ২টি শিশু ও তাদের মা’কে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।