সাব্বির হোসেন, লালমনিরহাট
বুধবার (২১ মে) মধ্যরাতে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার রহমতপুর গাটিয়ার ভিটা সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ২০ জনকে বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে দেয় (পুশইন)। আটককৃতদের মধ্যে ১১ জন নারী, ৭ শিশু ও ২ পুরুষ রয়েছেন। তাদের স্থানীয় বিজিবি ক্যাম্পে আটক রাখার পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে ।
স্থানীয়দের দাবি, এই ঘটনায় শুধু ২০ জন নয়, মধ্যরাতে দুই দফায় অন্তত ৫০ জনকে পুশইন করা হয়েছে। প্রথম দফায় ১১ জন আটক হওয়ার পর দ্বিতীয় দফায় আরও ৯ জনকে আটক করা হয়। বাকিরা গ্রেফতারের ভয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন । এছাড়া, আটককৃত নারীদের বরাত দিয়ে জানানো হয়, তারা ভারতীয় জেলে ২০-২৫ দিন আটক থাকার পর বিএসএফ ও পুলিশ তাদের সীমান্তে এনে ঠেলে দেয় ।
বিজিবির ধবলসুতি ক্যাম্প কমান্ডার নায়েক সুবেদার আব্দুল মতিন ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানান, বিএসএফ কর্তৃক পুশইন করা ব্যক্তিদের আটক করে আইনি প্রক্রিয়া চলছে । পাটগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, “আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তদন্ত চলছে। সম্ভাব্য আরও আটকপ্রাপ্তদের খোঁজা হচ্ছে”।
এটি বিএসএফের প্রথম পুশইন নয়। গত কয়েক বছরে সীমান্তে বাংলাদেশিদের জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া, গুলি ও নির্যাতনের ঘটনা অব্যাহত রয়েছে। ২০২৪ সালের প্রথম দশ মাসেই বিএসএফের হাতে ১৭ বাংলাদেশি নিহত হন।
স্থানীয়রা জানান, পুশইন হওয়া ব্যক্তিরা সীমান্ত অতিক্রম করে পাটগ্রামের দিকে হেঁটে যাওয়ার সময় নতুন বাজার এলাকায় স্থানীয়দের সন্দেহের শিকার হন। কয়েকজন পালাতে সক্ষম হলেও বাকিদের বিজিবি আটক করে।
বিজিবি ও পুলিশ যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত করছে। সীমান্তে নজরদারি বৃদ্ধি এবং ভারতের সাথে আলোচনার মাধ্যমে ঘটনা রোধের দাবি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠনগুলি ।