শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পরীক্ষামূলক সংস্করণ

সারাদেশ

দুই মাসে দুবার দখল শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ

দুই মাসের ব্যবধানে দুবার দখল হলো রাজধানীর শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দুই মাস আগে আওয়ামী চিকিৎসক পেশাজীবী সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটি দখলচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। তখন স্বাচিপ সভাপতি অর্ধশত বহিরাগত নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন এবং নিজেকে ট্রাস্টের সেক্রেটারি দাবি করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুতের পর ডক্টরস […]

নিউজ ডেস্ক

২১ সেপ্টেম্বর ২০২৪, ১২:০৭

দুই মাসের ব্যবধানে দুবার দখল হলো রাজধানীর শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। দুই মাস আগে আওয়ামী চিকিৎসক পেশাজীবী সংগঠন স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরীর বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটি দখলচেষ্টার অভিযোগ ওঠে। তখন স্বাচিপ সভাপতি অর্ধশত বহিরাগত নিয়ে সেখানে প্রবেশ করেন এবং নিজেকে ট্রাস্টের সেক্রেটারি দাবি করেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতাচ্যুতের পর ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠানটি ফের দখলের অভিযোগ ওঠে।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন-২০২২ অমান্য করে এক আদেশে ড্যাব সমর্থিত ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাসকে কলেজের গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মনোনীত করা হয়। ওই আদেশের পর তিনি মেডিকেল কলেজটি নিজের কবজায় নেন। তার সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ ডা. জাহাঙ্গীর আলমেরও যোগসাজশ রয়েছে। প্রতিকার চেয়ে শহীদ মনসুর আলী ট্রাস্ট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছে। এ ছাড়া আইন অমান্য করে ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাসকে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মনোনীত করায় উচ্চ আদালতে একটি রিট মামলা করা হয়েছে। এই রিটের পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত একটি রুলও জারি করেন।
প্রতিকার চেয়ে শহীদ মনসুর আলী ট্রাস্টের পক্ষ থেকে গত ১৭ সেপ্টেম্বর পাঠানো অন্তর্বর্তীকালীন সরকার প্রধানের কাছে পাঠানো অভিযোগপত্রে বলা হয়, ১৫ বছর ধরে শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটটি স্বাস্থ্য শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যসেবায় অবস্থান করছে। চলতি বছরের গত ৫ আগস্টের পর থেকেই ড্যাব সমর্থিত চিকিৎসক ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটিতে কিছু শিক্ষক ও বহিরাগতকে নিয়ে বিশৃঙ্খল পরিবেশ সৃষ্টি করেন। তার প্রকৃত উদ্দেশ্য মেডিকেল কলেজটিকে বেআইনিভাবে দখল করা। এর আগে ২০০২ সালে বিএনপি
নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট সরকারের সময়েও ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস প্রতিষ্ঠানটির দখল নেন। ওই সময় তিনি সাত বছর মেডিকেল কলেজটি নিজের দখলে রাখেন এবং ব্যাপক অর্থ লুটপাট করেন। ২০০৯ সালে মেডিকেল কলেজটি ২০ কোটির বেশি টাকা ঋণে জর্জরিত হয়। তখন ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস পদত্যাগ করে চলে যান। মূল উদ্যোক্তা শহীদ মনসুর আলী ট্রাস্ট এরপর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের দায়িত্ব নিয়ে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিষ্ঠা, সততা এবং অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে কলেজটির একাডেমিক শিক্ষা ব্যবস্থা, লাইব্রেরি, হাসপাতালের সেবা সার্ভিস এবং অর্থনৈতিক অবস্থাকে উৎকর্ষের শিখরে নিয়ে যায়। এ সময় ২০ কোটির বেশি টাকার ঋণও পরিশোধ করে শহীদ মনসুর আলী ট্রাস্ট। কলেজ ও হাসপাতালের কলেবর বৃদ্ধির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান সঞ্চয় ২৬ কোটি টাকার বেশি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ৫ আগস্টের পর থেকে ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ও কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ ডা. জাহাঙ্গীর আলম কলেজ এবং হাসপাতালটিকে দখলে নেওয়ার ষড়যন্ত্র করেন। অথচ বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং একদফা দাবিতে সরকার পতনের আন্দোলনের সময় এই অধ্যক্ষ পালিয়ে যান। এ সময় কলেজের শিক্ষার্থী-শিক্ষক, চিকিৎসকরা ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যানের কাছে অধ্যক্ষের অপসারণও দাবি করেন। তখন নতুন অধ্যক্ষ নিয়োগের প্রক্রিয়াও শুরু হয়। পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিও প্রকাশিত হয়। এর পর থেকেই কলেজের অধ্যক্ষ ডা. জাহাঙ্গীর আলম ট্রাস্টি বোর্ডকে অচল করে দিয়ে ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাসকে নিয়ে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি দখলে মরিয়ো হয়ে ওঠেন।
চিঠিতে বলা হয়, গত ১২ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলম এবং ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে ভুল বুঝিয়ে একটি গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান লাইলা আরঝুমানের মনোনয়ন বাতিল এবং বাকি সময়ের জন্য ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাসকে গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে আদেশ জারি করান। অথচ ২০২৩ সালের এপ্রিলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বেসরকারি মেডিকেল কলেজ এবং ডেন্টাল কলেজ আইন-২০২২ অনুসরণ করে ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান লাইলা আরঝুমানকে গভর্নিং বোর্ডের চেয়ারম্যান করে তিন বছর মেয়াদি একটি গভর্নিং বোর্ড গঠন করে দেন। বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন ২০২২-এর ১৮/২ ধারায় স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান এবং ৫০ শতাংশ গভর্নিং বোর্ডের সদস্য উদ্যোক্তা থেকে নির্বাচিত হবেন। এই আইনের ধারাকে অমান্য করে দখলদার চক্র থেকে প্রভাবিত হয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আদেশ জারি করে। ঢাবির আদেশ নিয়ে ডা. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস এবং অধ্যাপক ডা. জাহাঙ্গীর আলমরা গত ১৪ সেপ্টেম্বর তিন শতাধিক বহিরাগত সন্ত্রাসী নিয়ে কলেজটি দখল করেন। এমনকি ট্রাস্টি বোর্ডের গুরুত্বপূর্ণ নথিগুলোকে অন্যায়ভাবে জব্দ করেন। দখলের পর থেকে তারা কলেজ ও হাসপাতালের ২৬ কোটি টাকার সঞ্চিত অর্থ কীভাবে ভাগ-বাটোয়ারা এবং অধ্যক্ষ ডা. জাহাঙ্গীরের পুরস্কার হিসেবে অর্থের বাইরে তার মেয়াদকাল বাড়ানোর দর কষাকষি করছেন। যদিও আগামী ১৩ নভেম্বর এ ডা. জাহাঙ্গীরের অবসরে যাওয়ার কথা।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে প্রভাবিত করে প্রতিষ্ঠানটি অন্যায়ভাবে দখল করেছে এই চক্র। এতে প্রতিষ্ঠানের আট শতাধিক শিক্ষার্থী-শিক্ষক, চিকিৎসক এবং কর্মচারী এখন অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। এ বিষয়ে শহীদ মনসুর আলী ট্রাস্ট আইনের আশ্রয় নিয়েছে। একই সঙ্গে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিকার চেয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে ডা. মো. মোসাদ্দেক হোসেন বিশ্বাস বলেন, মেডিকেল কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত। তারা একটি আদেশে আমাকে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মনোনীত করেছে। এরপর আমি প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়েছি। এখানে অন্যায়ভাবে দখলের তো কিছু করিনি।
বেসরকারি মেডিকেল কলেজ ও ডেন্টাল কলেজ আইন-২০২২-এর ১৮/২ ধারায় বলা আছে, উদ্যোক্তা থেকে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মনোনীত করতে হবে। তাহলে আপনি কীভাবে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান হলেন—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান। তারা এই আইনের বাইরেও নিজেদের একটি স্বতন্ত্র আইনে পরিচালিত হয়। সেখানে গভর্নিং বডির চেয়ারম্যান মনোনয়নে উদ্যোক্তা হতে হবে, এমন কোনো শর্ত নেই। তার চেয়ে বড় কথা, আমি বেআইনিভাবে কিছু করিনি।
ডা. মোসাদ্দেক বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত শহীদ মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আমাকে মনোনীত করেছে, সেই চিঠি নিয়েই আমি কলেজে গিয়েছি। একটি অডিট ফার্মকে নিরীক্ষার দায়িত্ব দিয়েছি।
এর আগেও প্রতিষ্ঠানটি দায়িত্ব নিয়ে অর্থ লুটপাটের অভিযোগ বিষয়ে তিনি বলেন, গত ১৫ বছর তো ট্রাস্টের প্রত্যেকে আওয়ামী লীগের ক্ষমতাধর ছিলেন। আমি অর্থ আত্মসাৎ করে থাকলে গত ১৫ বছরে কেন আমার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলেন না।
এ বিষয়ে জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলেজ পরিদর্শক মোস্তাফিজুর রহমানের ব্যক্তিগত নম্বরে একাধিকবার ফোন করে এবং খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।

সারাদেশ

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের […]

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

বিএনপির মিছিলে ছাত্রলীগের হামলা, আহত ১০

ডেস্ক রিপোর্ট

২৮ জুন ২০২৬, ১০:৩০

পটুয়াখালীর বাউফলে বিএনপির একটি মোটরসাইকেল মিছিলে হামলা চালিয়েছে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ। এতে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের ১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। শনিবার (২৭ জুন) রাত পৌনে ৯টার দিকে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এই হামলার ঘটনা ঘটে।

আহতরা হলেন- মধ্য দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন (৪৫), যুবদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ (৩৫), শ্রমিক দলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কাওসার (৪২) এবং ছাত্রদলের সহসভাপতি রাসেল (৩০)। তাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। বাকিদের স্থানীয়ভাবে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মজিবর মৃধা জানান, নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের অপতৎপরতার বিরুদ্ধে সন্ধ্যায় পৌর শহরের বাংলাবাজার এলাকা থেকে দাশপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে ৪০-৫০টি মোটরসাইকেল নিয়ে নেতাকর্মীরা মিছিল বের করেন। মিছিলটি নাজিরপুর ইউনিয়নের ডালিমা ও কালাইয়া বন্দর বেইলী ব্রিজ হয়ে দাশপাড়া বাসস্ট্যান্ডের কাছে পৌঁছালে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

উপজেলা যুবদলের সাবেক সদস্য সচিব সাইফুল ইসলাম খোকন অভিযোগ করে বলেন, রিয়াজ, হেলাল রাড়ী, সালাম, রাব্বি, রাসেল ও হেলালের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে মোটরসাইকেলের বহরে এই হামলা চালায়। হামলাকারীরা কালাইয়া ও দাশপাড়া ইউনিয়নের নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মী এবং সমর্থক। হামলায় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের ১০ নেতাকর্মী আহত হয় এবং ২০-২৫টি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। ঘটনা জানার পর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক তসলিম তালুকদার আহত নেতাকর্মীদের দেখতে বাউফল স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান।

বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সিরাজুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

সারাদেশ

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা […]

আমি সরকারি চাকরি করি,তোমরা আমার চাকরিটা খাইয়ো না, আমি মারা যাব,তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না

ছবি সংগৃহীত

নিউজ ডেস্ক

২৫ জুলাই ২০২৬, ২১:২০

কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক মোহাম্মদ মহসিনের বদলিকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

শনিবার (২৫ জুলাই) কলেজ ক্যাম্পাসে আয়োজিত মানববন্ধনে আবেগঘন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় শিক্ষার্থীদের সামনে কান্নায় ভেঙে পড়েন শিক্ষক মহসিন। উপস্থিত শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, আমি সরকারি চাকরি করি, তোমরা আমার চাকরিডা খাইয়ো না। তোমরা আমার কোনো ক্ষতি কইরো না। একপর্যায়ে তিনি শিক্ষার্থীদের পা ধরে শান্ত থাকার অনুরোধ জানান।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, মানববন্ধনের সময় শিক্ষার্থীরা বদলির আদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় মোহাম্মদ মহসিন আন্দোলন থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, এটা আমার বদলির অংশ। আমি এ বিষয়ে কোনো বক্তব্য দেবো না। এরপর তিনি আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।

এক শিক্ষার্থী বলেন, আমরা আমাদের শিক্ষকদের কোনো ক্ষতি হতে দেব না। স্যার সরকারি চাকরিজীবী। চাকরি নিয়ে শঙ্কা থেকেই তিনি আমাদের সামনে কান্না করেছেন। সামান্য বৃষ্টির পানিকে ইস্যু করে একসঙ্গে সাতজন শিক্ষককে বদলি করার কোনো যৌক্তিকতা নেই।

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, এই মানববন্ধনকে কেন্দ্র করে যদি শিক্ষকদের ওপর কোনো ধরনের চাপ সৃষ্টি করা হয়, তাহলে আন্দোলন শুধু মহিলা কলেজে সীমাবদ্ধ থাকবে না, প্রয়োজন হলে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, সম্প্রতি বৃষ্টির পানি কলেজ ক্যাম্পাসে প্রবেশের ঘটনাকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষসহ সাতজন শিক্ষককে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। এরপর থেকেই শিক্ষার্থীরা ওই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানিয়ে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করছেন এবং বদলির আদেশ পুনর্বিবেচনার দাবি জানিয়ে আসছেন।

সারাদেশ

কাফরুলের চালককে মাথায় ইটের আঘাত করা ভাইরাল সেই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

এলাকায় মোটরসাইকেলচালকের মাথায় ইটের আঘাত করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী মো. ফয়সাল ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে র‌্যাব-৪ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সালের সঙ্গে ভুক্তভোগী মোটরসাইকেলচালক রাফির ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। […]

কাফরুলের চালককে মাথায় ইটের আঘাত করা ভাইরাল সেই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

কাফরুলের চালককে মাথায় ইটের আঘাত করা ভাইরাল সেই ছিনতাইকারী গ্রেপ্তার

নিউজ ডেস্ক

১২ জুন ২০২৬, ১০:২৮

এলাকায় মোটরসাইকেলচালকের মাথায় ইটের আঘাত করে মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী মো. ফয়সাল ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব-৪।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) সন্ধ্যায় কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রাতে র‌্যাব-৪ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার হওয়া ফয়সালের সঙ্গে ভুক্তভোগী মোটরসাইকেলচালক রাফির ব্যবসা সংক্রান্ত বিরোধ দীর্ঘদিনের। কয়েকদিন আগেও এ নিয়ে তাদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়েছিল।

ঘটনার দিন রাফি একা মোটরসাইকেল চালিয়ে যাওয়ার সময় পথে কালু, পারভেজ ও তাদের কয়েকজন সহযোগী আড্ডা দিচ্ছিল। রাফিকে একা দেখে তারা তাকে থামানোর চেষ্টা করে। প্রথমে কালু তাকে আটকাতে ব্যর্থ হলে সামনে অবস্থান নেওয়া পারভেজ একটি বড় ইটের টুকরো দিয়ে রাফির মাথায় আঘাত করে। এতে তিনি মোটরসাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে গুরুতর আহত হন।

পরে অভিযুক্তরা আহত রাফিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে তার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর র‌্যাব-৪-এর আভিযানিক দল জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের অবস্থান শনাক্ত করে বৃহস্পতিবার কাফরুল থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফয়সাল ওরফে কালুকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।