বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

মুন্সিগঞ্জে ২০ কোটি টাকায় নির্মাণের পরেও চালু হয়নি ২টি সেতু

আক্কাছ আলী মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি  সংযোগ সড়কের অভাবে মুন্সিগঞ্জে ২০ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত ২টি সেতু অচল পড়ে আছে। সদর উপজেলার চরাঞ্চলের পাঁচ ইউনিয়নের প্রবেশদ্বার মুন্সিরহাট ও হামিদপুরে খালের ওপর পুরানো দুইটি বেইলী সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০২৩ সালে নতুন আরসিসি সেতু নির্মানের কাজ শুরু হয়। প্রকল্পের মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুন মাসের আগেই সেতুর নির্মান কাজ […]

প্রতিনিধি ডেস্ক

১৮ জুন ২০২৫, ২০:৩০

আক্কাছ আলী মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি 

সংযোগ সড়কের অভাবে মুন্সিগঞ্জে ২০ কোটি টাকা ব্যায়ে নির্মিত ২টি সেতু অচল পড়ে আছে। সদর উপজেলার চরাঞ্চলের পাঁচ ইউনিয়নের প্রবেশদ্বার মুন্সিরহাট ও হামিদপুরে খালের ওপর পুরানো দুইটি বেইলী সেতু ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় ২০২৩ সালে নতুন আরসিসি সেতু নির্মানের কাজ শুরু হয়।

প্রকল্পের মেয়াদ অনুযায়ী ২০২৫ সালের জুন মাসের আগেই সেতুর নির্মান কাজ শেষ করে সড়ক ও জনপদ বিভাগ। তবে পুরানো সেতুর পাশে নতুন সেতুর নির্মান কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক না থাকায় চালু হয়নি সেতু দুইটি। সংযোগ সড়কের জন্য সেতু নির্মানের পূর্বে ভূমি অধিগ্রহন না করায় এই জটিলতা।

সেতুতে উঠতে নামতে সংযোগ সড়কের স্থানে বাড়িঘর ও দোকানপাট। এসব ভূমি মালিকররা ন্যায্য মূল্যের দাবীতে ছাড়ছে না তাদের অধিকার। ফলে এখনো পুরানো জরাজীর্ণ বেইলী সেতু দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াত করছে পাঁচ ইউনিয়নের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ। 

সরকারী হরগঙ্গা কলেজের একাদশ শেণির ছাত্রী সুমাইয়া আক্তার জানান, ’এই প্রথম দেখলাম সেতুতে ওঠার দুই পাশে রাস্তা না  

বানিয়ে সেতু বানিয়ে ফেলতে। ভাঙ্গা সেতু দিয়ে যাওয়া-আসা করতে আমাদের অনেক ভয় করে।সঠিক পরিকল্পনার অভাবে সরকারের এতা অর্থ ব্যয় করে সেতু দুইটি চালু করা যাচ্ছে না। এর জন্য কর্তৃপক্ষের যথেষ্ট গাফিলতি রয়েছে।’ 

ব্যাটারি চালিত অটো রিক্সা চালক ইউসুফ বেপারী আক্ষেপের সুরে বলেন,’এত টাকা খরচ করে ঘরবাড়ি দোকানপাটের উপর দিয়ে ব্রিজ বানিয়ে লাভ কি? রাস্তা বানাইলো না। আমরা যেতে পারিনা। এখন পর্যন্ত আমরা ভাঙ্গা ব্রিজ দিয়ে চলতাছি। 

মুন্সিরহাট বাজারে স্যানেটারী ব্যবসায়ী হাসান বাবুল জানান,’ আগের জরাজীর্ণ সেতু ভেঙে সেই স্থানে নতুন সেতু নির্মান করলে ভালো হতো। সরকারী খাস জমিতে সেতু নির্মান করলে এতদিনে সেতু দুইটি চালু হয়ে যেত। আর সরকারের ভূমি অধিগ্রহন ব্যয় বেচে যেত।

যদি নকশা জটিলতার কারণে পুরানো সেতুর পাশে নতুন সেতু নির্মাণের্ এতোই প্রয়োজন পড়তো তাহলে এতদিনে কেন ভুমি অধিগ্রহন পত্রিয়া শেষ হলো না? আমরা সরকারের কাছে বিনীতভাবে অনুরোধ করছি যত দ্রুত সম্ভব এই পাঁচটা ইউনিয়নের গাড়ি যাতায়াতের গুরুত্বপূর্ণ সেতু দুইটি চালু করার ব্যবস্থা করা হোক।’

 ভূমি মালিকদের অভিযোগ তাদের ক্রয়কৃত সম্পত্তিগুলো অধিগ্রহনের পক্রিয়া সেতু নির্মানের পূর্বে শুরু না করে প্রতারণা করেছেন কর্তৃপক্ষ। তাদের দাবী সরকারী পক্রিয়া মেনে তাদের উচ্ছেদ করা হোক। 

স্থানীয় বাস্দিা ভূমি মালিক ইমন আহম্মেদ জানান,’ আমরা কি সরকারি জায়গায় থাকছি। আমরা জায়গা কিনে নিয়েছি। ব্রিজের পাশে সরকারি খাস জায়গা থাকা সত্ত্বেও ব্রিজ মালিকানা জায়গায় উপর দিয়ে কেন উঠালো এটা আমরা সাধারণ মানুষ এবং মালিকরা বুঝতেছিনা। কারণ সরকারি খাস জমির উপর দিয়ে যদি ব্রিজগুলো উঠাতো তাহলে সরকারের কোটি কোটি টাকা বেঁচে যেত। আর আমদেরও বাপ-দাদার ভিটা মাটি ছাড়তে হতো না।’ 

আরেক ভূমি মালিক নাজমুল কবির সুরুজ বলেন, ’সরকার যদি দ্রুত আমাদের মালিকদের টাকা পয়সা বুঝিয়ে দেয় তাহলে তো আমরা জায়গা ছেড়ে দেই।এখন মালিকরা টাকা না পেলে তো জায়গা ছাড়বে না।’

ভূমি মালিক কৃষক কাশেম আলী মোল্লা জানান, ’আমার দুই ভাই নিবন্ধন করে আসছে। আমি নিবন্ধন করি নাই। নিবন্ধন করি নাই কারণ আমি ন্যায্য মূল্য পাই নাই৷ আমার ৩টা ঘরের দাম ঠিক মেতা ধরে নাই।’ আমাগো নোটিশ দিচ্ছে মাত্র চার-পাঁচ দিন হয়। নোটিশে লেখা আছে মাত্র ৬ লক্ষ টাকা। আমাগো ঘরবাড়ি তুলতে খরচ হইছে চৌদ্দ লক্ষ টাকা। ৬ লক্ষ টাকা আমাদের ন্যায্য মূল্য হয় নাই। 

ভূমি মালিক কৃষক কাশেম আলীর স্ত্রী বলেন, ’ব্রিজ হওয়ার ফলে এলাকাবাসী সবার উপকারী হয়েছে কিন্তু আমাদের উপকার হয় নাই। রাস্তাটা কিন্তু পাশের ব্রিজ দিয়ে নিতে পারতো। আমাদের বাড়ির উপর দিয়ে নিয়া আমাদের সহায় সম্বল সব শেষ করে দিল। আমরা এখন পর্যন্ত ন্যায্য কোন মূল্য পাই নাই। ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার কারণে আমরা বাড়ি ঘর ভাঙতে পারতাছিনা৷ আমরা খুব ভোগান্তির মধ্যে আছি।’ 

এ প্রসঙ্গে সড়ক ও জনপদ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী নাজমুস হোসেন সানি জানিয়েছেন, আমাদের একটি প্রকল্প মাধ্যমে মুন্সিগঞ্জের প্রায় ৪৮টি ব্রিজ নির্মাণ চলছে। তার মধ্যে দুইটি ব্রিজ হচ্ছে বাইদ্দা বাড়ি এক ও বাইদ্দা বাড়ি দুই সেতু। সেতু ২ টির মূল স্ট্রাকচার কমপ্লিট হয়েছে।

শুধুমাত্র দুই সাইডের এপ্রোচ অংশের কাজ বাকি রয়েছে। প্রকল্পটির ভূমি গ্রহণের জন্য আমরা ওয়েট করছি। যদিও অমরা ভুমি অধিগ্রহন পক্রিয়াটি শুরু করেছি ২০২২ সালে। প্রকল্পটির ভূমি গ্রহণের জন্য আমরা ওয়েট করছি। আট ধারায় নোটিশ জারি হয়ে গিয়েছে।

সামনে দখল হস্তান্তর কাজ শেষে আমরা মূল কাজ শুরু করতে পারব। প্রকল্পরে মেয়াদ জুন পর্যন্ত রয়েছে তবে সেতুর কাজ শেষ হলেও জমি বুঝে না পাওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধির জন্য আবেদন করা হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ বর্ধনের জন্য যথাযথ পক্রিয়া অনুমোদনের জন্য অপক্ষেমান রয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী অফিস সূত্র জানায়, ’জরাজীর্ণ ও অপ্রশস্ত গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে বিদ্যমান বেইলী সেতু আরসিসি সেতু প্রতিস্থাপন প্রকল্প’ (ঢাকা জোন) এর আওতায় প্রকল্পটির কার্যাদেশ হয় ২০২৩ সালের পহেলা জানুয়ারী। ২৮.২৫ মিটার দৈর্ঘ্য ও ৮.২৫ মিটার প্রস্থের বাইদ্দাবাড়ি সেতু এক ও ৫০.১২ মিটার দৈর্ঘ্য ১০.২৫ মিটার প্রস্থ বাইদ্দা বাড়ির সেতু দুই এর নির্মান ব্যয় ধরা হয়েছিলো ১৯ কোটি ৭২ লক্ষ টাকা। এখন পর্যন্ত প্রকল্পটির ৯৫% কাজ শেষ করতে ব্যয় হয়েছে ১৮ কোটি ৭৪ লক্ষ টাকা।

সারাদেশ

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে। হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া […]

আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’, পরিচয় দেন রাজুর স্ত্রী হিসেবে

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

১১ অক্টোবর ২০২৬, ০৮:৪৮

কুমিল্লায় ধর্ষণ ও হত্যার শিকার স্কুলছাত্রী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) মৃত্যুর আগে কক্সবাজারে অবস্থানের নতুন তথ্য সামনে এসেছে। সেখানকার একটি আবাসিক হোটেলের রেজিস্টারে তার নাম লেখা হয়েছিল ‘তানজু আক্তার’। বয়স দেখানো হয় ১৮ বছর। আর সঙ্গে থাকা রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজুকে পরিচয় দেওয়া হয় তার স্বামী হিসেবে।

হোটেলের রেজিস্টার, সিসিটিভি ফুটেজ এবং রিয়াজের পরিচিত ব্যক্তিদের দেওয়া তথ্য থেকে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান ও বাড়ি ফেরার আগের ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে এসব তথ্য জানা গেছে।

হোটেলের রেজিস্টার অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে কক্সবাজারের কলাতলীতে কুটুমবাড়ি-সংলগ্ন সড়কের শেষ মাথায় অবস্থিত একটি তিনতলা আবাসিক হোটেলের ৩০২ নম্বর কক্ষে ওঠে তাজমিন ও রিয়াজ। সেখানে তাজমিনের নাম ‘তানজু আক্তার’ এবং বয়স ১৮ বছর উল্লেখ করা হয়। রিয়াজের ঠিকানা হিসেবে বান্দরবানের লামা এলাকার তথ্য দেওয়া হয়। তার বাবার নাম লেখা হয় মনির আহমদ।

হোটেলের এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এক রাত অবস্থানের পর ৭ অক্টোবর বেলা ১১টার দিকে তারা হোটেল ছেড়ে চলে যান। রেজিস্টারে রিয়াজের দুটি মুঠোফোন নম্বর ও একটি জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বরও পাওয়া গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর হোটেল ছাড়ার পর রিয়াজ তাজমিনকে কুমিল্লাগামী একটি বাসে তুলে দেন। এরপর বাড়ি ফেরার পথে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠে তাজমিন। অভিযোগ অনুযায়ী, অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া তাকে ধর্ষণের পর হত্যা করেন।

পরদিন ৮ অক্টোবর সকালে কুমিল্লার লালমাই উপজেলার ভোরালজগপুর উত্তরপাড়া গ্রামের একটি ধানক্ষেতের আইল থেকে তাজমিনের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় করা হত্যা মামলায় সিএনজিচালক সুমন মিয়াকে (৩৫) চট্টগ্রাম থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাজমিনের ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করা হয়।

রিয়াজের এক সহকর্মীর দাবি, ঘটনার প্রায় ১৭ দিন আগে ফেসবুকের মাধ্যমে তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের পরিচয় হয়। ধীরে ধীরে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। পরে তাজমিন কক্সবাজারে গেলে তারা একসঙ্গে সময় কাটান।

তবে রিয়াজের ঘনিষ্ঠ অন্য একটি সূত্রের দাবি, প্রায় পাঁচ মাস আগে তাদের পরিচয় হয়েছিল এবং এরপর থেকে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

তাজমিনের বাড়ি ছাড়ার বিষয়ে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর এক বান্ধবীকে হাতঘড়ি দেওয়া নিয়ে মায়ের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। এরপর সে বাড়ি থেকে বের হয়ে প্রথমে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এক বান্ধবীর কাছে যায়।

সেখান থেকে মুঠোফোনে রিয়াজের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে কক্সবাজারে আসতে বলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। যাতায়াতের খরচ হিসেবে রিয়াজ বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা পাঠিয়েছিলেন বলেও জানা গেছে।

সহকর্মী জানান, কক্সবাজার থেকে ফেরার জন্য ‘আইকনিক এক্সপ্রেস’ পরিবহনের একটি বাসের টিকিট কিনে তাজমিনকে তুলে দেন রিয়াজ। টিকিটের মূল্য ছিল ৯০০ টাকা।

ওই সহকর্মীর ভাষ্য অনুযায়ী, কুমিল্লায় পৌঁছে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠার পরও তাজমিনের সঙ্গে রিয়াজের মুঠোফোনে যোগাযোগ হচ্ছিল। এমনকি অটোরিকশাচালক সম্পর্কে কিছু তথ্যও রিয়াজকে জানিয়েছিল তাজমিন।

তবে রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাজমিনের মুঠোফোনের লাইভ লোকেশন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর তার সঙ্গে আর যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি বলে দাবি করেন ওই সহকর্মী।

পরদিন টেলিভিশনের সংবাদে তাজমিনের হত্যার খবর জানতে পেরে রিয়াজ হতবাক হয়ে পড়েন বলেও জানান তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রিয়াজের এক সহকর্মী আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের খবর প্রকাশের পর রিয়াজ তার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ সময় তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে সহযোগিতা চান। তাজমিনের হত্যার সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও দাবি করেন তিনি।

ওই সহকর্মীর তথ্য অনুযায়ী, রিয়াজ প্রায় তিন বছর ধরে কক্সবাজারের একটি আবাসিক হোটেলে কাজ করছেন। ঘটনার পর তিনি কর্মস্থল থেকে ছুটিতে রয়েছেন।

এদিকে রিয়াজের মুঠোফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য সরাসরি জানা সম্ভব হয়নি।

লালমাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তাজমিন হত্যার ঘটনায় মুঠোফোনের কললিস্টসহ বিভিন্ন তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

তিনি বলেন, গ্রেপ্তার আসামি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তদন্ত শেষ হলে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ও পরিষ্কার হবে।

তবে তাজমিনের কক্সবাজারে অবস্থান, হোটেলের রেজিস্টারে ভিন্ন নাম ও বয়স ব্যবহার এবং রিয়াজের সঙ্গে তার যোগাযোগের বিষয়গুলো তদন্তে কীভাবে বিবেচিত হচ্ছে, তা এখনো বিস্তারিত জানা যায়নি।

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও […]

শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধা, চাঁদা দাবির অভিযোগ

ছবি সংগৃহীত

প্রতিনিধি ডেস্ক

২৯ জুলাই ২০২৬, ২২:০৮

মাসুম হোসেন অন্তু, শাহজাদপুর সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাঁধার ঘটনা ঘটেছে। পড়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবার।

ঘটনাটি ঘটেছে শাহজাদপুর পৌর শহরের বাড়াবিল শিমুলপাড়া মহল্লার প্রবাসী মোঃ তারেক রহমানের বাড়িতে। তারেক রহমান ওই গ্রামের মোঃ দেরাজ প্রামানিকের ছেলে। অভিযুক্তরা তাদের প্রতিবেশী আনসার প্রামাণিক ও তার তিন ছেলে রোশনাই, আল মাহমুদ ও আলম।

আজ বুধবার দুপুরে সরেজমিনে ভুক্তভোগী প্রবাসী তারেক রহমানের বাড়িতে গেলে তারা অভিযোগ করে বলেন। বাড়ির কাজ করার জন্য ইট ও রড নিয়ে আসার সময় অভিযুক্তরা বাঁধা দেয়। এসময় তারা আমাদের জায়গা দিয়ে বাড়ির পেছনে অবস্থিত জলাশয়ে যাওয়ার রাস্তা দাবি করেন।

পরে এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে বাড়ীর পূর্ব পাশের দেয়াল ভেঙে তাদের রাস্তা দেওয়া হয়। আজ তাদের বাড়ির সামনে দিয়ে শ্রমিকরা আসার সময় তারা বাধা দেয় ও গালাগালি করলে শ্রমিকরা ফিরে যায়। পরে আমরা বিষয়টি জানতে গেলে আমাদের সাথেও দুর্ব্যবহার করে এবং অসুস্থ দেরাজ প্রামানিককে ধাক্কা দেয়।

এসময় তারা আরো বলেন, আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলেরা এখন বাড়ির মাঝ দিয়ে রাস্তা চায়। নাহলে তারা আমাদের বাঁড়ি করতে দিবে না। এছাড়া লোক মারফত আমাদের কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেছে, টাকা দিলে আর বাধা দিবে না।

এই ঘটনায় আনসার প্রামাণিক ও তার ছেলে আল মাহমুদ ও রোশনাই বলেন, আমাদের জায়গা দিয়ে রাস্তা হয়েছে তাদের বাড়ি দিয়েও রাস্তা দেয়ার কথা ছিল এবং সেই মোতাবেক খুঁটি লাগানো ছিল। এখন বাড়ির মাঝখান দিয়ে রাস্তা না দিলে আমরা যেতে দেবো না।