রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

দুই মাসে দুবার দখল শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ

দুই মাসের ব্যবধানে দুবার দখল হলো রাজধানীর শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দুই মাস আগে আওয়ামী চিকিৎসক পেশাজীবী সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটি দখলচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। তখন স্বাচিপ সভাপতি অর্ধশত বহিরাগত নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন এবং নিজেকে ট্রাস্টের সেক্রেটারি দাবি করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুতের পর ডক্টরস […]

নিউজ ডেস্ক

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:০৭

দুই মাসের ব্যবধানে দুবার দখল হলো রাজধানীর শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দুই মাস আগে আওয়ামী চিকিৎসক পেশাজীবী সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটি দখলচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। তখন স্বাচিপ সভাপতি অর্ধশত বহিরাগত নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন এবং নিজেকে ট্রাস্টের সেক্রেটারি দাবি করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুতের পর ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটি ফের দখলের অভিযোগ ওঠে।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন-২০২২ অমান্য করে এক আদেশে ড্যাব সমর্থিত ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাসকে কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়। ওই আদেশের পর তিনি মেডিকেল কলেজটি নিজের কবজায় নেন। তার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ডা. জাহাঙ্গীর আলমেরও যোগসাজশ রয়েছে। প্রতিকার চেয়ে শহীদ মনসুর আলী ট্রাস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে। এ ছাড়া আইন অমান্য করে ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাসকে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মনোনীত করায় উচ্চ আদালতে একটি রিট মামলা করা হয়েছে। এই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত একটি রুলও জারি করেন।
প্রতিকার চেয়ে শহীদ মনসুর আলী ট্রাস্টের পক্ষ থেকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর পাঠানো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানের কাছে পাঠানো অভিযোগপত্রে বলা হয়, ১৫ বছর ধরে শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটটি স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবায় অবস্থান করছে। চলতি বছরের গত ৫ আগস্টের পর থেকেই ড্যাব সমর্থিত চিকিৎসক ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটিতে কিছু শিক্ষক ও বহিরাগতকে নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করেন। তার প্রকৃত উদ্দেশ্য মেডিকেল কলেজটিকে বেআইনিভাবে দখল করা। এর আগে ২০০২ সালে বিএনপি
নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়েও ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস প্রতিষ্ঠানটির দখল নেন। ওই সময় তিনি সাত বছর মেডিকেল কলেজটি নিজের দখলে রাখেন এবং ব্যাপক অর্থ লুটপাট করেন। ২০০৯ সালে মেডিকেল কলেজটি ২০ কোটির বেশি টাকা ঋণে জর্জরিত হয়। তখন ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস পদত্যাগ করে চলে যান। মূল উদ্যোক্তা শহীদ মনসুর আলী ট্রাস্ট এরপর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের দায়িত্ব নিয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিষ্ঠা, সততা এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে কলেজটির একাডেমিক শিক্ষা ব্যবস্থা, লাইব্রেরি, হাসপাতালের সেবা সার্ভিস এবং অর্থনৈতিক অবস্থাকে উৎকর্ষের শিখরে নিয়ে যায়। এ সময় ২০ কোটির বেশি টাকার ঋণও পরিশোধ করে শহীদ মনসুর আলী ট্রাস্ট। কলেজ ও হাসপাতালের কলেবর বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান সঞ্চয় ২৬ কোটি টাকার বেশি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ও কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ ডা. জাহাঙ্গীর আলম কলেজ এবং হাসপাতালটিকে দখলে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করেন। অথচ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং একদফা দাবিতে সরকার পতনের আন্দোলনের সময় এই অধ্যক্ষ পালিয়ে যান। এ সময় কলেজের শিক্ষার্থী-শিক্ষক, চিকিৎসকরা ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে অধ্যক্ষের অপসারণও দাবি করেন। তখন নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়। পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়। এর পর থেকেই কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জাহাঙ্গীর আলম ট্রাস্টি বোর্ডকে অচল করে দিয়ে ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাসকে নিয়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি দখলে মরিয়ো হয়ে ওঠেন।
চিঠিতে বলা হয়, গত ১২ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলম এবং ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ভুল বুঝিয়ে একটি গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান লাইলা আরঝুমানের মনোনয়ন বাতিল এবং বাকি সময়ের জন্য ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাসকে গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে আদেশ জারি করান। অথচ ২০২৩ সালের এপ্রিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এবং ডেন্টাল কলেজ আইন-২০২২ অনুসরণ করে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান লাইলা আরঝুমানকে গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান করে তিন বছর মেয়াদি একটি গভর্নিং বোর্ড গঠন করে দেন। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন ২০২২-এর ১৮/২ ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এবং ৫০ শতাংশ গভর্নিং বোর্ডের সদস্য উদ্যোক্তা থেকে নির্বাচিত হবেন। এই আইনের ধারাকে অমান্য করে দখলদার চক্র থেকে প্রভাবিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদেশ জারি করে। ঢাবির আদেশ নিয়ে ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস এবং অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলমরা গত ১৪ সেপ্টেম্বর তিন শতাধিক বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে কলেজটি দখল করেন। এমনকি ট্রাস্টি বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলোকে অন্যায়ভাবে জব্দ করেন। দখলের পর থেকে তারা কলেজ ও হাসপাতালের ২৬ কোটি টাকার সঞ্চিত অর্থ কীভাবে ভাগ-বাটোয়ারা এবং অধ্যক্ষ ডা. জাহাঙ্গীরের পুরস্কার হিসেবে অর্থের বাইরে তার মেয়াদকাল বাড়ানোর দর কষাকষি করছেন। যদিও আগামী ১৩ নভেম্বর এ ডা. জাহাঙ্গীরের অবসরে যাওয়ার কথা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করে প্রতিষ্ঠানটি অন্যায়ভাবে দখল করেছে এই চক্র। এতে প্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক শিক্ষার্থী-শিক্ষক, চিকিৎসক এবং কর্মচারী এখন অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। এ বিষয়ে শহীদ মনসুর আলী ট্রাস্ট আইনের আশ্রয় নিয়েছে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিকার চেয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস বলেন, মেডিকেল কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত। তারা একটি আদেশে আমাকে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মনোনীত করেছে। এরপর আমি প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়েছি। এখানে অন্যায়ভাবে দখলের তো কিছু করিনি।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন-২০২২-এর ১৮/২ ধারায় বলা আছে, উদ্যোক্তা থেকে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মনোনীত করতে হবে। তাহলে আপনি কীভাবে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তারা এই আইনের বাইরেও নিজেদের একটি স্বতন্ত্র আইনে পরিচালিত হয়। সেখানে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মনোনয়নে উদ্যোক্তা হতে হবে, এমন কোনো শর্ত নেই। তার চেয়ে বড় কথা, আমি বেআইনিভাবে কিছু করিনি।
ডা. মোসাদ্দেক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে মনোনীত করেছে, সেই চিঠি নিয়েই আমি কলেজে গিয়েছি। একটি অডিট ফার্মকে নিরীক্ষার দায়িত্ব দিয়েছি।
এর আগেও প্রতিষ্ঠানটি দায়িত্ব নিয়ে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, গত ১৫ বছর তো ট্রাস্টের প্রত্যেকে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাধর ছিলেন। আমি অর্থ আত্মসাৎ করে থাকলে গত ১৫ বছরে কেন আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেন না।
এ বিষয়ে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমানের ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার ফোন করে এবং খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

সারাদেশ

৮ কেজি গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের নেতা গ্রেফতার

দুমকি প্রতিনিধি: পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়। র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের […]

নিউজ ডেস্ক

০৬ জুন ২০২৬, ১৪:২২

দুমকি প্রতিনিধি:

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় র‍্যাব-৮ এর অভিযানে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজাসহ ইসলামী যুব আন্দোলনের এক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মাদক চক্রের আরও এক সদস্যকে আটক করা হয়।

র‍্যাব ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‍্যাব-৮, সিপিসি-১ পটুয়াখালী ক্যাম্পের একটি দল জানতে পারে যে সাকুরা পরিবহনের একটি দূরপাল্লার বাসে করে বিপুল পরিমাণ গাঁজা বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে পটুয়াখালীর দিকে আনা হচ্ছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওয়ারেন্ট অফিসার ডিএডি ওয়াজ উদ্দীনের নেতৃত্বে র‍্যাব সদস্যরা দুমকি থানাধীন লেবুখালী পাগলার মোড় টোলপ্লাজা এলাকায় অবস্থান নেন।

পরে সন্দেহভাজন বাসটি টোলপ্লাজায় পৌঁছালে র‍্যাব সদস্যরা সেটি থামিয়ে তল্লাশি চালান। এ সময় বাসের এক যাত্রী, দুমকি উপজেলা শাখা ইসলামী যুব আন্দোলনের প্রচার সম্পাদক মো. সুমন হাওলাদার (৩৩)-কে আটক করা হয়। তল্লাশিকালে তার কাছ থেকে ৮ কেজি ৪০০ গ্রাম গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত সুমন হাওলাদার দুমকি উপজেলার মুরাদিয়া ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মৃত শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।

র‍্যাব জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন তার এক সহযোগীর তথ্য দেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে লেবুখালী ইউনিয়নের কার্তিকপাশা মোড় এলাকা থেকে মাদক চক্রের আরেক সদস্য মো. জামাল মৃধা (৩৪)-কে গ্রেফতার করা হয়। জামাল ওই এলাকার আনোয়ার মৃধার ছেলে।

অভিযান শেষে জব্দকৃত মাদকদ্রব্যসহ গ্রেফতার দুই আসামিকে দুমকি থানায় হস্তান্তর করা হয়। এ ঘটনায় র‍্যাবের পক্ষ থেকে একটি এজাহার দায়ের করা হয়েছে।

দুমকি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সেলিম উদ্দিন জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নং-০২ (জিআর নং-৩৮, তারিখ: ০৫ জুন ২০২৬)। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গ্রেফতারকৃতদের আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

সারাদেশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি। রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, […]

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

শিশু রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে যা সেবন করেন ঘাতক সোহেল, চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ

নিউজ ডেস্ক

২৪ মে ২০২৬, ১১:২১

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা ধর্ষণের পর গলা কেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় ঘাতক সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দিচ্ছে পুলিশ। একইসঙ্গে রামিসাকে ধর্ষণ-হত্যার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে জানিয়েছেন আসামি।

রোববার (২৪ মে) সকালে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক অহিদুজ্জামান এ তথ্য নিছিত করেন। তিনি বলেন, শনিবার ডিএনএ টেস্ট রিপোর্ট পেয়েছি। কিছু কাজ বাকি আছে, কাজ চলছে। আজই আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেব।

পুলিশ জানায়, অভিযুক্তকে ২০ মে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদ জবানবন্দি রেকর্ড করেন এবং পরে অভিযুক্তকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

তদন্ত কর্মকর্তারা জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি শিশু রামিসাকে কৌশলে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে অপরাধ সংঘটিত করেন। ঘটনার পর তিনি প্রমাণ নষ্ট করার চেষ্টা করেন এবং পরে পালিয়ে যান।

মামলার এজাহারে বলা হয়, পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী রামিসাকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করে সোহেল। পরে তিনি শিশুটির গলা কেটে মরদেহ কয়েক টুকরো করেন। শিশুটির চিৎকার শুনে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা যখন দ্রুত সেখানে যায়।

কিন্তু এর আগেই, সোহেল রামিসার মরদেহ বিছানার নিচে লুকিয়ে রাখে। পরে টয়লেটের ভেতরে একটি বালতি থেকে মাথা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় বুধবার ভুক্তভোগীর বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করেন।

পরে এ মামলায় গত বুধবার ২০ মে গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন। ঘটনার আগে ইয়াবা সেবন করেছিলেন বলে জবানবন্দিতে উল্লেখ করেন এই ঘাতক।

জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯ টার দিকে রামিসা ঘর থেকে বের হলে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার তাকে রুমের ভেতরে নিয়ে যায়। এরপর বাথরুমে নিয়ে ছোট্ট রামিসাকে ধর্ষণ করে সোহেল। এতে জ্ঞান হারায় শিশুটি। এর মধ্যে তার মা দরজায় কড়া নাড়তে থাকেন। এসময় সোহেল তাকে গলা কেটে হত্যা করে। মরদেহ গুম করার জন্য তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে। দুই হাত কাঁধ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করে মরদেহ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখে। এছাড়া ছুরি দিয়ে যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করে। ঘটনার সময় তার স্ত্রী একই রুমে ছিলেন। পরে জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায় সে। মাদক সেবন করে বিকৃত যৌনকর্মে লিপ্ত হওয়া এই আসামি আদালতকে জানান, ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে পূর্ব কোন শত্রুতা ছিল না।

সারাদেশ

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয় এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার […]

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

ধর্ষণের পর হত্যা করা হয় শিশু লামিসাকে, মরদেহ লুকাতেই মাথা বিচ্ছিন্ন

নিউজ ডেস্ক

২০ মে ২০২৬, ১০:১০

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবী এলাকায় সাত বছর বয়সী শিশু লামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। মরদেহ গুম করতে ঘাড় থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয় এবং শরীরের অন্য অংশও টুকরো করার চেষ্টা চালানো হয়

এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডে পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা (৩০) ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে (২৬) মাত্র ৭ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (১৯ মে) রাতে পল্লবী থানায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) এস এন নজরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।

পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে স্কুলে নিয়ে যাওয়ার জন্য লামিসাকে খুঁজতে থাকেন তার মা। এক পর্যায়ে বাসার দরজার সামনে শিশুটির একটি জুতা পড়ে থাকতে দেখেন তিনি। সন্দেহ থেকে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ধাক্কা দিতে থাকেন, কিন্তু দরজা ভেতর থেকে আটকানো ছিল। মায়ের চিৎকারে এলাকাবাসী এসে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে শিশু লামিসার মরদেহ দেখতে পায়। এ সময় মূল আসামি সোহেল রানা জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে গেলেও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়।

এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘সম্ভবত বাথরুমে শিশুটির সঙ্গে মূল আসামির অবৈধ ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। আলামত সংগ্রহ করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) পাঠানো হয়েছে। শিশুটির সঙ্গে আসামির কোনো যৌন ক্রিয়া হয়েছে কি না তা পরবর্তীতে বিস্তারিত জানা যাবে।’

মরদেহ টুকরো করার পরিকল্পনা প্রসঙ্গে তিনি জানান, ‘পরবর্তীতে মরদেহ লুকানোর জন্যই সম্ভবত মাথা বিচ্ছিন্ন করা হয়। হাত কেটে টুকরো করার চেষ্টাও করা হয়। কিন্তু শিশুটির মা দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করলে মূল আসামি জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। পুরো পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারেননি তিনি।’

প্রাথমিক তদন্তের বরাত দিয়ে এস এন নজরুল ইসলাম বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে আমাদের ধারণা, ধর্ষণের কারণে শিশুটির রক্তপাত শুরু হলে তাকে হত্যা করে মরদেহ গুম করার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্ত ব্যক্তি।’

গ্রেপ্তার সোহেল রানার চরিত্র সম্পর্কে পুলিশ জানায়, তার বিরুদ্ধে নাটোরে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা রয়েছে। তার স্ত্রীর বক্তব্য উদ্ধৃত করে ডিএমপির এই কর্মকর্তা বলেন, ‘তিনি সম্ভবত বিকৃত যৌনরুচিসম্পন্ন একটা লোক। তিনি তার স্ত্রীকেও বিভিন্নভাবে টর্চার করেছেন।’

ঘটনার পর প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের প্তুল্লা থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মিরপুর ১১ নম্বরের মিল্লাত ক্যাম্প সংলগ্ন বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। খবর পেয়ে পল্লবী থানা পুলিশ, সিআইডি ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেন।